ধুলিকণায় বিষাক্ত নগরীর বায়ু: ‘ব্যর্থতা কার’ প্রশ্ন খোকন সাহার

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের নগরী আর আগের মতো নেই। নিয়ম না মেনে উন্নয়নকাজ করার কারণে অনেক আগে থেকেই মাত্রাতিরিক্ত দূষণের শিকার এই শহর। চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ধুলাবালি, ধোঁয়ার সঙ্গে নগরের বাতাসে বাড়ছে ব্ল্যাক কার্বন, যা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। করোনাকালে এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সিটি কর্পোরেশনের কোন পদক্ষেপ না দেখে জনগণের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ।


নারায়ণগঞ্জ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলো ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় সড়ক সংস্কার, সম্প্রসারণ ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়েছে। এতে করে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। নগরীর এই সমস্যা সমাধানে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে, নগরীতে নিয়মিত পানি না ছিটানোর কার্যক্রম কেউ দুষছেন। একইসাথে তারা বলছেন নানা অব্যবস্থাপনারও কথা।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, ‘ধুলায় নগরী অন্ধকার হয়ে যায়। শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধি হচ্ছে এতে। দীর্ঘদিন যাবত সিটি কর্পোরেশনের এলাকাগুলোতে পানি ছিটানো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশনের পানি বাহিত গাড়ি আছে, কিন্তু তারা ব্যবহার করছে না। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধি কিংবা কাউন্সিলরদের কোন ধরনের বিবৃত্তি বা বক্তব্য দিতে দেখি নি, এমনকি তারা নেয়নি কোন কার্যকর পদক্ষেপও। এই ব্যর্থতা কার? কাউন্সিলরদের নাকি মেয়রের? জনগণের টেক্স নিবেন, আর তাদের প্রাপ্য দিবেন না, তা হতে দেয়া যাবে না’।

চাষাড়ার রমিজ উদ্দিন নামের এক পথচারী বলেন, ‘এই শহর ধুলার শহর। এই ধুলা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে জনপ্রতিনিধি কিংবা কাউন্সিলরদের পদক্ষেপ দেখি নি। ধুলা যে আমাদের নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তা হয়তো তাদের জানা নেই’।

নগরীর মাসদাইরের বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘আগে স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় মা মাস্ক পরতে বললেও পরতাম না। এখন আমি নিজে থেকেই মাস্ক ব্যবহার করি, করোনা নয় ধুলোবালি থেকে বাঁচতে। আমার ভার্সিটিতে আসা যাওয়ার পথে চাষাড়া থেকে বাসায় আসার পথে রাস্তায় ব্যাপক ধুলোবালি উড়ে, যা থেকে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে আমাদের শরীরে’।

0