ধর্ষণ সহ‌যোগি আসামী চাদরে মুখ ঢে‌কে জামাই আদ‌রে!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ধর্ষণ ঘটনায় গ্রেপ্তার কাশিপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান ওরুফে দর্জি শ্যামলের মুখ চাদ‌রে ঢেকে থানা থেকে আদালতে নিচ্ছেলেন পুলিশ। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি উঠাতে চাইলে ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে শ্যামলের গুন্ডাবাহিনী ।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভিতরে এ ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে থানা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে সাংবাদিকদের চাপের মুখে এক যুবককে আটক করা হয় ও আসামীর ছবি উঠাতে দেন পুলিশ।

থানার ভিতরে হৈ ছৈ করছে শ্যামলের গুন্ডাবাহিনী

আটককৃত যুবকের নাম লিটন। তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদলের অনুসারী।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল এর ভাই খোকন, চুন্নু, সিদ্দিক, জাহাঙ্গীর ও আক্কার নেতৃত্বে আরো ১৫-২০ জন যুবক থানার ভিতরেই সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়। চেষ্টা করা হয় ক্যামেরার ভেঙ্গে ফেলার। পুলিশ ইন্সপেক্টর (অপা‌রেশন) সাখাওয়াত হোসেন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সাইফুল্লাহ বাদলের অনুসারী লিটন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তাকে আটক করা হয়। পরে ইন্সপেক্টর সাখাওয়াতের সহযোগীতায় ছবি তুলেন সাংবাদিকরা।

শ্যামলের গুন্ডাবাহিনী ছবি তোলতে বাঁধা দিচ্ছেন

এদিকে, দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফতুল্লা থানা থেকে জামাই আদ‌রে এ‌সি মাই‌ক্রোবা‌সে ক‌রে আদাল‌তে নেয়া হয়। মুখশ ও চাদরের আড়ালে আসামী‌কে আদালতের কাষ্টরীতে নেওয়া হয়। ওইখানেও তার অনুসারী নেতাকর্মীরা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন।

আদালত পাড়ায় মুখ শ্যামল

ধর্ষণ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামীকে পুলিশের সহযোগীতায় মুখ ঢেকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ফতুল্লা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, মুখটি পুলিশ ঢাকেনি, আসামীই ঢেকে রেখেছিলেন। আমি থানায় নেই। আমি শুনেছি, সাংবাদিকদের সাথে এ সময় বহিরাগত কিছু লোক জনের ধস্তাধ‌স্তি হয়েছে। বিষয়টি ভালো ভাবে যেনে আইনী প্রদক্ষেপ নিবো।

এর আগে, ধর্ষণ ঘটনার বিচার করে ধর্ষককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে কাশিপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান ওরুফে দর্জি শ্যামলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চাপে পরে ছবি তোলতে সহযোগীতা করছে পুলিশ

অভিযোগে অনুযা‌য়ী, ১৪ বছর বয়সের কিশোরী বাড়ির কাছে আরেকটি বাড়িতে আরবি পড়েন। পড়তে আসা যাওয়ার পথে প্রায়ই খিলমার্কেট এলাকার মৃত মনির হোসেনের ছেলে তুর্য (১৯) পথরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এবিষয়ে কিশোরীর বাবা মা কাশিপুর ইউনিয়ণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনিসুর রহমান শ্যামলের কাছে বখাটে তুর্যের বিচার দাবি করেন। এতে শ্যামল উল্টো কিশোরীর বাবা-মাকে গালি গালাজ করে ভয়ভীতি দেখান।

এঘটনার কয়েক দিন পর ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় আরবি পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীকে রাস্তা থেকে ধরে তুর্য তাদের ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে যায়। এরপর তুর্য ও কিশোরীকে ফ্ল্যাটে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে তারা চলে যান। এরমধ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন তুর্য।

 

ধর্ষণ ঘটনায় যুবলীগ নেতা শ্যামল গ্রেপ্তার

0