“এরশাদ বলেছেন না.গঞ্জে কোন দল নাই, আছে ওসমান লীগ আর পার্টি”

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান অসুস্থ্য।

শনিবার রাতে তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশের উদ্দেশ্য রওনা হবেন।

এর আগে শনিবার (১৮ জানুয়ারী) দুপুর ১টায় ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে অবস্থিত উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর অভ্যন্তরে নারায়ণগঞ্জ, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওতাধীন ৭টি ইউনিয়ন এলাকায় সরকারী বরাদ্দে উন্নয়ন কার্যাক্রম নিয়ে বন্দর উপজেলা ও ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিয়ে আলোচনা সভায় অংশ নেন।

শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হওয়ায় এবং জায়গা সংকুলনের কারনে দুটি সভাই একত্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৬ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সবাই সহ নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি আবারো ৪টি থানা এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনায় বসবেন।

মত বিনিময় সভায় এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশের উন্নয়নে আওয়ামীলীগ সরকারকে সহযোগীতায় জাতীয় পার্টি ভূমিকার জন্য প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে আমাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনীত করেছেন। আমাদের নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি আর আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নাই। সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বলে গেছে নারায়ণগঞ্জে কোন দল নাই। আছে শুধু ওসমান লীগ আর ওসমান পার্টি। আমরা নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগের এই সুসম্পর্ক ধরে রাখতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই। যাতে করে ভবিষ্যতে অন্যকোন দল ক্ষমতায় আসলে আমাদের জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামীলীগের একটা কর্মীকেও হয়রানির শিকার না হতে হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগ একত্রে নির্বাচন করেছে। নির্বাচিত হয়েছি। জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার সবাই সরকারের কাছ থেকে সম্মানী ভাতা পাই। এই ভাতার উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় সাধারণ জনগন, ভবিষ্যত প্রজন্ম সুখে শান্তিতে থাকতে পারে। জনপ্রতিনিধিদের কোন দল হয়না। উন্নয়নের স্বার্থে আমাদের কোন দল নাই। অতীতে সকলের ভূলভ্রান্তি ভুলে গিয়ে আমরা সবাই একত্রে মিলে কাজ করবো।

তিনি আরো বলেন, এখন আর শুধু বন্দর নিয়ে নয় নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করবো। আর এর প্রতিটি থানা এলাকায় জাতীয় পার্টির আলাদা কার্যালয় করা হবে। তবে সেখানে নির্দলীয় ভাবে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অত্র এলাকার নেতৃবৃন্দরা আমার কাছে কার্যালয় করতে কি কি প্রয়োজন সেই প্রণদনা দিবেন।

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী মুজিববর্ষ পালন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি। আমরা জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী পালন করবো। আমরা নারায়ণগঞ্জ, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা থানা এলাকায় পৃথক পৃথক এবং সবাই একত্রিত ভাবে নারায়ণগঞ্জে জন্মবার্ষিকীর উৎসব পালন করবো।

মহানগর পার্টির সানা উল্লাহ সানুর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ রশিদ, মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আমিনুল হক প্রধান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি কাজী মহসিন, ১৯নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি পলি বেগম, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, মদনপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল খায়ের বাশার, ধামগড় ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি কামাল হোসেন, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, বন্দর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি সাহাবুদ্দিন সাবা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এরশাদ, গোগনগর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মোক্তার হোসেন, জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা সেচ্ছাসেবক পার্টির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জেলা যুবসংহতির আহবায়ক রাজা হোসেন রাজু, শহর যুবসংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন ভাওয়াল, বন্দর উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি শফিকুল ইসলাম সহ ৬ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

0