নারী মেয়রের সিটিতে ভুক্তভোগী নারীরা, ২৭’র ২১এ-ই নেই গণশৌচাগার

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ২৭টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ২১টি ওয়ার্ডেই নেই গণশৌচাগার। ফলে বিশাল নগরীর পুরুষেরা কোনো রকম চালিয়ে গেলেও, নারীদের ভোগান্তির অন্ত নেই।নগরবাসী বলছেন, ঘরের বাইরে গেলে গণশৌচাগারের সংকটের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত-ই অসংখ্যা নারী-পুরুষদের। দীর্ঘক্ষণ প্রসাব আটকে রাখার কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হতে হয়।

নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধরগঞ্জ ও কদমরসূল পৌরসভা নিয়ে ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। শুরু থেকে গত ১০ বছরে এই সিটিতে সেলিনা হায়াৎ আইভী নামের এক নারী মেয়র হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। পৌর আমল থেকে হিসেব করলে টানা দেড় যুগ। অথচ, তাঁর সিটিতেই মূল ভুক্তভোগী নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী। নারী মেয়র থাকা সত্বেও এ নগরে নারীরা উপেক্ষিত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানা গেছে, সিটি এলাকায় ১২টি গণশৌচাগার রয়েছে, যার ৭টি পৌরসভার সময়েই ছিল। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর মেয়র আইভীর সময়কালে মাত্র ৫টি গণশৌচাগার করেছে সংস্থাটি। এ সব গণশৌচাগারও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের মাত্র ৬টি ওয়ার্ডে অবস্থিত। সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদম রসূল অঞ্চলে রয়েছে ১৮টি ওয়ার্ড। যেখানে প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করলেও গত ১০ বছরে একটি গণশৌচাগার গড়ে উঠেনি। এছাড়া শহরের ১১, ১৪ ও ১৮ নং ওয়ার্ডে কোন গণশৌচাগার নেই।

এছাড়াও সিটির ১২টি গণশৌচাগারের মধ্যে ৩টি ব্যবহার করছেন দোকানদার, হরিজন সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার লোক জন, আরও একটি ব্যবহার করছে হাজিগঞ্জের সিবিও। দ্বিগুবাবুর বাজারের গণশৌচাগার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী নয়। বাকি ৭টি গণশৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের ১৫ লাখের বেশি মানুষকে। তবে সে গুলো ব্যবহারে অনেকেই আগ্রহী নন। এছাড়া নারীদের জন্য পৃথক কোন গণশৌচাগারও নেই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে ফোন করা হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ মোস্তফা আলী জানান, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল আমিন জানান, ‘বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের জমি না থাকায় গণশৌচাগার করা হয়ে উঠে না।  যে গুলো রয়েছে, সেগুলো তো আছেই, আগামীতে আরও করা হবে। আমার বিশ্বাস মাননীয় মেয়র মহদয় ব্যাপার গুলো নিয়ে উদ্যোগ নিবে।’