নারায়ণগঞ্জে করোনায় ১নারীর মৃত্যুতে লকডাউনে শত পরিবার

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: করোনা আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে৷ মৃত নারীর নমুনা পরীক্ষা করে তার দেহে করোনা সংক্রমনের প্রমাণ পায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

২ এপ্রিল এ তথ্য দেয়া জানিয়ে সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এর সংবাদের তথ্য প্রমান যাচাই বাছাই করে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের রসূলবাগ এলাকাকে ‘লকডাউন’ করে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সোয়া ১১টায় এ ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে, নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জ এলাকাটি পরিদর্শন করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের বন্দর রসূলবাগ এলাকায় বাসিন্দা ওই নারীর বয়স ছিল ৫০৷ গত ২৯ মার্চ করোনার উপসর্গ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে ঢাকায় নিয়ে যাবার পরামর্শ দেন চিকিৎসক৷ পরে ৩০ মার্চ তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ ওইদিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সেদিনই তাকে দাফন করা হয়। মৃত ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর৷বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পরীক্ষা শেষে সংগৃহীত নমুনায় করোনা সংক্রমনের প্রমাণ পাওয়া যায়৷

জেলা সিভিল সার্জন, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বন্দরের রসূলবাগ এলাকায় অবস্থান, এলাকা ঘুরে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন লকডাউনের।

রসুলবাগ এলাকার জামাল সোপ কারখানা হতে রসুলবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কটি লকডাউন থাকবে। এর আওয়াতায় সড়কের দুই পাশে সবকিছু বন্ধ থাকবে। কোন লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না। প্রায় ১০০ পরিবারের বসবাস ওই এলাকায় সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ওই নারীর যে বাড়িতে থাকতেন আমরা সেই এলাকায় গিয়ে লকডাউনের সিদ্ধান্তা নিয়েছি৷ তার পরিবারের কেউই বিদেশ ফেরত ছিলেন না৷ আক্রান্ত হওয়ার সোর্স নিশ্চিত করা যায়নি৷। শুক্রবার ওই নারীর পরিবার ও আশেপাশের লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। লকডাউন থাকা অবস্থায় ২৩ নং ওয়ার্ডের রসূলবাগে শুধু ঔষধের দোকান এবং অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে। এছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে ওয়ার্ডটি থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না এবং সেখান থেকে বেরও হতে পারবেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাবার বিষয়টি সঠিক৷ এঘটনায় ১০০ পরিবার লকডাউন এর আওতায় রয়েছেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতায় ৫টি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন থাকবে। এছাড়াও ইউএনও, সিভিল সার্জন, ওসি, কাউন্সিলর ও জেলা প্রশাসনের ফোন নাম্বার দেওয়া হয়েছে। এসব নাম্বারের যেকোন প্রয়োজনে জানালে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেবা ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবেন না।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজের নেতৃত্বে এ সময়- বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার, জেলা করোনাভাইরাস ফোকাল পারর্সন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদের, র‌্যাব-১১ সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দুলাল প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত কবির ফাহিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

0