না.গঞ্জে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়ন!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে চলতি এসএসসি পরীক্ষার খাতায় ওএমআর শীট পূরণ হচ্ছিল; ঘটনাটি দেখে ভিডিও ধারণ করেন ওই বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষক।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সিন্হা স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা’ বিষয়ের কয়েক বান্ডেল খাতা মূল্যায়ন করছিলেন ওই বিদ্যালয়ের ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তাদেরকে দিয়ে একটি বোর্ড পরীক্ষার খাতার উপরে থাকা ওএমআর শীটে যে সকল ঘর পূরণ করতে হয় সেই ঘরগুলো পূরণ করাচ্ছিলেন বিদ্যালয়টির সহকারি প্রধান শিক্ষক আশরাফ উল্লাহ। এ সময় শিক্ষার্থীরা এক হাতে মোবাইলে ফেসবুক চালাচ্ছে এবং অন্য হাতে ওএমআর শীট পূরণ করছে। ফলে অমনোযোগী থাকার কারণে ভুলের সম্ভানা বেশী।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আশরাফ উল্লাহ স্যার খাতার বৃত্তভরাট করার জন্য তাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভিডিও ধারণকারী শিক্ষক জানান, একটি সামান্য ডিজিট পূরণে ভুল হলে একজন পরীক্ষার্থীর ফলাফল আটকে যেতে পারে। খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহাবুব পারভেজ ও আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পেয়েছেন। বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত আশরাফ খাতাগুলো সরিয়ে নিয়ে আলমারীতে তালাবদ্ধ করেন এবং অভিভাবক সদস্যদের সামনেই ভিডিও ধারণকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফ গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যালয়ের কম্পিউটার কাম সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম মিয়ার সঙ্গে কতিপয় শিক্ষক আমার মান সম্মান ক্ষুণ্ণ করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনহা স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম সত্যতা স্বীকার করে লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ঘটনার সময় আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশ মতো আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (ঢাকা) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আমিরুল ইসলাম জানান, এটা মারাত্মক অপরাধ। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাতা মূল্যায়নের সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করে একান্ত কক্ষে বসে কাজ করা। খাতা মূল্যায়নকারীর ভুলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়ে আত্মহত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0