না.গঞ্জের ৩ নদী দখলে ১১৮ স্থাপনা, উচ্ছেদ অভিযান এ মাসে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: চলতি মাসেই শুরু হবে নারায়ণগঞ্জ নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান। ইতিমধ্যে অভিযান শুরুর প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে এনেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তৈরি করা হয়েছে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদী দখলকারী ১১৮টি স্থাপনার তালিকা। এ তালিকায় রয়েছে প্রভাবশালীদের ডকইয়ার্ড, কাঁচাবাজার, রাইসমিল, স’মিলসহ বিভিন্ন কলকারখানা। নদীর জমিতে ইট, বালুসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যও চলছে।

তবে এ তালিকায় অনেক প্রভাবশালী দখলদারদের নাম নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, এ জেলায় ৫ হাজার ১১টি সীমানা পিলার রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই নদীর জমিতে বসানো। এসব পিলারের ভেতরে থাকা স্থাপনাগুলো ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে অনেক অবৈধ স্থাপনা এ দফায় পার পেয়ে যাবে।

এর আগে এ বছরের ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা নদী বন্দরের আওতাধীন রাজধানী, কেরানীগঞ্জ, টঙ্গী ও সাভার এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের আওতাধীন। এ বন্দরের আওতাধীন এলাকায় ৫ হাজার ৬১৩টি পিলার স্থাপন করে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজার ১১টি ও মুন্সীগঞ্জে ৬০২টি। তবে নারায়ণগঞ্জের ২ হাজার ১৯৮টি পিলার সঠিক স্থানে না বসিয়ে নদীর জমিতে বসানো হয়েছে বলে আপত্তি জানায় বিআইডব্লিউটিএ। পরে ২০১৭ সালে আগস্টে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের সমন্বয়ে যৌথ জরিপ শুরু হয়েছে, যা এখনও চলছে।

জরিপের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫ হাজার ১১টি পিলারের প্রায় সবই নির্ধারিত স্থানে বসানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শুধু পিলারের ভেতরে থাকা স্থাপনার তালিকা তৈরি করেছে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই তালিকা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক ও নারায়ণগঞ্জ বন্দর কর্মকর্তা গুলজার আলী বলেন, আরএস, সিএস ও জিপিএসের মাধ্যমে আমরা নদীর সঠিক সীমানা নির্ধারণে যৌথ জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছি। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানও চলবে। জরিপ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আরও যেসব অবৈধ স্থাপনা পাওয়া যাবে সেগুলো ভাঙা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দু-একদিনের মধ্যেই মুন্সীগঞ্জের মীরকাদিম এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। এরপর নারায়ণগঞ্জ এলাকায় উচ্ছেদ শুরু হবে। ইতিমধ্যে অবৈধ দখলদারদের নোটিশও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা নদী বন্দরের আওতাধীন এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালিকায় দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রয়েছে তরিকুল ইসলাম ডকইয়ার্ড, আলম মেরিনার্স শিপ বিল্ডার্স, তুহিন ডকইয়ার্ড ও নারায়ণগঞ্জ সদরে রয়েছে মিসুই শিপ বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার ডকইয়ার্ড।

এছাড়া তালিকায় রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অনেক পাকা স্থাপনা। চলছে রমরমা ইট-বালুর ব্যবসাও। শুধু রূপগঞ্জ এলাকায় অর্ধশতাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে নদীর জমিতে। এসব প্রতিষ্ঠানের কেউ নদীর ৫ হাজার বর্গফুট, কেউ দশ হাজার বর্গফুট এলাকা দখল করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। একইভাবে বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও সদর এলাকায় অনেক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা রয়েছে অবৈধ দখলদারের তালিকায়।

0