নারায়ণগঞ্জে পল্টন হত্যাকান্ড দিবসে সিপিবি’র আলোচনা সভা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র মহাসমাবেশে বোমা হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ২১তম বার্ষিকীতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা।


বুধবার ( ২০ জানুয়ারি )  বিকাল চারটায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কার্যালয়ে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম।

সভায় বক্তব্য রাখেন শিবনাথ চক্রবর্তী, বিমল কান্তি দাস, আঃ হাই শরীফ, শাহানারা বেগম, ইকবাল হোসেন, শোভা সাহা, সুজয় রায় চৌধুরী বিকু, নূরুল ইসলাম, আবুল হোসেন, মৈত্রী ঘোষ, আলমগীর হোসেন, বিজয় কর্মকার, আব্দুস সোবহান, নাসির উদ্দিন ও কবির হোসেন|

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০ জানুয়ারির পল্টন ময়দানের বোমা হামলার পর আলামত সংগ্রহ না করে সিপিবির নেতাকর্মীদের তৎকালীন আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ করে ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকি পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, এই হামলা দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে হয়েছে! আওয়ামীলীগের সমাবেশে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরও বিএনপি সরকার একই কাজ করেছিল এবং একই কথা বলেছিল। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমানে দেশ ‘৯৯ বনাম ১’ এইভাবে বিভক্ত।

নেতৃবৃন্দরা বলেন, এই ৯৯ ভাগ মানুষ যাতে তাঁরা তাঁদের দাবি- দাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। সেদিন কমিউনিস্টদের স্তব্ধ করার জন্য বোমা হামলা চালানো হয়েছিল যাতে কমিউনিস্ট পার্টি মানুষকে নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। হামলার পর জনগণের আরো বেশী অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সিপিবি এগিয়ে যাচ্ছে। অশুভ শক্তির হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। এখনও নানা ষড়যন্ত্র চলছে। দেশ এক গভীর সংকটের মধ্যে অতিবাহিত করছে। গণতন্ত্রহীনতা, লুটপাটতন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতা আজ চরম আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে বামপন্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।

নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, ২০০১ সালের এই দিনে রাজধানীর পল্টন ময়দানে সিপিবি’র লাখো মানুষের মহাসমাবেশে বোমা হামলা চালায় প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতক চক্র। এই হামলায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মণ্ডল, খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরা থানার লতিফ বাওয়ানি জুট মিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই এবং খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা কমরেড বিপ্রদাস রায় আহত হয়ে ঢাকা বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ওই বছরেই ২ ফেব্রুয়ারি শহীদের মৃত্যুবরণ করেন। বোমা হামলায় শতাধিক কমরেড আহত হন। পরদিন ২১ জানুয়ারি সিপিবির আহ্বানে ঢাকা শহরে হরতাল পালন করা হয়।

0