দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত এহসান: মুখ খুলছে অন্য চেয়ারম্যানরাও

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিন আহমেদকে বরখাস্তের পরপরই তীব্র সমালোচনার শুরু হয় বন্দর ইউনিয়ন জুড়ে। এখন এ সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলাতে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে এলাকাটির শীর্ষ মহলেও এখন সমালোচনার বিষয় এই ৩৩ লাখ টাকার দুর্নীতি।

গত দু’দিন আড়ালে আবডালে এ সমালোচনা চললেও এখন অনেকেই প্রকাশ্য এ দূর্নীতির প্রতিবাদ শুরু করেছেন। এবার ওই প্রতিবাদী ব্যক্তিদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বন্দরের ৩ চেয়ারম্যান।

‘যখন জনপ্র‌তি‌নিধি হয় দুনী‌তিগ্রস্ত, হারাতে হয় সম্মা‌নের পদ’ এমন আমানতের খেয়ান‌তকারীর বিষয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ রশিদ বলেন, ‘প্রথমত আমানত যে খেয়ানত করে, সে শয়তানের তুল্য। দ্বিতীয়ত তারা কখনই জনপ্রতিনিধি হতে পারে না। কারণ, জনগণের প্রতিনিধি হতে হলে, তাকে সৎ হতে হবে। অভিজ্ঞতার জন্য সময়ের প্রয়োজন, কিন্তু সৎ হতে কখনই সময়ের প্রয়োজন হয় না। সে জনগণের সমর্থন নিয়ে চোরের সর্দার হয়েছে।’

কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, ‘আমানতের খেয়ানত করা মানে, নিজেকে নিজে ধ্বংস করে দেওয়া। আর রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে যায়। তাহলে তার পৃথিবীতে বাঁচার অধিকার নেই। তবে, দেখতে হবে, আমানতের খেয়ানত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে হয়েছে নাকি আশপাশের লোকের মাধ্যমে হয়েছে।’

মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম জানান, ‘অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকে এহসান চেয়ারম্যানের বহিষ্কারের বিষয়টি দেখেছি। কিন্তু বিশ্বাস যোগ্য কোন সূত্রে সত্যতা পাইনি। তবে, আমানত খেয়ান‌তের বিষয়টি ধর্মেও নেই; তাই একজন মুসলমানের সন্তান হিসেবে আমাদেরও খেয়ান‌তকারীকে সমর্থন করা উচিৎ না।’

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে জন্মনিবন্ধন সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স খাতের ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয় বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিন আহমেদকে। একই অভিযোগে এর আগে বরখাস্ত করা হয় বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ইউসুফকেও।

0