না.গঞ্জের সাম্প্রতিক ইস্যুতে যা বললেন খোকন সাহা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কিশোরকাল থেকেই রাজনীতির হাতে খড়ি। দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের পথ চলা। বহুবার জেল খেটেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন অসংখ্য। ছাত্র লীগ, যুব লীগ করে দায়িত্ব নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের। ২৫ ধরে হাল ধরেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। সহজ সরল অতিসাধারন জীবন যাপন তার। দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে রাজনৈতিক নেতাকর্মী আর কর্মকান্ডে। আছেন আইন পেশাও।

বলছিলাম এডভোকেট খোকন সাহার কথা। অনেকের কাছে খোকন দা, কেউবা শুধু ‘দাদা’ বলেই ডাকেন। আওয়ামী লীগের জন্য তিনি তার সারা জীবন বিসজর্ন দিয়েছেন। বিয়েটাও করেছিলেন দেরিতে।

আন্দোলন সংগ্রামের প্রত্যেকটি মিছিল, মিটিংয়ের সম্মুখে থেকে এড. খোকন সাহা নেতৃত্ব দিয়েছেন। ত্যাগী এ নেতাকে বঙ্গবন্ধুর কন্যা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে অত্যন্ত স্নেহ করেন। যার ফলস্বরুপ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ শহর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আজ (দীর্ঘ ২৫বছর) অবদি দায়িত্ব নিষ্ঠার সহিত পালন করেছেন।

প্রায় অর্ধশত বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সেই জন মানুষের নেতা এড. খোকন সাহার সাথে কথা হয় লাইভ নারায়ণগঞ্জের এই প্রতিবেদকের। সাক্ষাতকারটিতে উঠে আসে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা ইস্যু।


শুরুতেই জানতে চাওয়া হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে এড. খোকন সাহা কথা বলেছেন, তার মধ্যে দেশ-বিদেশে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘জিউস পুকুর’। দাদা বিষয়টি নিয়ে যদি কিছু বলতেন..

এড. খোকন সাহা: কথা বললে, অনেক কিছু বলতে হয়। জিউস পুকুর ইস্যুতে কথা বলাতে নারায়ণগঞ্জের ২/১টি স্থানীয় পত্রিকা এ ইস্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে আমাকে হিন্দু ধর্মীয় নেতা বানানোর চেষ্টা করেছে। এটা দুই একটি স্থানীয় পত্রিকা বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ একটি অফিসের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী করছে।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে কটুক্তি করায় আমি প্রতিবাদ করেছি। আমি কিছুদিন পূর্বে ১টি সমাবেশে বলেছি-আমি মুসলমান ভাইদের মসজিদ-মাদ্রাসাসহ যে কোন প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি যদি কেহ দখল করে- আমি ওটারও প্রতিবাদ করবো। আমি হিন্দু-মুসলিম বুঝিনা। আমি অসাম্প্রদায়িক। এর বড় প্রমান- ‘মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগ এর নারায়ণগঞ্জের শহর-মহানগর মিলিয়ে প্রায় ২৫ বছর যাবত সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পা্লন করছি’। এ শহরের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ছাড়া, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্ট্রান সকলের সহযোগিতা ছাড়া কী এতোটা পথ আসা সম্ভব ছিলো? আমি আমার নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনারা জানেন, জিউস পুকুর দেবত্তোর সম্পত্তি। আমার সাফ কথা, যত বড় শক্তিশালী চক্র হউক না কেন, এদেশের ধর্মপ্রান মানুষ জিউস পুকুরের সম্পত্তি বেহাত হতে দিবে না।

প্রশ্ন: জিউস পুকুর নিয়ে কথা বলাতে আপনার বিরুদ্ধে আপনাদেরই দলীয় মেয়র মামলা করেছে, আসলে ঘটনাটা কী?

এড. খোকন সাহা: আমি ভাই সংগ্রামী মানুষ, জনগণ আমার বন্ধু। মামলা করে যারা আমাকে দুর্বল করতে চায়; আমি তাদের জানাতে চাই, ‘দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অনেক মামলা ফেস করেছি। জামাত-বিএনপি জোটের সময়ও আমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বহু মামলা দেওয়া হয়েছে, ফেস করেছি। কোনো সমস্যা নাই।

প্রশ্ন: অনেকে মনে করে আপনি একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী, সেই আপনার বিরুদ্ধে মেয়র আইভী আইসিটি আইনে মামলা দিয়েছেন…

