না.গঞ্জে মুঠোফোনে চিকিৎসা সেবা দিবেন ২২ চিকিৎসক

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এবার প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে নগরীতে মুঠোফোনে জরুরি স্বাস্থ্য সেবা টেলি-মেডিসিন চিকিৎসা সেবা দিবেন ২২ জন চিকিৎসক।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ে এ সেবা শুরু করা হয়েছে। সেবায় নিয়োজিত থাকবেন ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, খানপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎকবৃন্দ।

জরুরি স্বাস্থ্য সেবা টেলি-মেডিসিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর দুইটা এবং বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ২২ জন চিকিৎসক শুক্রবার ব্যাতিত সপ্তাহের ৬ দিন মুঠোফোনে এই সেবা প্রদান করবে।

যারা মেডিসিন, শিশু, সার্জারি, গাইনি ও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ। একেক চিকিৎসক সপ্তাহে তিনদিন এ সেবায় যুক্ত থাকবেন।

বিশেষ টেলি মেডিসিন (কণ্ঠ) সেবা কার্যক্রমের তত্বাবধানে রয়েছেন ডা. চৌধুরী ইকবাল বাহার (০১৭৭৭১১১১১১)। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ৩ শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় (০১৭১৬৮৮৫০৪৭), নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ (০১৮১৯৩২৬৪২৫)। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. দেবাশীষ সাহা (০১৯২২৪২৪৮৬৮) ও নারায়ণগঞ্জ জেলার স্বাচিবের সাধারণ সম্পাদক ডা. বিধান চন্দ্র পোদ্দার (০১৭১২৫৮৪২১২)। এবং এই কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন, ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয় (০১৯১১৭৪৬৭৫০)।

অন্যান্য চিকিৎসকরা হলেন- ডা. মাহবুব হাসান, ডা. মো. সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয়, ডা. আকমল হোসেন, ডা. আব্দুল মালেক, ডা. শেখ ফরহাদ ও ডা. গাজী জাহাঙ্গীর।

শিশু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিবেন ডা. বিধান চন্দ্র পোদ্দার, ডা. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডা. দেবাশীষ সাহা ও ডা. আমিনুল ইসলাম।

সার্জারি রোগীদের চিকিৎসা দিবেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. মীর রাশেক আলম অভি, ডা. ইফতেখার উদ্দিন ও ডা. আলী আকবর।

গাইনি রোগীদের চিকিৎসা দিবেন ডা. পারুল আখতার, ডা. তানসেন কুমার, ডা. হাফিজা ফারজানা ও ডা. মিনারা সিকদার।

নাক-কান-গলা রোগীদের চিকিৎসা দিবেন ডা. এবিএম জহিরুল কাদের, ডা. আতিকুল বারি, ডা. অনিরুদ্ধ রায় ও ডা. কেএম তানভিন হাসান।

চিকিৎসক মো. সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন স্থান লকডাউন করা হয়েছে। তবে হাসপাতালগুলো খোলা রয়েছে এবং আমরা আসছি। কিন্তু রাস্তাঘাট, যান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সমস্যা থাকা সত্ব্যেও রোগীরা আমাদের কাছে আসতে পারছে না। তাই স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বিএমএ এর সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের চিকিৎসকরা এ সেবা শুরু করেছে। এ সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন দুই শিফটে চিকিৎসকরা ফোনে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিবে। আর যদি ফোনে সেবা দেয়া সম্ভব না হয় তাহলে প্রয়োজনে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেয়া হবে।’

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলে যেন ঘরে বসেই চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারে। সে লক্ষ্যে এই টেলি-মেডিসিন চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।

এবিষয়ে ডা. চৌধুরী ইকবাল বাহার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগীরা হাসপাতাল আসতে পারছেন না। একারণে অনেকেই স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া করোনার বাইরেও অনেক অসুখ বিসুখ রয়েছে, তাদেরও সেবা দরকার। চিকিৎসা দরকার। নারায়ণগঞ্জ খুব ছোট্ট একটা জায়গা। চেষ্টা করলে মুঠোফোনের মাধ্যমেই সক ধরণের রোগীদেরই চিকিৎসা সেবা প্রদান করা যাবে। সে লক্ষ্য থেকেই সবার মানসিকতা নিয়ে এ মুঠোফোনে টেলি-মেডিসিন চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়েছে।

এবিষয়ে চিকিৎসক মো. সামসুদ্দোহা সরকার সঞ্চয় বলেন, করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা ঠিকমত চেম্বার করছেন না, রোগীরাও হাসপাতাল আসতে পারছেন না। ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই। একারণে কেউ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং সকলেই যেন ঘরে বসে চিকিৎসা সেবা পায়। সে লক্ষ্যে আমরা জরুরি ভিত্তিতে টেলি-মেডিসিন চিকিৎসা সেবা চালু করেছি।

0