ধর্ষণ করে পুরস্কার পেল ধর্ষক, ইউএনও বলছেন ‘ন্যায়বিচার’ (ভিডিওসহ)

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ১২ বছর বয়সে ধর্ষণের শিকার, ১৩ বছর বয়সে মা। এমন অপরাধ যখন বখাটের আমল নামায়, তখন একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বালিকাটিকে ধর্ষণের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তুলে দিলেন ধর্ষকের হাতে!

গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকালে রূপগঞ্জ উপজেলার অডিটরিয়ামে নবজাতক শিশুটিকে কোলে নিয়েই বিয়ে হয় ওই বালিকার। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, মেয়েটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের এপিপি বিভা রানি কর্মকার জানান, ‘প্রথমত, ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ের সাথে শারিরীক সর্ম্পক। তার উপর বিষয়টি বৈধ্য করতে সেই ধর্ষকের সাথে মেয়েটির বাল্যবিবাহ; পুরো বিষয়টি আইন লঙ্গন।’

ধর্ষণের শিকার বালিকা জানান, গত ৯ মাস আগে কোন এক রাতে প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হয়। ওই সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা পার্শ্ববর্তী বাড়ির সানাউল্লাহর ছেলে মোবারক হোসেন মেয়েটিকে জোর পূর্বক নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বেশ কয়েকবার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। কিছুদিন পর মা মেয়ের শারিরিক পরিবর্তন দেখে অন্ত:সত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে মাকে সব ঘটনা জানায় ওই বালিকা। গত ৪ জুলাই বালিকা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

 

এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে বখাটে মোবারক গত ২ মাস আগে মালয়েশিয়া চলে যান। পরে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাবা-মা বিচারের আশায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ঘুরে বেড়ালেও বিচার পায়নি। বিষয়টি জানার পর ইউএনও উভয় পরিবারের লোকজনকে ডেকে মেয়েটিকে বিয়ে করার কথা বললে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়। ১০ লাখ টাকা কাবিন আর নবজাতকের নামে ২ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার শর্তে বিয়েটি দেওয়া হয়।

বিবাহ রেজিস্টারীতে দেখা যায়, বর ও কন্যা উভয়ের বয়সের কোঠা শূণ্য রাখা হয়েছে। এছাড়া বালিকাকে দেখানো হয় ‘কুমারী নারী’ হিসেবে। আর ইউএনও দাবি করছেন, মেয়ের বয়স ১৪-১৫ বছর হবে।

একজন ধর্ষকের সাথে অপ্রাপ্তবয়স্ক একজন বালিকার কীভাবে বিয়ে হলো? জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, পাশাপাশি বাড়ি, দুই জনের অল্প বয়সে সুযোগের সৎ ব্যবহার করেছে। পরে মেয়েটি গত ৭ দিন আগে বাচ্চা প্রসব করে। এ ঘটনা জানা জানি হওয়ার পর ২ পরিবারকেই এক ঘরে করে ফেলে এলাকাবাসী। তাই সামাজিক বিশৃঙ্খলা ঠেকানো, শিশু ও মেয়েটির একটি পরিচিতি দিতে ইউপি চেয়ার‌ম্যান, আলেম ওলামা ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু প্রেমের সর্ম্পক ছিলো। তাই সর্ম্পকটাকে ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না।

এবিষয়ে মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি লক্ষী চক্রবর্তী বলেন, এ ধরণের ঘটনা ধর্ষককে উৎসাহীত করার শামিল। আমরা বিষয়টি ভালো ভাবে খতিয়ে তারপরে সিদ্ধান্ত নিবো।

৭৯৬
0