নারীদের এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন

0

কাজী রেহানা মাসুদ: বর্তমান প্রেক্ষিতে নারীরা আজ অনেক এগিয়ে । নারীরা আজ গণিতবিদ, প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী, কৃষিশিক্ষা বিশেষ করে ছাদ কৃষিতে, ফুল চাষে এবং উদ্যোক্তা হিসেবে নারীরা এখন বিশেষ সাফল্যের দবিদার। বিজ্ঞানশিক্ষা থেকে তথ্য প্রযুক্তি নানা সেক্টরে  তাদের  সরব দক্ষতা আজ বাংলাদেশের বিশেষ অর্জন। আদমশুমারিতে নারী ভোটার যেমন এগিয়ে, তেমনি পরীক্ষার ফলেও নারীরা এগিয়ে আছে পুরুষের চেয়ে, কর্মদক্ষতাতেও একই চিত্র। তাই বাংলাদেশের অর্ধেক পুরুষ আর অর্ধেক নারীর সবটুকু শ্রম আর অর্জন এগিয়ে যাচ্ছে আগামীর বাংলাদেশ এবং বদলে যাচ্ছে গ্রাম শহর ও এর প্রতিটি ইঞ্চি। তাই আমাদেও চোখে আজ নতুন দিনের স্বপ্ন, নতুন দিনের আকাঙ্খা। একজন নারী হিসেবে এ গর্ব এবং অহঙ্কাররের দাবি আমাদেরও।

আমাদেও সংবিধানে শুধু নারীর ক্ষমতায়ন প্রশ্নে ২৮ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র ও জনজীবনের সবংস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে। তাই কোনো অনগ্রসর জনগোষ্ঠির মধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাতে গেলে নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। যে কথা বেগম রোকেয়া, কবি নজরুল অনেক আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিকসহ সর্বক্ষেত্রেই নারীর ক্ষমতায়ন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশে। গত এক দশকে নারীর সমাজিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। নারী শিক্ষাই দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নারী। মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীর সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণের সূচকে এ অঞ্চলের প্রথম সারির ১০টি দেশের বাংলাদেশের একটি। সরকারি-বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি কৃষি শিল্পসহ সামরিক বেসামরিক প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। সাংবাদিকতা হিসাবে ও নারী সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।

সময় এখন নারীর, উন্নয়নে তারা, বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরে সর্বোত্তম প্রতিফলন ঘটেছে বিশেষত রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আমরা যেভাবে অনেকের জন্য বিস্ময়করও বটে। আড়াই দশক ধরে আমরা একটানা নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা পেয়ে এসেছি। বর্তমান সংসদে স্পিকার হিসেবেও পেয়েছি একজন নারীকে, ঘটনাচক্রে সংসদের  বাইরে থাকা অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাও একজন নারী। এছাড়া স্থানীয় সরকার সংরক্ষিত নারী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ও নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর থেকেই পুলিশ বাহিনীতে উচ্চতর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদে কয়েক হাজার নারী দায়িত্ব পালন করেছেন। সেনাবাহিনী, বিজিপিতেও নিয়োগ হয়েছে নারী সৈনিক। প্রশ্ন হচ্ছে, তারপরেও কি নারীর অবদান পরিবারে , সমাজে ও রাষ্ট্রে যথার্থ স্বীকৃতি পাচ্ছে? এও অস্বীকার করা যাবে না যে, নারীর প্রভূত উন্নতি ও অগ্রগতি সত্তে¡ও সমাজের বহু ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ ও পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো নারীর অগ্রগতির পথে কাঁটা বিছিয়ে রেখেছে, তাই তো আমরা দেখি এখনও এ দেশে নির্যাতিত নারীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়; এখনও ফতোয়া ও সালিশে নারীকেই লক্ষ বানানো হয়; এখনও শহর-গ্রামে ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ নির্মূল করা যায়নি। বস্তুত বাংলাদেশে নারীর সংগ্রাম, সাহস ও সক্ষমতা যেন অমিত; একই সঙ্গে সমতার লড়াইও যেন অনিঃশেষ। বিশেষ করে বাল্যবিবাহের আঁধার এখনও না যাওয়ার বিষয়টি বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক। এবার নারী দিবসে আমরা নতুন করে অঙ্গীকার করতে পারি যে, নারী পুরুষ নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় ও বিরাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, সমাজে ও পরিবারে সমতা প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করে যাব। আন্তজার্তিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশে^র নারী সমাজের প্রতি অভিবাদন।

লেখকঃ গবেষণা কর্মকর্তা
বাংলা একাডেমি, ঢাকা

0