দেশের সর্বোচ্চ ২২% কর দিয়েও কী সেবা পাচ্ছে নগরবাসী

দেশের সবচেয়ে বেশী হারে কর দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দারা। এ তালিকায় পিছিয়ে আছে ঢাকার দুটি সিটিসহ চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রকাশিত হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়ালে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এ তথ্য প্রকাশের পর স্বাভাবিক ভাবেই নগরবাসীর প্রশ্ন, ‘অন্য সিটি করপোরেশনের চাইতে কি কি বেশি সেবা পাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের নগরবাসীরা?
হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়ালে বলা হয়, সিটি করপোরেশনের মডেল কর তফসিল, ২০১৬ এ বর্ণিত আইনানুগ সর্বোচ্চ কর হার হচ্ছে জমি ও ইমারতের উপর ৭ শতাংশ, লাইটিং রেইট ৫ শতাংশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নালা পরিস্কার ৭ শতাংশ এবং পানি সরবরাহ বাবদ ৩ শতাংশসহ মোট ২২ শতাংশ কর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সরকার নির্ধারিত জমি ও ইমারতের উপর সর্বোচ ৭ শতাংশ, মূল সড়ক ছাড়া অন্যান্য সড়কে আলোর ব্যবস্থা না করতে পারলেও লাইটিং রেইট ৫ শতাংশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হলেও ৭ শতাংশ এবং পানির রেইট ৩ শতাংশ হারে মিলিয়ে সর্বোচ ২২ শতাংশ হারেই কর নিচ্ছেন।

যেখানে গাজীপুর সিটি করপোরেশন জমি ও ইমারতের উপর ৭ শতাংশ নিলেও লাইটিংয়ে ৫ শতাংশের স্থানে ২ শতাংশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ১ শতাংশ, পানির রেইট ৩ শতাংশের স্থানে পনি সরবরাহের পরেও কর নেন না। অর্থাৎ মাত্র ১০ শতাংশ কর নিচ্ছেন। কিছু এলাকায় আবার ৭ শতাংশ হারেও কর নেওয়া হচ্ছে।

একই ভাবে কমিল্লা সিটি করপোরেশন জমি ও ইমারতের উপর সরকার নির্ধারিত ৭ শতাংশ নিলেও লাইটিংয়ে ৫ শতাংশের স্থানে ২ শতাংশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৭ শতাংশ ও পানির রেইটে ১ শতাংশ হারে মোট ১৭ শতাংশ কর নিচ্ছেন।

আর রংপুর সিটি করপোরেশন জমি ও ইমারতের উপর সরকার নির্ধারিত ৭ শতাংশ নিচ্ছে। তবে লাইটিংয়ে ৫ শতাংশের স্থানে ৩ শতাংশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৭ শতাংশ ও পানির রেইটে ৩ শতাংশ মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ হারে কর নিচ্ছে।

এদিকে, সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ পৌরকর আদায় করে থাকে। এর মধ্যে ২৫টি ওয়ার্ড থেকে ১৭ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ১৬টি ওয়ার্ড থেকে আদায় করা হয় ১৪ শতাংশ। ১৭ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স, ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৭ শতাংশ আবর্জনা অপসারণ বা পরিচ্ছন্ন রেইট রয়েছে। আবার ১৪ শতাংশ আদায় করা ওয়ার্ডগুলো থেকে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স, ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৪ শতাংশ আবর্জনা অপসারণ বা পরিচ্ছন্ন রেইট আদায় করা হয়।

আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন আদায় করে ১২ শতাংশ পৌরকর। এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ৭ শতাংশ, আলোকায়ন রেইট ৩ শতাংশ এবং বর্জ্য অপসারণ রেইট ২ শতাংশ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনও ১২ শতাংশ পৌরকর আদায় করে। এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স ৭ শতাংশ, আলোকায়ন রেইট ২ শতাংশ, বর্জ্য অপসারণ রেইট ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যকর রয়েছে ১ শতাংশ।

এতো এতো বেশি কর দিয়েও কেন নারায়ণগঞ্জের নাগরিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তরাও এমন প্রশ্ন তুলেছেন।

 

পূর্বের নিউজ পড়তে ক্লিক করুন

এত টাকা ব্যয়, তবু দুর্ভোগের অন্ত নেই নগরবাসীর

গাজীপুরের ১ বছরের উন্নয়ন ধরতে না.গঞ্জ সিটির লাগবে ৩০ বছর

না.গঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে কি কি সেবা পাচ্ছে নগরবাসী?