ধর্ষণ রোধে দুই উপায়

0

ইহতিশাম আহমদ টিংকু: জানুয়ারি থেকে জুন। এই ৬মাসে দেশে ৩৯৯জন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে। আর ধর্ষণের পর একজন ছেলে শিশুসহ মোট ১৬জন শিশু মারা গেছে। অন্তত ৪৯টি শিশু (৪৭ জন মেয়েশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু) যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের বরাতে বলা হচ্ছে, ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৪০৮টি সংবাদ বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি এই তথ্য পেয়েছে।

পরিসংখ্যান খুবই ভয়ানক। আতঙ্ক পিছু ছাড়বে না কাউকেই। সমাধান খুজঁতে হবে। আমার কাছে মনে হয় উপায় আছে। প্রতিটি পরিবার থেকে তা শুরু করতে হবে। উপায় দুটি-
১. ছোটবেলা থেকেই আপনার পুত্র সন্তানটিকে মেয়েদের সম্মান করতে শেখান। নৈতিকতা শেখান। তাহলে ধর্ষকামী মানসিকতার সৃষ্টি হবে না বা কম হবে। সেই সাথে কিভাবে সম্মান অর্জন করতে হয় সেটাও আপনার শিশু কন্যটিকে যদি শেখাতে পারেন তো সোনায় সোহাগা।

২. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। ধর্ষক যখন জানবে যে তার শাস্তি সুনিশ্চিত তখন এমন কি চোখের সামনে আধ ল্যাংটা কোন মেয়ে দেখলেও সে নিজেকে সংযত রাখবে। তার অর্থ এই নয় যে আমি কারো (ছেলে ও মেয়ে) আধ ল্যাংটা হয়ে ঘুরে বেড়ানোকে সমর্থন করছি। নগ্নতা সব সময় শিল্প নয়। নগ্নতা অনেক ক্ষেত্রে অসভ্যতাও বটে।

তবে দুটো উপায়ই এক সাথে প্রয়োগ করতে হবে। শুধু একটি প্রয়োগ করে ফল পাওয়া যাবে না। তারচেয়েও বড় কথা শুধু একটি প্রয়োগ করা সম্ভবও নয়। শাসন এবং সোহাগ, দুটোই এক সংগে না প্রয়োগ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কখনওই সম্ভব নয়।

ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা বা ক্রস ফায়ারে দেয়া আকর্ষনীয় এবং তাৎক্ষনিক সমাধান বলে মনে হলেও এই দুই সমাধান মূলতঃ নুতন সমস্যা সৃষ্টির সূচনা মাত্র।

আপনি যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে দুই তিনজন বা দশ বারোজন ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন, তাতে বরং উত্তেজনাবশতঃ ধর্ষনের পাশাপাশি প্রতিহিংসাবশতঃ ধর্ষনের ঘটনাও ঘটতে শুরু করবে। বিষয়টা অনেক পুরুষের ইগোতে লাগবে তো। অপরদিকে যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই পারেন তো ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কাটার প্রয়োজন তো এমনিতেই পড়ছে না।

আর ক্রস ফায়ার বা বিচার বর্হিভূত হত্যা কখনই কোন টেকসই সমাধান নয়। তা সে ধর্ষনের ক্ষেত্রেই হোক আর সন্ত্রাস বা অন্য কোন ক্ষেত্রেই হোক। এর নেতিবাচক প্রভাব তো আমরা নারায়নগঞ্জের সেভেন মার্ডারেই দেখেছি।

 

লেখক: অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা

0