ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হলো শবে বরাত

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আল্লাহতা‘আলা যে কয়টি রাতকে মোবারক বলে ঘোষণা করেছেন তন্মধ্যে শবে বরাতও একটি অন্যতম বরকতময় রাত। ‘শব’ ফার্সি শব্দ। অর্থ-রজনী। বরাত অর্থ মুক্তি, নিষ্কৃতি। এ রাতকে লাইলাতুল বরাতও বলা হয়।

এ রাতে আল্লাহপাক বিশ্ববাসীর তাকদীর সম্পর্কীয় যাবতীয় বিষয়ের নথিপত্র কার্যকর করার জন্যে ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করেন। যার মধ্যে জন্ম- মৃত্যু, রিজিক, ধন-দৌলত, সুখ-দুঃখ সবকিছুই সন্নিবেশিত থাকে। সুতরাং আজকের রাতটির গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বিপুল। এ রাতে আল্লাহপাক মানবজাতির জন্যে নাযিল করেন প্রভুত কল্যাণ ও অসীম রহমত।

রোববার (২১ এপ্রিল) সারা দেশে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির, দোয়ার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে শবে বরাত। নারায়ণগঞ্জেও ধর্মীয় ভাব-গাম্ভির্য্যের মধ্য দিয়ে দিনটি উৎযাপিত হয়েছে।

রোববার মাগরিবের ওয়াক্তের পর হতেই নারায়ণগঞ্জবাসী ইবাদতের জন্যে প্রস্তুতি শেষে মসজিদে রওনা দেয়। ইশার নামায শেষে লাইলাতুল বরাত সম্পর্কে দেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। এরপর পরই একেক জন নানাভাবে ইবাদতে মশগুল হয়। কেউ পবিত্র আল-কুরআন তেলওয়াতে মগ্ন, কেউ আবার আল্লাহ‘র নাম জিকিরে ব্যস্ত। সেই সাথে নফল নামায তো আছেই।

এরই মাঝে সূর্য অস্ত যাওয়ার পরই মসজিদগুলোকে সবুজ-সাদা আলোয় উজ্জীবিত করা হয়। এছাড়াও কবরে শায়িতদের আত্মার মাগফিরাতের জন্য লোক-জন কবরস্থানে ভিড় করে। রাতজুড়ে ইসদাইর কবরস্থানসহ জেলার বিভিন্ন কবরস্থানে আত্মীয়ের কবর জিয়ারতে নানা মানুষের ভিড় জমে। প্রত্যেকেই হাত তুলে ক্রন্দন-মুখে দোয়ায় মন দেয়।

যারা নফল রোজা রাখার নিয়ত করেছে তারা মধ্যরাতে ইবাদতে সামান্য ইতি দিয়ে হালকা কিছু খেয়ে নেয়। অবশেষে ফজরের ওয়াক্তে মসজিদে এত মানুষ জড় হয় যে, রাস্তায় জামাত ধরতে হয়। নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম হাত তুলে ধরেন মোনাজাত। আর সেই সাথে কান্নায় ভেঙে আল্লাহ‘র কাছে মাফ চাওয়া শুরু করে নারায়ণগঞ্জবাসী। তারই সাথে দেশের শান্তি, জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা, সুন্দর পরিবেশে সন্তানদের বেড়ে ওঠা, ভাইয়ে-ভাইয়ে ভালো সম্পর্ক, শৈরিয়ত-অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করার জন্য দোয়া করা হয়।

অবশেষে দোয়া শেষে অন্তরে প্রশান্তি নিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাড়ী গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া হয়।

0