দূর্বল হয়ে পড়ছেন আইভী

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এক সময় ঘনিষ্ঠজনরা বলতেন, মার্কা কোন ফ্যাক্টর না, ফ্যাক্ট হলো আইভী। তারাই এখন যেকোন মুল্যে নৌকা পাওয়ার কথা বলছেন। বলছেন, আবারও নৌকা পাবে আইভী। গোয়েন্দা রিপোর্ট, জনমত জরিপ, জনপ্রিয়তা সবকিছুতে এগিয়ে আইভী। তার কোন বিকল্প নেই। বিকল্প নেই বলেই তার হাতে তুলে দেয়া হবে নৌকা!

অপরদিকে খোদ মেয়র আইভী ভাষ্য, ‘দল আমার কাছে কোন ফ্যাক্টর না, আমি সব দলের, সবার’। তবে, রাজনৈতিক বোদ্ধামহরের মতে ‘নির্বাচন যতো এগিয়ে আসছে, ততই দূর্বল হয়ে পড়ছেন আইভী’। সব সময় সব দলের শ্লোগান থেকে সরে এসে এখন বলছেন তিনি(আইভী) বঙ্গবন্ধুর কর্মী, শেখ হাসিনার কর্মী। ১৮ বছর ধরে নানা ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকা সেলিনা হায়াৎ আইভী এবারই সবচে বেশী আতংকগ্রস্থ। কেননা এবার আওয়ামী লীগ থেকে অন্য কেউ প্রার্থীতা ঘোষনা করেনি। সবাই তাকিয়ে দলীয় প্রধাণ শেখ হাসিনার দিকে। মাঠে যারা রয়েছেন তারাও কেউ বলছেন না ‘আমিই ক্যান্ডিডেট’। তবে সবাই বলছেন একটাই কথা- ‘নেত্রী যাকে নৌকা দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবো’। তবে ১৮ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিষফোড়া কেটে বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ সবার দাবি ‘পরিবর্তন চাই’। আর একারণেই আইভীর ভয়। বিগত সময়ে প্রতিদ্ধ›িদ্ব ও একটি পরিবারের বিরুদ্ধে বলে আসছেন তিনি। প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফায়দা লুটেছেন। এবার সেই পরিবারও চুপ। কবরস্থানে শ্মশানের মাটি দেয়া থেকে শুরু করে চিঠি চালাচালি বক্তৃতা-বিবৃতি, ধমক, অপপ্রচার যতোই করছেন কিন্তু কোন প্রতিউত্তর আসছেনা। একারণেই আরও ভয় তাঁর।

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানায়, যে কোনও নির্বাচনে একবার বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ওই নেতাকে আর কখনই নৌকা প্রতীক দেওয়া হবে না। আজীবনের জন্য দলীয় পদ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হবে তাকে। এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর এই ক্যাটাগরিতে সবার সবার আগে পড়বেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি ২০১১ সালে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। ২য় কথা হলো, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী চাচ্ছেন ত্যাগীদের সুযোগ দিতে। যারা একটানা ক্ষমতায় থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন তাদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের মনোনয়ন দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। যার উদাহরণ বেশ কয়েকটি নির্বাচনে পাওয়া গেছে। মন্ত্রী পরিষদ থেকে শুরু করে চট্রগ্রাম সিটি নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংসদ ও উপজেলা ইউপি নির্বাচনেও সেই উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩য় কথা হলো, যতই চাপাবাজি করা হউক, নেত্রী (শেখ হাসিনা) ভালো করেই জানেন নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি। তাই কখন কি করতে হবে, তা তিনি ভালো করেই জানেন। কে প্রকৃত আওয়ামী লীগ? কে খন্দকার মোশতাক? কে ঘষেটি বেগম? সবকিছু নেত্রী খবর রাখেন। আর তাই তৃনমূল নেতা-কর্মীরা এবার যতোটা নিশ্চিন্ত ততটাই চিন্তার ছাপ মেয়র আইভী শিবিরে। তাদের মাথায় এখন একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে, ‘এখন আর ২০১১ সালের পরিস্থিতি নেই। নেই আলী আহসান মুজাহিদ, সক্রিয় নেই খালেদা জিয়া, নেই আকরাম, মান্নারা। ডানে বামে ঘুরে বেড়ানো বাম, বিএনপি-জামায়াতের সেই আগের অবস্থান নেই নারায়ণগঞ্জে’। সুতরাং এবার একমাত্র নৌকাই লক্ষ্য। নৌকাই আনতে পারে জয়, নৌকা ছাড়া হবে ক্ষয়। থাকবেনা জামানত। জামানত রক্ষায় নৌকার জন্য মরিয়া আইভী। এমনটাই দাবি নেতাকর্মীসহ নগরবাসীর।

0