না.গঞ্জে দুর্নীতি-চোরাচালানে জড়িত বন্ডের ৪ কোম্পানি

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এবার নারায়ণগঞ্জে ৪টি লুটেরা কোম্পানিরও সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা বছরের পর বছর সরকারের বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। দেশীয় কোম্পানির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তারাই বিদেশি পণ্যের একচেটিয়া বাজার গড়ে তুলেছে। এতে একদিকে যেমন বেশুমার রাজস্ব ফাঁকি চলছে, অন্যদিকে অসম প্রতিযোগিতায় ফেলে দেশীয় শিল্প-কারখানাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বন্ড সুবিধা ব্যবহার করেই চিহ্নিত কোম্পানিগুলো সরাসরি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকছে। ধ্বংস করছে দেশের শিল্প-বাণিজ্য খাতকে। তবু বরাবরই তারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বন্ডেড সুবিধাপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জের ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও চোরাচালানে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বন্ড মাফিয়াদের সহায়তায় এসব কোম্পানিও রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের মচ্ছবে মেতে ওঠে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, লুটেরা ৪ কোম্পানির বেশির ভাগই ভুঁইফোড়। তারা কার কার সহায়তায় কীভাবে বন্ড সুবিধা জুটিয়ে নিয়েছিল সে ব্যাপারে কোনো বিবরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টিকারী চক্রকে এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। শাস্তির আওতায় আনাও সম্ভব হচ্ছে না তাদের। ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি, চোরাচালানে জড়িত বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধার অপব্যবহারকারী নারায়ণগঞ্জের ৪টি কোম্পানিকে রাজস্ব আয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দুই-নম্বরি কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কোম্পানিগুলোয় নিরীক্ষা করে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ও ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। কিছু কোম্পানির অস্তিত্ব নেই, আবার বন্ধও পাওয়া গেছে। আরও কিছু কোম্পানির নিরীক্ষা চলছে। এসব ভুঁইফোড় কোম্পানি শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানি করে কালোবাজারে বিক্রি করছে। এই ৪টি কোম্পানিসহ ২৯টি কোম্পানির বন্ডেড ওয়্যার হাউস সুবিধাপ্রাপ্ত কোম্পানিকে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে একটি তালিকা করেছে শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট (সিভিসি)। সংস্থাটি এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের এবি সোয়েটারস এবং নারায়ণগঞ্জের এ অ্যান্ড এইচ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ প্রতিষ্ঠান ২টির পুরো বন্ডিং কার্যক্রম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের এ ওয়ান পোলার ও নারায়ণগঞ্জের এ কে ফ্যাশন। এ ২ প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদন শিগগিরই দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘বন্ডের অপব্যবহারকারীদের মুখোশ দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা হবে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্ডেড সুবিধা অপব্যবহারকারী ৬০ থেকে ৭০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছি। বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানায় কাস্টমসের অভিযান চলছে।’

১,০৬০
0