না.গঞ্জের গণপরিবহনে ঝুঁকি আছে, প্রস্তুতি নেই

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গাদাগাদি করে বসানো আসন। সিট কভার তেল চিটচিটে। হাতলে মরিচা। ভাঙা জানালার কাচ। ভ্যাপসা গন্ধ। ধোয়ামোছার বালাই নেই। সিটে ছারপোকা। পাটাতনে ময়লার স্তূপ। সোজা কথায় নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আদর্শ পরিবেশ।
নারায়ণগঞ্জের সিংহভাগ পাবলিক বাসেই এটি একটি সাধারণ চিত্র। এতেই নিত্যদিন ঠেলাঠেলি করে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। অথচ গণপরিবহনে ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকানোর প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এখনো নির্বিকার।

বাসের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষের সমাগম হয় ট্রেনে। স্বাভাবিকভাবেই যানটিতে কভিড-১৯ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি। এর পরও রোগটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও। লঞ্চেরও একই অবস্থা।

কভিড-১৯ আতঙ্কে আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। তবে নারায়ণগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়ক, নৌ বা রেলপথে এখনো সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কভিড-১৯ প্রতিরোধে গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সরকারের রোগতত্ত, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। যদিও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের পক্ষে গণপরিবহন এড়িয়ে চলা বলতে গেলে অসম্ভব। এ অবস্থায় পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গণপরিবহন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

যাত্রী সংরক্ষণ অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি জানান, গণপরিবাহন এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে সর্তক অবলম্বন করা উচিৎ। একটু পর পর হাত ধোয়া, নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখালেই করোনা ভাইরাসকে এড়ানো যাবে। এছাড়া কারা কারা আক্রান্ত; সেটা যদি খুব দ্রুত চিহ্নিত করা যায়, তাহলে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কাটা কমে যেতো।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গণপরিবহনে করোনার ঝুকি অনেক। যদি একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি কোন বাসে বা ট্রেনে থাকে তাহলে ওই বাসের যাত্রিদের ও আক্রান্ত হওয়া আশঙ্কা খুব বেশি। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এতো টাও খারাপ না, যে গণপরিবহন নিষেধ করতে হবে। সরকার এখন শুধু করোনা নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে, উপদেশ দিচ্ছে। তবে আজকের পরিস্থিতি কাল নাও থাকতে পারে। ভবিষ্যতে যদি ভাইরাস গুরুত্বর প্রভাব বিস্তার করে, তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0