না.গঞ্জের ৮২ বস্তির মানুষ করোনা ভাইরাসের আশংকায়!

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: টিনের ছাউনি বা বাঁশের বেড়ার কাঁচা ঘর। আয়তনও খুব বেশি নয়। সেই ছোট আয়তনের ঘরেই বসবাস করছে তিন থেকে পাঁচজন করে। নারায়ণগঞ্জের ৮২টি স্থানে এভাবেই জীবনযাপন বস্তিবাসীর। পরিবহন, বাসাবাড়ি বা দিনমজুরের কাজ করে দিনাতিপাত করা এসব মানুষের আয়ও সীমিত। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে হোম কোয়ারেন্টিনসহ যেসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবতার কারণেই এর অনেক কিছু মেনে চলা সম্ভব নয় তাদের। অথচ জীবন-জীবিকার তাড়নায় বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংস্পর্শে আসতে হচ্ছে তাদেরই সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনা তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জে এখন বস্তির সংখ্যা ৮২। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকা, পৌরসভা এলাকা রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন গুলোতেও রয়েছে বেশ কিছু।

বিবিএসের পরিসংখ্যানে বলা হয়, এসব বস্তিবাসী ও ভাসমান খানাগুলোর গড় সদস্য সংখ্যা ৩ দশমিক ৭৫ জন করে। এসব বস্তির বাসিন্দা ও ভাসমান মানুষগুলোর অনেকেরই কভিড-১৯ সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা না থাকলেও এ নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে ঠিকই। তারা জানেও না, কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। যেখানে ছোট আয়তনের ঘিঞ্জি ঘরগুলোয় গাদাগাদি করে বসবাস করছে কয়েকজন মানুষ, হোম কোয়ারেন্টিন প্রয়োগের আলাপ সেখানে বাতুলতা মাত্র। ফলে এসব বস্তি এলাকায় কেউ আক্রান্ত হলে নিঃসন্দেহেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়বে করোনা।

এছাড়া উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে হাতুড়ে ও প্রতারকদের ধোঁকায় পড়ার ঝুঁকিও তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়লে এর প্রথম শিকারও হবে তারা। ফলে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব ছাড়াও তাদের জীবনে আরো নানাভাবে নানা সংকট নিয়ে আসতে পারে নভেল করোনাভাইরাস।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, সাধারণ মানুষের চেয়ে ছিন্নমূল ও বস্তিবাসীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। যদিও তারা এটার জন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়। এ অবস্থায় আগে থেকেই তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিল। সুরক্ষা উপকরণগুলো আরো দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আবার বিদেশফেরতরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। দরিদ্র মানুষগুলোকে তাদের সংস্পর্শে আসাটা রোধ করতে হবে। বিদেশফেরতরা হোম কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো না মানায় এখন উদ্বেগের অনেক কারণ রয়েছে। এটিকে যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক ভালো থাকতে পারবে। তবে শুধু ছিন্নমূল নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।

বস্তিবাসী ও ভাসমান মানুষদের এসব ঝুঁকি সিটি করপোরেশনের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ বেশি কয়েকটি বড় বস্তি রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে। এসব বস্তিবাসীর করোনা সংক্রমণ শনাক্ত করা এ মুহূর্তে বেশ মুশকিল। এছাড়া দেশে করোনা শনাক্তে ব্যবহূত কিটের সংখ্যাও অপ্রতুল। সব মিলিয়ে বস্তিবাসীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0