না.গঞ্জের ‘সোলাস্তা’য় কেনাকাটার হিরিক কেন?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আগামী ২০২২ সালের ঈদুল ফিতর উৎযাপন হবে মে মাসে। তার মাস খানেক আগে বিপনী বিতান গুলোতে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়বে সবার। কিন্তু ৬ মাস পূর্বেই ‘ঈদের মতো-ই’ সেই কেনাকাটার যেন ‘ধুম’ পড়েছে; নারায়ণগঞ্জ নগরীর সদ্য উদ্বোধন হওয়া ফ্যাশন হাউজের শো-রুমে।

বঙ্গবন্ধু সড়কের নূর মসজিদ এর পাশেই সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে ‘সোলাস্তা’ নামক ওই শো-রুমে গিয়ে এমন দৃশ্য নজর কাড়ে। এমন হিরিক পড়ার রহস্য জানতে কাউন্টারে কয়েকবার চেষ্টা করেও কথা বলা যাচ্ছিলো না ক্রেতাদের চাপে। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দ্বারস্থ হতে হয় এই প্রতিবেদককে। তিনি জানালেন, ‘উদ্বোধন উপলক্ষে প্রায় ১০ হাজার পণ্যে ৫০ শতাংশ মূল্য ছাড় দেওয়ার কারণে, এই কেনাকাটার হিরিক’।

‘সোলাস্তা’ শব্দটি ল্যাটিন বা রোমের। অর্থ হচ্ছে ‘ঝলমলে, উজ্জ্বল বা জীবন্ত’। ২০২০ সালে জানুয়ারিতে এই নামটি নিয়ে-ই রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করে। উদ্যোক্তা মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান। ‘সোলাস্তা’ ব্র্যান্ডটি ধীরে ধীরে নিজেদের স্বকীয়তায় রাজধানীবাসীর আস্থা অর্জন করে। জনপ্রিয় হয়ে উঠায় ব্র্যান্ডটির দ্বিতীয় শো-রুম যাত্রা শুরু করে ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালের বিপরীতে নিজেস্ব জমিতে। চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জেও এর আউটলেট এর অনুরোধ আসতে থাকে। অবশেষে ‘সোলাস্তা’ ব্র্যান্ডটির তৃতীয় শো-রুম প্রায় ৩৬০০ স্কয়ার বর্গফুট ফ্লোর নিয়ে যাত্রা শুরু করে নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়কের নূর মসজিদের পাশে।

মডেল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান ২৮ নভেম্বর কেক ও ফিতা কেটে শো-রুমটির উদ্বোধন করেছেন। এর আগে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে নগরীতে একটি র‌্যালি করেছে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।

নারী, পুরুষ এবং শিশু-কিশোরদের পোশাকের যত ধরণ রয়েছে, তার সকলই রয়েছে শো-রুমটিতে। শাড়ী, পাঞ্জাবী, কুর্তি, থ্রি, পিস, সালোয়ার কামিজ, শার্ট-প্যান্ট, ডেনিম জ্যাকেট, সোয়েটার, জুতা, বেল্টসহ সব ফ্যাশেনের সব কিছুই রয়েছে।

কোথা থেকে কি ভাবে আসে ‘সোলাস্তা’র পণ্য?
আগামী ২ বছর পর কেমন রং মানুষ পছন্দ করবে, পোশাকের ফ্যাশন কতটা পরিবর্তন হবে, স্থানীয় মানুষের শরীরের কাঠামো কেমন? এমন ছোট ছোট বিষয় গুলো বেশি প্রধান্য দিয়ে ‘সোলাস্তা’র নিজেস্ব ডিজাইনাররা প্রথমেই পণ্যের ডিজাইন করেন। এরপর সেই ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় ফ্যাব্রিক্স বা কাপড়। মিরপুর-১০ এর নিজেস্ব জমিতে অবস্থিত কারখানায় ২০০ জনের দক্ষ হাতে পণ্য গুলো তৈরি হয়। সেখান থেকে চলে আসে ‘সোলাস্তা’ এর শো-রুম গুলোতে। ৩টি শো-রুমেই ২৫ জন করে ৭৫ন জন বিপনন কর্মী ‘সোলাস্তা’র পণ্য পৌছে দেয় ক্রেতার হাতে।

‘তুমি যেটা আছো, সেটাই হও, কিন্তু নতুন করে তুমি হও। ধোকা বাজির ভীড়ে বা মিষ্টি কথার ছলনা থেকে বেড়িয়ে এসো’- নারায়ণগঞ্জের ফ্যাশন প্রিয় বাসিন্দাদের প্রতি এমন বার্তা দিয়ে সোলাস্তা’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সামসুল হক রিপন বলেন, আমাদের যে পণ্য গুলো আছে, যারা ব্যবহার করবে, তারাই শুধু বুঝতে পাড়বে এটার রং, কাপড়, ডিজাইন এবং ফিটিং কেমন? আমি বলবো অন্য যে কারো কালেকশনের চেয়ে ভিন্ন। কারণ আমরা পণ্য গুলো তৈরি করতে গিয়ে মানুষের শরীরের কাঠামো, গায়ের রং, পছন্দ ও সময়কে প্রদান্য দেই। পাশাপাশি আগামীর ফ্যাশেন নিয়ে ভাবি। তাই আমি বলি না, ‘সোলাস্তা’ বাংলাদেশের ফ্যাশেন হাউজ, এটা পুরো পৃথিবীর একটি ফ্যাশন হাউজ। নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে আমরা যে সাড়া পেয়েছি, তা ভাবতেও পারিনি।

কখন খোলা থাকবে, কখন বন্ধ?
নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য মার্কেটের মতোই ‘সোলাস্তা’ খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। অন্য মার্কেটের মতোই সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে শুক্রবার।