এড. খোকন সাহা: এই প্রশ্নের উত্তর ইতি পূর্বে আপনি পেয়েছেন। তার পরেও সামান্য না বললেই নয়, আমার সহকর্মীরা পত্রিকার মাধ্যমে মেয়রের মামলার কাগজ দেখেছে। তাদের মধ্যে ২/৩ জন অভিজ্ঞ আইনজীবি আমাকে বলছেন, ‘মেয়র আইভী আপনার বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন, তার মামলা থেকে কিছু অসত্য কথা নিয়ে আইসিটি আইনে মেয়রের বিরুদ্ধেও মামলা করা যায়’। আমি উত্তরে বলেছি- নেত্রী তাকে মনোনয়ণ দিয়েছেন, আমরা নেত্রীর গোলামেরা তাকে বিপুল ভোটে জয় যুক্ত করিয়েছি। সে আমার দলের মনোনয়ন পেয়েছে, নির্বাচিত হয়েছে এবং তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতিও। ওনি ভুল করতে পারে, আমি ভুল করবো না। তার দেওয়া মামলা আমি ফেস করবো। আমি সত্যের পক্ষে, সত্যের জয় হবেই হবে।

প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পরে স্থানীয় ২/১টি পত্রিকায় লিখেছে আপনার জন্য কেহ প্রতিবাদ করে নাই। আবার ১টি স্থানীয় পত্রিকা লিখেছে আপনি একা?

এড. খোকন সাহা: আমি, আমার নেতা কর্মীদের শান্ত থাকতে বলেছি। প্রতিবাদ করতে বারণ করেছি। প্রতিদিন আমার অফিমে ২-৩শ’ নেতাকর্মী আসে। সবার সাথে সময় কাটাই। নেতা কর্মীদের সমস্যা সমাধান করি। দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে আমার সংসার। বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমি দেরীতে বিয়ে করেছি। বিয়ের পরে নিজে স্ত্রী-সন্তাকে নিয়ে ক’দিনের জন্য কোথাও বেড়াতে যেতে পারি নাই। নারায়ণগঞ্জের আওয়আমী লীগের নেতা কর্মীদের ছাড়া আমি থাকতে পারি না। দিনের সিংহ ভাগ সময় নেতাকর্মীদের সাথেই সময় কাটাই।

প্রশ্ন: ১০ জানুয়ারির ১টি কর্মসূচী ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগের ১জন নেতা আপনার বিষয়ে অশালিন কিছু কথা বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে কিছু বলবেন?

এড. খোকন সাহা: আপনি যার কথা বলছেন-ওর বিষয়ে আমি বলতে গেলে ‘ও’ ফ্যক্টার হবে। নারায়ণগঞ্জের মেয়র তো আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন- আপনি দায়িত্বশীল পদে আছেন, দায়িত্ব নিয়ে কথা বলবেন। আমি ভাই দায়িত্ব নিয়েই সব সময় কথা বলি এবং সারা জীবন যা বলেছি দায়িত্ব নিয়েই বলেছি। আর, যার কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন তার নামের আগে যে শব্দটি আছে, তা কোন মানুষের নামের আগে হয় না, তাই তাকে আমি একজন ভাল মানুষ হিসাবে মনে করি না। উনার ১৯৯৫ সালে ১টি মামলায় জেল হয়, উনি বিএনপি আমলের রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় জেল থেকে ছাড়া পান। উনি কার কাঁধে চেপে জেলার নেতা হলেন, আমার তা জানা নাই। তবে উনাকে কারা নেতা বানিয়েছেন- তাদের ভাবা উচিৎ ছিল, উনি বিএনপি সরকারের ক্ষমায় রাজনীতির মাঠে এসেছে। তবে আমি বলবো, উনার বুদ্ধি শক্তি কম। দয়া করে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা না করে, অন্য বিষয় জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

প্রশ্ন: কয়েকদিন পূর্বে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেছেন- আপনি তার সাথে কথা না বলে, বন্দরে বিজয় দিবসের কিছু অনুষ্ঠান করেছেন? এই বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন?

এড. খোকন সাহা: আনোয়ার হোসেন সাহেব আমাদের নেতা। প্রায় ১৮ বছর যাবৎ উনি এই শহরের আওয়ামী লীগের সভাপতি আর আমি সাধারণ সম্পাদক। আমি প্রায় ২৫ বছর এই শহরের সাধারণ সম্পাদক। আনোয়ার সাহেবের পূর্বে আমার সাথে সভাপতি ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। শামীম ওসমান সাহেবের পরে প্রয়াত গিয়াস উদ্দিন সাহেবও কিছুদিন সভাপতি ছিলেন। আমি যখন দলীয় কোন কর্মসূচী পালন করি, তখন সভাপতির সাথে আলাপ-আলোচনা করেই, তা করি। উনি হয়তো পত্রিকা না দেখে মন্তব্য করেছেন। আমি বন্দরে মহান বিজয় দিবসের যে সব কর্মসূচীতে যোগদান করেছি, সেই অনুষ্ঠান গুলো আওয়ামী লীগের দলীয় ভাবে হয় নাই। অনুষ্ঠান গুলি হয়েছে ‘মহান বিজয় দিবস উদযাপন কমিটি’র পক্ষ থেকে এবং স্থাণীয়দের আয়োজনে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কোন অনুষ্ঠানে যেতে হলে কী সভাপতির অনুমতি নিয়ে যেতে হয়? এটার উত্তর আপনারাই দিন।

