না.গঞ্জের জেলেদের ভাগ্যে জুটে না বরাদ্দের চাল, খাটছেন জেল-দিচ্ছেন জরিমানা

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কোন কোন জেলার জেলেরা পেয়ে গেছে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে সরকারি বরাদ্দের চাল। কোথাও আবার পাবে সপ্তাহ খানিকের মধ্যেই। তবে, এবারও সরকারি বরাদ্দের চাল ভাগ্য জুটবে না নারায়ণগঞ্জের ইলিশ ধরা জেলেদের।

তাদের দাবি, এই সময়ে কোনো আয় না থাকায় ঋণ করে চলতে হয়। কেউ কেউ আবার না পেরে বাধ্য হয় জাল নিয়ে নদীতে নামতে।

নদীতে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইলিশ সারা বছরই ডিম ছাড়ে। তবে আশ্বিনের পূর্ণিমার আগে ও পরে ৮০ শতাংশ মা ইলিশ মিঠাপানিতে এসে ডিম ছাড়ে। এ জন্য আশ্বিনের পূর্ণিমার চার দিন আগে এবং পূর্ণিমার পরে ১৮ দিন মিলিয়ে ২২ দিন বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় অঞ্চল ও দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার জেলেদের আয় না থাকায় ২০ কেজি করে চাল দেয় সরকার। তারপরেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

নদী থেকে জাল তুলে নেওয়া হচ্ছে

নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েক জন জেলে জানান, ইলিশ ধরার সময় নিষেধাজ্ঞাকালে কোন ধরনের সরকারি সহযোগীতা না পেয়ে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছে জেলেরা। কেউ কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার দিতে গিয়ে, উল্টো হারাচ্ছে বেঁচে থাকার সম্বল টুকুও। এরই মধ্যে বন্দর ও আড়াইহাজার উপজেলার জেলেদের প্রায় পৌনে ৪ লাখ মিটার জাল ধ্বংস করা হয়। ১০ জেলেকে জেল জরিমানা প্রদান করেন ও উদ্ধার হওয়া মাছ বিভিন্ন এতিম খানায় দিয়ে দেয় প্রশাসন।

ধ্বংস করা হচ্ছে জাল গুলো

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৩ হাজার জেলে রয়েছে। এরমধ্যে আড়াইহাজার, সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলায় ইলিশ মাছ ধরার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ১৫০ নিবন্ধিত জেলে। যদিও বাস্তবে এ সংখ্যা কয়েক গুন বেশি। তবে, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালানোর জন্য সারাদেশের জেলেদের চাল বরাদ্দ করলেও গত কয়েক বছর যাবত নারায়ণগঞ্জের জেলেরা চাল না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ জানিয়েছে।

ধ্বংস করা হচ্ছে জাল গুলো

নারায়ণগঞ্জ জেলা মৎস কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন চৌধুরী লাইভ নারায়ণগঞ্জ’কে বলেন, বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ২ বার চিঠি লিখে অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে, এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যুথিকা সরকার’র মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেনি।

জেলেদের সাজা দেওয়া হচ্ছে

তবে, ব্যাপার আড়াইহাজার উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. সোহাগ হোসেন জানালে তিনি অস্বীকার করে বলেন, গত বছর আমরা প্রায় ৪০০ জেলেকে চাল দিয়েছিলাম। এবার এখনও বরাদ্দের চাল আসেনি, আসবে কিনা তাও জানা নেই। আর জেলেদের দন্ডের বিষয়টি সেখানকার পরিবেশ ও যে সাজা দিবেন, তার উপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে কারো কিছু বলা উচিৎ নয়।

এদিকে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি স্মারকে ১৪৭টি উপজেলার ৪ লাখ ৮ হাজার জেলে পরিবারের মাঝে ২০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ করে মৎস অধিদপ্তর। যেখানে নারায়ণগঞ্জের কোন উপজেলারই নাম অন্তর্ভূক্ত ছিল না। গতবছরের স্মারকেও একই অবস্থা দেখা গেছে।

0