না.গঞ্জে নৃশংস খুনের ঘটনা বেড়েছে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দেহ থেকে মাথাটা আলাদা। খুনের পর মাথাটা আলাদা করে রাখা হয় পায়ের কাছে । রক্ত রঞ্জিত বিছানা । প্রথম দেখাতেই যে কেউ আতকে উঠবে। এরকম নৃশংসভাবে খুন করা হয় সোনারগায়ের মসজিদের ইমাম দিদারুল ইসলামকে। মসজিদের ভেতরেই জবাই করে হত্যা করা হয় তাকে। ফজরের নামাজের সময় মুসল্লিরা নামাজের এসে ইমামকে না পেয়ে নিজেরাই নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা ইমামের শয়ন কক্ষে ফ্যানের শব্দ শুনে এগিয়ে গেলে ওই ঘরে ইমামের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়
ঘটনাটি গত ২১ আগষ্ট রাতের যে কোন সময়ের । পরের দিন ২২ আগষ্ট পুলিশ নৃশংস খুনের শিকার ইমামের গলাকাটা লাশ উপজেলার মল্লিকপাড়া এলাকার নারায়ণদিয়া বায়তুল জালাল জামে মসজিদের একটি রুম থেকে উদ্ধার করে।
এর আগের দিন ২০ আগষ্ট একই কায়দায় নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করা হয় ফতুল্লার শাহীবাজার এলাকার নৈশ প্রহরী আবুল কালাম আজাদকে (৫০)
সবশেষ শুক্রবার রাতে নগরীর দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকায় ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি সোলায়মান হোসেন অপুকে (২৮)
সূত্র জানায়, হঠাৎ করে নারায়ণগঞ্জে বেড়ে গেছে নৃশংস খুনের ঘটনা। এমনকি খুনের উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে ঘটনা বেড়েছে অনেক।
সোনারগাঁয়ে ইমামকে গলা কেটে খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, এখানে সে রুমে ছিল। সেখানে পুরাতন তালা খুলে নতুন তালা লাগিয়ে যায়। তাতে আমরা মনে করছি, কোনো একটি চক্র উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে তাকে খুন করেছে।
এসপি বলেন,খুলনার তেরখাদা এলাকা নিহত ইমামের বাড়ি। সে (ইমাম) বেশি দিন হয়নি এখানে এসেছে। যার মধ্যে ঈদের ছুটিতে ৭ দিন নিজ বাড়িতে ছিলেন। আমরা সব কিছুই খতিয়ে দেখছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না সে কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় মসজিদের ভেতর থেকে দিদারুল ইসলাম নামে ইমামকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ বলছে এটি একটি ক্লুলেস মার্ডার। নিহতের বড় ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে সোনারগাঁও থানায় ওই মামলা দায়ের করেনতবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখনও কোন ক্লু নেই। তবে আশার আলো দেখছি। আমরা তিনটি মোটিভ ধরে তদন্ত করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই হত্যাকান্ডের রহস্য বের করতে পারবো।
গত শুক্রবার রাতে ফতুল্লার দেওভোগে সন্ত্রাসীরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে সোলেয়মান হোসেন অপু(২৮)নামক এক ইলেক্টিক মিস্ত্রিকে। ফতুল্লা মডেল থানা সীমান্তে দেওভোগ নাগবাড়ী মন্দির এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত অপু ফতুল্লা থানার দেওভোগ তাতিপাড়া এলাকার আজিজ মিয়ার ভাড়াটিয়া রমজান মিয়ার পুত্র। গতকাল শনিবার দুপুরে নিহতের পিতা রমজান মিয়া ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন । মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়েছে।
নিহত অপু দেওভোগ তাঁতীপাড়া এলাকার আজিজ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া রমজান মিয়ার ছেলে। তিনি মন্ডলপাড়ায় কাশেম ডেকোরেটরে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করত। নিহত অপুর বাবা রমজান ও মা শাহানার অভিযোগ পাওনা টাকা নিয়েই অপুকে হত্যা করা হয়। পুলিশ হত্যাকান্ডের পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পারভেজ নামে এক যুবককে আটক করেছে।
ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, এসব হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন ভাবে ঘটছে। তবে এসব অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে বা হচ্ছে। এছাড়া আগামীতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে।
গত ২১ আগস্ট ফতুল্লার পাগলা শাহিবাজার এলাকায় আবুল কালাম (৫০) নামে নৈশপ্রহরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করতে আসলে নৈশপ্রহরী বাধা দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের। পুলিশ নৈশ প্রহরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে।
গত ১২ আগস্ট ঈদের রাতে ফতুল্লার পাগলা এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হয় রাকিব (২০)। তার গলা, ঘাড়, বুক ও পেট সহ দেহের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে সন্ত্রাসীরা।নিহত রাকিব ফতুল্লার নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার মজিদ হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া নওশেদ বেপারীর ছেলে।
হত্যাকান্ডের সময় রাকিবের সঙ্গে থাকা বন্ধু আব্দুল্লাহ জানান, ভোর ৪টায় কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফিরছিল রাকিব ও আবদুল্লাহ। তাদের বহন করা রিকশা পাগলা রেলস্টেশন এলাকায় আসলে একই এলাকার মানিক সহ ৪/৫ জন পথরোধ করে রিকশাটি আটকায়। তখন দুর্বৃত্তরা রাকিবকে চোর আখ্যায়িত করে ধাওয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এঘটনায় ৪ জন গ্রেফতার হয়েছে। এদের মধ্যে প্রধান আসামী মানিক ওরফে গিয়ার মানিককে গ্রেফতারের পরই সে হত্যার দ্বায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
গত ১০ আগস্ট ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জুম্মন নামে এক যুবককে। নিহত জুম্মন কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া রঘুনাথপুর এলাকার কাইয়ূমের ছেলে। শাবল দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।
গত ২৮ জুলাই ভোররাত সাড়ে ১২টায় ফতুল্লার দেওভোগ হাশেমনগর এলাকায় মো. শাকিল (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।রাত ১২টায় তিনি শহরের ২নং রেল গেইট এলাকা থেকেমোটরসাইকেলে বাংলাবাজার বাসায় ফেরার পথে দেওভোগ হাশেমনগর এলাকায় একদল মুখোশধারী যুবক পথরোধ করে তাকে এলোপাথাড়ি কোপায়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

0