আমি তো বরং আনোয়ার সাহেবের ওমন মন্তব্যে কষ্ট পেয়েছি।

প্রশ্ন: আপনি বিজয় দিবসের একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন- মেয়র আইভী জামাত-বিএনপির ভোটে মেয়র নির্বচিত হয়েছে। অথচ আনোয়ার সাহেব বলেছে-খোকন সাহার বক্তব্য মিথ্যা। তাহলে কে সত্য?

এড. খোকন সাহা: আমি বিশ্বাস করতে চাই না, এমন কথা আমাদের নেতা আনোয়ার হোসেন সাহেব বলতে পারেন। যদিও স্থানীয় পত্রিকায়, তার বরাতে ওমন কথা প্রকাশ করেছে।‘মেয়র আইভী জামাত-বিএনপির ভোটেও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন’ এ কথা কিন্তু আনোয়ার সাহেব নিজেই বলেছেন। হয়তো উনার বয়সের কারণে ভুলে গেছেন। তিনি বলেছিলেন বিধায় আমিও বলেছি। আপনি ২০১৬ সালের ২৬শে আগষ্ট এর ‘নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন’ পত্রিকাটি দেখুন। ওই দিনের একাধীক সংবাদ পত্রে ওনার যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে, তা আপনারা দেখুন ‘ওনি কী বলেছিলেন’। পড়ুন – ওনি কি বলেছেন ? (এসময় খোকন সাহা সংবাদটি দেখান)
এসময় খোকন সাহা সংবাদটির উল্লেখ যোগ্য অংশ পড়তে থাকেন- আনোয়ার হোসেন সাহেব বলেছেন, ‘আইভী আমার দয়ায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। …. বিগত সিটি নির্বাচনে আইভীকে মেয়র হিসেবে জয়ী করার জন্য রাতভর মেকানিজম করেছিলাম, আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে (শামীম ওসমান) পরাজিত করার জন্য বিএনপি জামাতের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম। এখন আইভী আমাকে বেঈমান বলছে।’

খোকন সাহা ‘আমি কিন্তু আমার সভাপতি আনোয়ার সাহেবের বক্তব্য ফলো করে বক্তব্য দিয়েছি। উনি যদি বলেন- আমি ভুল তথ্য দিয়ে সেদিন বক্তব্য দিয়েছি, তা হলে আমি আমার বক্তব্য থেকে সরে দাড়াবো। দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ আনোয়ার সাহেবের সাথে আছি। উনি হয়তো ভুলে গেছেন ২০০৩ সালে সিটি আওযামী লীগের নির্বাচনের কথা? ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনের সময় আমি উনার পাশে ছিলাম। ২০১৬ সালে দল থেকে সম্মান পেতে চেয়েছেন আনোয়ার সাহেব, তখন শামীম ওসমান আর আমি তার পাশে ছিলাম। ২০১৬ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভা থেকে আনোয়ার সাহেবকে সিটি করর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সে দিন শামীম ওসমানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সভায় আনোয়ার সাহেবকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী করি এবং ২০০১ সালে বোমা হামলায় দুটি পা হারিয়ে ফেলা আমাদের বন্ধু চন্দশীলকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে কেন্দ্র প্রেরন করি। আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা মেয়র পদে আইভীকে মনোনয়ন প্রদান করেন, আমরা তা মেনে নেই। আনোয়ার সাহেব অসুস্থ হয়ে ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেইদিন শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান, আমি ও চন্দনশীল ল্যাব এইড হাসপাতালের বাইরে ছিলাম। শ্রদ্ধেয় আনোয়ার সাহেব মেয়র পদে মনোনয়ন পায়নি বিধায় অসুস্থ হয়েছেন, এটা আমরা অনুধাবন করি। তাৎক্ষনিক ভাবে আমাদের বন্ধু চন্দন শীল সকলের উদ্দেশ্য বলেন, আমি জেলা পরিষদের নির্বাচন করোবা না। আপনারা সবাই আনোযার ভাইকে চেয়ারম্যান করুন। আনোয়ার ভাইকে সম্মান করুন। সেই মুহুর্তে আমরা কেন্দ্রকে জানালাম চন্দন শীল নয় আনোয়ার হোসেন আমাদের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রার্থী। যদি তিনি ওই পদের জন্য কোন মনোনয়ণ চাননি। জেলা পরিষদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় আনোয়ার সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে বললেন। আমার প্রস্তাবক ও সমর্থনকারী নাই। তুমি শামীম ওসমানের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা করো। আমি সাথে সাথে শামীম ওসমানের সাথে কথা বলে তার নির্দেশনা মোতাবেক আমি প্রস্তাবক ও সমর্থনকারী ঠিক করে দেই। আনোয়ার সাহেবের শিষ্য শামীম ওসমান, আনোয়ার সাহেবকে চেয়ারম্যার পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আনোয়ার সাহেব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন এবং নির্বাচন হবার পর পরই তিনি সব কিছু ভুলে যান। আনোয়ার সাহেব রাজনীতিতে ১৯৭৫ সালের পর অনেক নির্যাতন ভোগ করেছেন, সব স্মৃতি, সব কথা ভুলে যাওয়া অসম্ভব নয়। সাম্প্রতিক কারণে আমি যা বক্তব্য রেখেছি তা আনোয়ার সাহেবকে অনুসরণ করে বক্তব্য দিয়েছি। আনোয়ার সাহবের সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

