দেশ মুক্তির পর এই প্রথম ‘অচেনা পরিবেশে’ স্বাধীনতা দিবস

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: অনেক ত্যাগের বিনিময় আমাদের স্বাধীনতা। দেশ মুক্তির পর এবারই প্রথম বিশ্বের সাথে সাথে এই বাংলাকেও নতুন ভয়ংকর দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। নতুন আতঙ্ক করোনা ভাইরাস। থাকতে হচ্ছে সবাইকে নিজ গৃহে। অনেকটা স্বেচ্ছা বন্দি। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস নীরবে চলে গেল। যে দিবস পুরো জাতির জন্য আনন্দের, গর্বের। কিন্তু জাতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সকল সরকারী ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে কাধেঁ কাধেঁ মিলিয়ে করোনা প্রতিরোধের কথা জানালেন। আর গৌরবের আনন্দের স্বাধীনতা দিবসে নতুন প্রজন্মের জন্য দিলেন নানা পরামর্শ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসটি বাঙালী জাতির সবচেয়ে বড় আনন্দময় দিবস। কিন্তু করোনার কারণে নানা আয়োজন থাকা সত্ত্বেও কোন অনুষ্ঠান করা হবেনা। সবাই করোনা সচেতনতায় ব্যস্ত। আমরাও করোনা সচেতনতায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এগুলা নিয়ে ব্যস্ত।

এছাড়াও তিনি তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজম্মেকে বলেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখে ছিলো তা বাস্তবায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। নতুন প্রজম্মের কাছে আমার মেসেজ, এদেশকে গড়ার জন্য একটি দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, দূর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব, দূর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুন্দর দেশ গড়ার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। আর এগিয়ে যেতে হলে যারা ছাত্র তাদের ভালো ভাবে লেখা-পড়া করতে হবে ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তারপর সুন্দর ও সুষ্ঠু নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে। সুষ্ঠু ও সুন্দর নেতৃত্ব যদি না হয় তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে না এবং জাতি এগিয়ে যেতে পারবেনা। তাই নতুন প্রজম্মকে বলতে চাই, আসুন অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এদেশটাকে নতুন ভাবে সাজাই। দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশে পরিণত করি।

সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিবেবে এই দিন খুব গর্বের বিষয়। কিন্তু করোনার জন্য সারা দেশ আতংকিত। অন্যান্য বছর নানা সভা সেমিনারের মাধ্যমে বা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এদিনটি পালন করা হলেও এবার তেমন কিছু করা হয়নি। সরকার করোনার জন্য সকল আনুষ্ঠানিকতা বন্ধের নির্দেশ দেন। জাতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এই নির্দেশনা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। তাই দেশের স্বার্থে আনুষ্ঠানিকতা কিছু করা হয়নি। আগামী বছর এই দিনে আবার নানা কর্যক্রমের মধ্যদিয়ে লালন করা হবে ইনশাআল্লাহ।

এছাড়াও তিনি তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজম্মের প্রতি জানাতে চেয়েছেন, অনেক ত্যাগের বিনিময় আমরা এই দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। দেশের স্বাধীনতা অর্জন করাই সব কিছু নয়। সেই স্বাধীন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর সেটা নতুন প্রজন্মের করতে হবে। আমরা তাদের হাতে দেশ তুলে দিলাম। দেশকে এগিয়ে নেওয়া ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন তাদের।

সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. আবুল কালাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, প্রতিবছর মহান স্বাধীনতা দিবসটি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু আজ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ভাবে পালন করা হচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় সচেতনতামূলক যে সকল বাধ্য বাধ্কতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তা যথাযথ আমরা পালন করছি।

তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মকে বলেন, নতুন প্রজন্ম এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে যেন এগিয়ে আসে। যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব সহকারে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা যেন ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। দেশের উন্নয়ন করে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে যেন একত্র হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে।

এড. আনিসুর রহমান দিপু লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ও তার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময় স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটা উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত করেছে। আজ মহান স্বাধীনতা দিবস কিন্তু বাংলাদেশে করোনার মত দুর্যোগের কারণে সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় সকল কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। ভাইরাস কিভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সে কারণে আমরা ওইভাবে আজ মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করতে পারছিনা। আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে পালন করতে না পারলেও, সকলকে জানাচ্ছি মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। করোনা থেকে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের মুক্ত রাখার জন্য সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করছি। এবং সচেতন মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

এছাড়াও তিনি তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মকে বলেন, দেশকে ভালবাসতে হবে। দেশের মানুষকে ভালবাসতে হবে। সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ভাবে জীবন যাপন করতে হবে।

নারায়ণগঞ্জ বারের সিনিয়র আইনজীবী ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, স্বাধীনতা দিবস হলো বাঙালি জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে এ দেশটির স্বাধীনতার ঘোষিত হয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ ও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত এর বিনিময়ে এই স্বাধীনতা হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য এদেশ স্বাধীন হয়েছিল এখন আবার সেই গণতন্ত্রের বি-নিয়ন্ত্রিত। আবার সেই মানুষের ভোটের অধিকার নাই , মৌলিক অধিকার থেকে মানুষ বঞ্চিত পুনরায় সে অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক হতে হবে। বাংলাদেশে যে করোনার দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে তা সকলে মিলে, পরিত্রাণের জন্য কাজ করতে হবে । সকলকে সচেতন করতে হবে ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে মহান স্বাধীনতা দিবসে নানা আয়োজন ও নানা কর্মসূচি স্থগিত করার বিষয়টিও সম্পূর্ণ ঠিক হয়েছে।

দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মকে তিনি বলেন, সব সময় দেশের কথা ভাবা উচিত। মানুষের অধিকারের কথা চিন্তা করা, দেশের কথা চিন্তা করা। এই সকল চিন্তা ধারণার মাধ্যমে যদি নিজেকে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে একজন সফল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খাঁন সেন্টু লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ১৯৭১ সালের এই মহান স্বাধীনতা দিবসে, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। তখন থেকেই আমরা এ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে আসছি। তখন আমরা ভাবতাম ২৬ ই মার্চ দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। কারণ হলো ২৬ মার্চ পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা ও যে ম্যাপ, তা আমরা বাড়িতে বাড়িতে উঠাইতাম। আর স্লোগান দিতাম ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো বাংলাদেশ স্বাধীন করো‘। স্বাভাবিক, তখন আমরা ছোট ছিলাম। আজকের এই স্বাধীনতা দিবসে আমি বলবো, এখন আমাদের উচিত দলমত নির্বিশেষে স্বাধীনতাকে বজায় রাখা। দেশে যে করোনার দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে ,তা সকলে মিলে মোকাবেলা করে প্রতিরোধ করা।

এছাড়াও তিনি নতুন প্রজন্মকে বলেছেন, এখন তো আমদের দেশে চতুর্থ প্রজন্ম। চতুর্থ প্রজন্মের কাছে আমার মেসেজ থাকবে, তারা যেন সব সময় ফেসবুকে পরে না থাকে। জ্ঞানচর্চার জন্য লাইব্রেরী মুখী হয়। এবং বাংলাদেশের পূর্ব প্রজন্ম ও ইতিহাস নিয়ে ঘাটাঘাটি করে।

0