না.গঞ্জে বেশির ভাগ ইটভাটাই অবৈধ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বেশির ভাগ ইটভাটাই অবৈধ। ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া চলা এসব ভাটায় প্রতিবছর হাজার হাজার টন কাঠ, কয়লা পোড়ানো হয়। এ জন্য উজাড় হচ্ছে বন। কৃষিজমির পাশে গড়ে তোলা এসব ভাটার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় বৈধ-অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৩৪৪। যার ২৫৪টিই চলছে অবৈধভাবে। আর বৈধ ইটভাটার সংখ্যা মাত্র ৯০টি।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় থাকা অবৈধ ইটভাটার মধ্যে শুধু সদর আর রূপগঞ্জেই রয়েছে ২১৯টি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে এসব ইটভাটা। কম উচ্চতার চিমনিতে ইট পোড়ানো হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, বসতি এলাকা, ফসলি জমি, নদীর তীরে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা। ফলে মানুষের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি আশপাশের জমির ফসল, গাছপালা মরে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার বক্তাবলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটার চিমনির কালো ছড়িয়ে চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন। সেখানে বৈধ-অবৈধ সব ধরনের ইটভাটা থেকেই কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। জিগজ্যাগ কাঠামোতে তৈরি বৈধ ইটভাটাগুলো থেকে কালো ধোঁয়া কম বের হতে দেখা গেছে।

ইটভাটার কালো ধোঁয়ার গ্যাসে মাথা ঘোরানো, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন আশপাশের এলাকার লোকজন।

তাই গত ২৬ নভেম্বর অবৈধ ইটভাটা বন্ধে এক রিট মামলার সম্পূরক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ এক আদেশ দিয়েছে।

সেখানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এলাকায় যেসব ইটভাটা অবৈধভাবে বা পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে চলছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সেগুলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের পরিদর্শক মঈনুল হক জানান, জেলায় চার শতাধিক ভাটা আছে। এর ৩০ ভাগের বেশি অবৈধ। কালো ধোঁয়া বের হওয়ায় রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে দুটি ভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এবি সিদ্দিকী বলেন, রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য আশপাশের জেলার ইটভাটাগুলোকে দায়ী করা হয়। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অন্যতম। পরিবেশ রক্ষা করে ভাটাগুলোকে ইট পোড়াতে বাধ্য করতে হবে। ইটভাটার মালিকরা আইনের ঊর্ধ্বে নন।

0