না.গঞ্জের ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে শান্তিরচর নীটপল্লীতে

0

স্টাফ করেসসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মদনগঞ্জের শান্তিরচর এলাকায় প্রায় ১৫’শ একর জমি নিয়ে প্রস্তাবিত নীটপল্লীর বাস্তবায়ন করলে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থায় হবে। এমন টাই জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমান।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সহযোগীতা কামনা করেছেন সেলিম ওসমান। এ ব্যাপারে এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন।

শনিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় এফবিসিআইএর এর সভাপতি জসিম উদ্দিনকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মত বিনিময় সভায় এমপি সেলিম ওসমান এফবিসিসিআই এর সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাত্র ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকে বন্দরের শান্তিরচরে নীটপল্লীর অনুমোদন দিয়েছেন। প্রায় ৩০০ একর জমি নীটপল্লী বাস্তবায়নের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু কি কারনে জানিনা দীর্ঘ দিনের নীট পল্লীর বাস্তবায়ন কাজ এগুচ্ছে না। এখানে শিল্প অঞ্চলটি গড়ে উঠলে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্ম সংস্থান হবে। এছাড়াও নানা বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যদি এফবিসিসিআই এর এ বিষয় গুলো নিয়ে কাজ করেন তবে আশা করি নীটপল্লী বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, এক সময় আমাদের নারায়ণগঞ্জে পাট ছাড়া কিছুই ছিলো না। পাটের পাশাপাশি আমরা কিন্তু টেক্সটাইলের উপর গুরুত্ব দিতে পারি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে আমাকে ডেকে বলেছিলেন, সমস্ত কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জে রেখে, তারপর তোমরা করো। আমরা আমাদের অক্রান্ত পরিশ্রমে এই বিকেএমএ সংগঠনটি শীর্ষে তুলতে পেরেছি। এদিকে চিত্ররঞ্জনের যায়গাটা পরে আছে, ওইটা নিয়ে সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া আছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের উপকারের জন্য আমি একটি ফেডারেশনের ব্যবস্থা করতে চাই। নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক স্থিতিশিলতা কম থাকায় আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছি।

পরিপ্রেক্ষিতে এফবিসিআইএ এর সভাপতি জসিম উদ্দিন নীটপল্লী বাস্তবায়নের ব্যাপারে এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর সাথে যোগযোগ করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে তা বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সরকার প্রদত্ত এসএমই ঋণের আওতায় আনতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের মাধ্যমে কাজ করবেন বলেও তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সকে সাথে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসা বাণিজ্য আরো প্রসার ঘটাতে এফবিসিসিআই কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে আগামী শনি বা রবিবার নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দদের সাথে একটি সেমিনার করবেন বলে মত বিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়াও এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের অক্সিজেন সিলিন্ডার সহ করোনা রোগীদের জন্য জরুরি সেবা সামগ্রী প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, চেম্বার যে সেলিম ভাইয়ের নেতৃত্বে কাজল ভাইয়ের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১২ সালে আমি যখন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম তখন কিছু কিছু এসোসিয়েশনকে টাকা দেয়া হয়েছিলো। করোনাটা এমন অবস্থায় চলে গেছে। আমরা মাস্ক কে বাধ্যতামুলক করার জন্য আমরা একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছিলাম। তখন আবার অক্সিজেনের সংকট দেখা দিয়েছিলো। এ জন্য নিজেরাই প্রায় ৫ কোটি টাকার জিনিস পত্র কিনেছিলাম।

মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই এর সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, বাংলাদেশ পালস্ এন্ড ল্যানটিল ক্রাশিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুলতান উদ্দিন নান্নু, বাংলাদেশ পাট আড়ৎদার সমিতির ফয়েজ উদ্দিন লাভলু, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান স্বপন, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি (অর্থ) মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, আকতার হোসেন সোহান প্রমুখ।

0