ধর্ষণের আসামি ঘুরছে প্রকাশ্যে, পালিয়ে বেড়াচ্ছে ধর্ষিতার পরিবার

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বাদির বাড়ির সামনে মটর সাইকেল মহড়া দিচ্ছে ধর্ষণের অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা। নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ছেড়েছে ধর্ষিতার পরিবার। আর ধর্ষকের বাবা পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই বসে খোশ গল্প মেতে থাকছেন। অথচ, পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও দেখা যাচ্ছেনা কোন প্রদক্ষেপ নিতে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) এমনটাই দেখা গেছে রূপগঞ্জের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায়। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তা হীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এর আগে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাইফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ধর্ষীতার পরিবারকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে নানান রকম তালবাহানা করার। পরে ধর্ষক ইব্রাহিম ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় ৫ দিনে মামলা না নেয়নি। এ ঘটনায় কাফনের কাপড় পড়ে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের আশ্রয় চেয়ে ধর্ষিতা ও তার পরিবার। বহু নাটকিয়তার পর ২৪ এপ্রিল দুপুরে মামলা রুজু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ছিলেন রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ।

ধর্ষিতার চাচা অভিযোগ করে জানান, ধর্ষকের পরিবার দম্ভ দেখিয়ে বলছেন লোকজনের কাছে বলে বেড়াচ্ছেন, ধর্ষিতা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ১০ টি মিথ্যে মামলা দিবে। একই ভাবে ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক এনামুল এসে বেলেছেন, ধর্ষিতার ও তার পরিবারকে খুঁজে না পাওয়া গেলে উল্টো মামলা দেওয়া হবে।

স্থানয়ী সূত্রে জানা যায়, ধর্ষক ইব্রাহিমের পিতা কবির হোসেন ধর্ষীতার পরিবারকে মেরে ফেলার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করেন। ওই সন্ত্রাসীরা ও ধর্ষক ইব্রাহিম কিছুক্ষন পর পর ধর্ষীতার বাড়িতে মটর সাইকেল মহড়া দেয় ও প্রকাশ্যে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এমনকি মামলার আসামী ধর্ষক ইব্রাহিম প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং তার পিতা কবির হোসেন ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রে সামনেই বসে খোশ গল্প মেতে থাকলে রহস্যজনক কারনে তাদেরকে গ্রেফতার করছেনা ভোলাব ফাঁড়ি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের প্রতি জনগনের আস্থা কমে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত মটর সাইকেল মহড়ায় এলাকার সাধারন মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, শনিবার দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রপত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যান ’গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহিন ফরাজী। পরে মাহিন ফরাজী রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর আব্দুল আলীমকে জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। তবে, ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে খুজে পাওয়া যায়নি। ধর্ষিতা ও তার পরিবারকে ফিরিয়ে আনা ও নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দেন তিনি।

0