নারায়ণগঞ্জে চোখ উঠার প্রকোপ বেড়েছে ভয়াবহ ভাবে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পরিবারের অনেকেরই চোখ উঠেছে, তাই অন্য একটি কক্ষে আলাদা রেখেছেন ফতুল্লার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে। ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে আলাদা সবকিছু। তারপরেও চোখ উঠে গেছে।

একই ভাবে চোখ উঠেছে জালকুড়ির রুবেল চোকদারের। তাঁর চোখ উঠার পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে রোগটি।

শুধু রুবেল কিংবা মেহেদী হাসানের পরিবারই নয়, গত কয়েক দিয়ে নারায়ণগঞ্জে চোখ উঠার প্রকোপ বেড়েছে ভয়াবহ ভাবে।

ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার হাজি বাড়ির মোড় এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিল জানান, দোকানের অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ শেষ হয়ে গেছে। কোম্পানীর কাছে অর্ডার করেও পাচ্ছি না। তাই সকাল থেকে অন্তত ১০ জন অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ প্রত্যাশিকে ড্রপ দিতে পারি নি। এখন ঘরে ঘরে এই সমস্যা চলছে।

লালখাঁ এলাকার হোসাইন নামের এক ব্যক্তি জানান, তাঁর ঘরেও ২ সদস্যের চোখ উঠা রোগ হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে আমারও হবে।

‘চোখ উঠা’ নামে রোগটি পরিচিতি হলেও এই রোগের নাম কনজাংটিভাইটিস। রোগটি ছোঁয়াচে। ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হলো চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, খচখচ করা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়, তারপর অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখের নিচের অংশ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। চোখ জ্বলে ও চুলকাতে থাকে। আলোয় চোখে আরও অস্বস্তি হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আনিকা নওয়ার সাদিয়া জানান, কনজাংটিভাইটিস রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার্য বস্তু যেমন রুমাল, তোয়ালে, বালিশ অন্যরা ব্যবহার করলে অন্যরাও এতে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া কনজাংটিভাইটিসের জন্য দায়ী ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশে যারা থাকে, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগ হলে কোনো কারণে চোখ ভেজা থাকলে চোখ টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহারের পর টিস্যু পেপারটি অবশ্যই ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিতে হবে। নইলে ব্যবহার করা টিস্যু পেপার থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। চোখ উঠলে চশমার ব্যবহার করুন। এতে চোখে স্পর্শ করা কমবে এবং ধুলাবালু, ধোঁয়া থেকে চোখ রক্ষা পাবে। আলোয় অস্বস্তিও কমবে। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।