দেশের ২ কোটি মানুষের গা‌র্মেন্টস চালু রাখতে হবে: সেলিম ওসমান

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গার্মেন্টসের যে পণ্য উৎপাদন হতে ২১ দিন সময় লাগতো, এখন সেই পণ্য উৎপাদনে লাগছে দেড় থেকে দু’মাস। সূতার দাম ছিল ২.৭০ ডলার, এখন হয়েছে ৪.৫ ডলার। কালকে কি হবে, যানা নেই? অনেক ফ্যাক্টরীর মালিকের হাতে ‘ফেব্রুয়ারি’ মাসের শ্রমিকের বেতন এখনও আসেনি। সামনে ৪ মাস পর ঈদ, লাখবে বোনাসসহ ৫ মাসের বেতন। জাহাজের পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। তাঁর উপর বেড়েছে ব্যাংক ঋণের চাপ।

করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে পোশাক খাতে সৃষ্ট এমন নানা সমস্যা উঠে এসেছে বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমানের সামনে। এ সকল সমস্যা নিরসনকল্পে করণীয় নির্ধারণের লক্ষে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ ডেকে সদস্যদের নিয়ে বসেছেন এই নেতা।

মতিঝিলে অবস্থিত ‘হোটেল পূর্বাণী’তে মঙ্গলবার (২ মার্চ) রাতে ওই সভার আয়োজন করে নীট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ। প্রায় পাঁচশতাধিক শিল্প উদ্যোক্তাগণের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় নেতৃবৃন্দ ও অনেক শিল্প উদ্যোক্তাগণ বক্তব্য রাখেন।

সভায় উঠে আসে বিগত কয়েকমাস ধরে করোনার বৈশিক প্রেক্ষাপটে ক্রেতারা (বায়ারগণ) তাদের রপ্তানিআদেশকৃত পণ্য নিতে পারছেন না। ফলে আমাদের দেশের তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রস্তুতকৃত তৈরি পোশাক স্টক হয়ে গেছে। অন্যদিকে সুতার লাগামহীন এবং অনির্ধারিত মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজের পণ্য পরিবহন ব্যয় প্রায় ২০০-৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রণোদনার বিপরীতে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যাংকের চাপ এবং অন্যদিকে কাস্টমস্, ভ্যাট, ট্যাক্স ও বন্ড কমিশনারেট সংক্রান্ত নানাবিধ অযৌক্তিক চাপের কারণে তৈরি পোশাক শিল্প ধারাবাহিকভাবে ২০২০ সাল থেকে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে চলছে। ফলে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি সহায়তা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। উল্লেখ্য যে, এমনিতেই রপ্তানি আদেশ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, অনেক ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তার উপর উদ্যোক্তা এবং তার ব্যাংকের বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা ১৪-১৫ বছর করার ব্যাপারে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কোনো আপত্তি না থাকলেও, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ০৮ বছরের অধিক কাউকে কিস্তি পরিশোধের সময় না দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে অনেক উদ্যোক্তাই এখন ‘ক্লাসিফাইড’হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদী ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃকবৃদ্ধি করা না হলে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তৈরির পোশাক শিল্পখাতের অনেক উদ্যোক্তাই ‘ক্লাসিফাইড’ হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে; যা প্রকারান্তরে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে। তাই সভায় উপস্থিত শিল্পোউদ্যোক্তগণ এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এবং একইসাথে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা কমপক্ষে ১৪-১৫ বছর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে সেখানে সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমরা যে কাজটি করছি। এখানে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে দেশের ২ কোটি মানুষ জড়িত। আজকে ব্যবসা বন্ধ করে দিলে ২ কোটি মানুষের পরিবারের সমস্যায় পড়বে। তাহলে এক বার ভেবে দেখেছেন? বাংলাদেশের কি অবস্থা হবে। তাই আমাদের ২ ভাবে চিন্তা করতে হবে। একটি হচ্ছে, আমাদের ব্যবসা কিভাবে রক্ষা যায়, অন্যটা হচ্ছে- আমাদের দেশের জনগণকে কিভাবে রক্ষা করবো। আমরা যদি থেমে যাই, তাহলে আমাদের শ্রমিকরা থেমে যাবে। আমরা যদি থেমে যাই, তাহলে দেশের সকল পূণ্য উপর তাঁর প্রভাব পরবে।’

সেলিম ওসমান আরও বলেন, ‘আজকে বক্তা আমি না, বক্তা আপনারা। আপনাদের যার যার সমস্যা গুলো তুলে ধরবেন। আমাদের নেতারা এখানে উপস্থিত রয়েছেন। তারা সিদ্ধান্ত নিবে, সমস্যা গুলোতে করণীয় কী হবে? তবে, আমি শুধু এটা বলবো, ভয় পাওয়ার কিছু নাই, আমরা ভয় পাবো না। কারণ আমাদের সাথে নেতৃবৃন্দ আছে, প্রধানমন্ত্রী আছে। আমরা বেঁচে থাকতে পারবো। আমরা বাংলাদেশে যে উন্নয়ন করছি, সেটা করে যেতে পারবো।’

বিকেএমইএ’র সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিটিএমএ’র সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন ও বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি।

আরও উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতিমশিউল আজম সজল, সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক হাসান,বিটিএম’র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিকেএমইএ’রতৃতীয় সহ-সভাপতি গাওহার সিরাজ জামিল, সহ-সভাপতি (অর্থ) মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক ও ফজলুল হক, সাবেক প্রথম-সহ-সভাপতি এ.এইচ আসলাম সানি ও মনসুর আহমেদ,পরিচালক আবু আহমেদ সিদ্দিক, ফজলে শামীম এহসান, মোস্তফা জামাল পাশা, আশিকুর রহমান, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, মোস্তফা মনোয়ার ভুঁইয়া, মোঃ তারেক আফজাল, মোঃ মুজিবর রহমান, মোঃ শাহাদৎ হোসেন ভুঁইয়া (সাজনু), এম. আই. সিদ্দিক (সেলিম মাহবুব), নাসিমুল তারেক মঈন, রতন কুমার সাহা, নন্দ দুলাল সাহা, মোঃ কবির হোসেন, আহমেদ নুর ফয়সাল, ইমরান কাদের তুর্য, মোঃ আখতার হোসেন অপূর্ব এবং বিকেএমইএ, বিজিএমইএ ও বিটিএমএ’র সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিল্প উদ্যোক্তাগণ।

0
,