প্রশ্ন: আপনি আগামী দিন গুলোতে কি চান?

এড. খোকন সাহা: চাওয়া-পাওয়ার জন্য রাজনীতি করিনা। আমি মানুষের পক্ষে কথা বলি। জীবন চলার পথে আমার অনেক প্রাপ্তি, যা কিছু হয়েছে তা আমার নেত্রীর জন্য। চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নাই।

প্রশ্ন: এ বছরই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন, এ বিষয়টি নিয়ে কিছু বলুন
এড. খোকন সাহা: আমি চাই দোষে গুনে মানুষ মেয়র আইভী ও তার পরিবারের পক্ষে অতীত কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুক এবং মেয়র আইভী নেত্রীর কাছ থেকে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার জন্য মনোনয়ন আনুক। আমি নেত্রীর গোলাম হিসেবে মেয়র আইভীর জন্য কাজ করবো।

প্রশ্ন: দাদা, নারায়ণগঞ্জে প্রায় অর্ধশত বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন আপনার, নতুন প্রজন্মের জন্য যদি জানাতেন কিছু..
এড. খোকন সাহা: আমাদের নেতা সততার কিংবদন্তি একেএম শামছুজ্জোহা, আনসার আলী, নাজিম উদ্দিন মাহমুদ, শহীদ মনির হোসেন মনির ভাইয়ের রাজনৈতিক দর্শন থেকে অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহন করেছি। আপনারা জানেন দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের সারা বাংলায় কিছু বদনাম হয়েছিলো। নারায়ণগঞ্জে এর ব্যতিক্রম নয়। বেশী দায়িত্ব নিয়ে কথা বলার জন্য যারা আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি বলবো দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছি। বেশী চুলকাবেন না। বলে দিবো কারা ১৯৭২ সালে লুট করেছিলো এই নারায়ণগঞ্জে, স্বাক্ষী প্রমান নিয়ে বলবা। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত কাদের সম্পত্তি দখল করেছেন তা নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশের সকল মানুষকে বলে দিবো। আমার সহধর্মীনির দিকে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকাবেন এটা ঠিক না। আমার সহধর্মীনি সাধারণ একজন মানুষ, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি আমাকে বলেছেন, আমি যেন উত্তেজিত না হই। ভালো হয়ে যান। যারা রাজনীতি কারে না, তাদের দিকে রক্তচক্ষু করে তাকিয়েন না। আমি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কাউকে ভয় পাইনা। সত্য চিরদিন সত্য, এটা আমি বিশ্বাস করি।
২০১৬ সালে গণভবনে আমি নেত্রীকে বলেছিলাম, আপা আমি ভাস্তিকে ‘মা’ বলবো না অন্য কিছু বলবো, তা বলে দেন। স্বাক্ষী আনোয়ান হোসেন সাহেব, শামীম ওসমানসহ প্রায় ত্রিশজন। পরিশেষে বলবো, আমি মেয়রের জন্য দোয়া করি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মীদের অবমূল্যয়ন না করে মূল্যয়ণ করুন।

আরো কিছু প্রশ্ন করার জন্য তৈরী হচ্ছিলাম। তিনি আমাদের বিনয়ের সাথে বললেন আমি গাছ তলায় বসে রাজনীতি করি। ঠান্ডার ভিতর আমার নেতা কর্মীরা বসে আছে। তাদের সময় দিতে হবে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বলে বিদায় জানালেন।

0