না.গঞ্জে হু হু ক‌রে বাড়‌ছে ক‌রোনায় করুন মৃত্যু, কেউ ধ‌রে না লাশ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কারো লাশ চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে সারা রাত ফেলে রাখা হয়েছে রাস্তায়। কারো লাশ পড়ে আছে বাজারের পাশে। কেউ আবার নিজ গৃহেই মরে পড়ে রয়েছে। এগিয়ে আসছেন না প্রতিবেশী ও স্বজনদের কেউ।

করোনা আতঙ্কে বর্তমানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়। গত কয়েক দিনে, করোনা ভাইরাসে কিংবা করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে অথবা স্বাভাবিক মৃত্যুতেও এমন নির্মম ঘটনা ঘটছে। করোনার করুন মৃত্যু স্বাভাবিকতায়ও ভয় আতঙ্কে নিষ্ঠুরতায় ঠেলে দিয়েছে।

কোন কোন ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মৃত্যুও অতি উৎসাহী মানুষের কারণে অনেকটা জোড় করেই করোনা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

৬ এপ্রিল প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয় নারায়ণগঞ্জের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় বেজ গিটারিস্ট রাকিব ওরফে হিরু। মৃত্যুর পরপরই তার মরদেহ চাদর দিয়ে পেঁচিয়ে এনে ফেলে রাখা হয় রাস্তায়। কোনো খাট ছিল না। এমনকি একটা মানুষও ছিল না লাশটির কাছে! সারারাত লাশটি রাস্তায়’ই পড়েছিল।

৭ এপ্রিল দুপুরে শহরের ৩নং মাছ ঘাটে মরে পরেছিলেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ‘পাগল’।

এরপর বিকালে নিজ বাড়ির কক্ষে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন সস্তাপুরের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৬০)। পরিবারের সদস্যরা আহজারি করলেও এলাকার কেউ করোনা আতঙ্কে এগিয়ে আসেনি। যদিও পরবর্তীতে পুলিশ ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, করোনা রোগী নয়।

এছাড়া দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে জ্বর-সর্দি নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নগরীর মিশনপাড়া সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তির। করোনার পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ।

পরীক্ষার আওতা বাড়ার পর এ জেলায় নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে; গত ৫ এপ্রিলও মাত্র ১১ জন ছিল। ৬ এপ্রিল এসে রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ জনে, ৭ এপ্রিল নতুন আরও ১৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৮ জন। এছাড়াও সন্দেহভাজন আরও বেশ কয়েক জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ বিভাগ। সরকারি হিসেবে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। তবে, বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ৯ জনেরও বেশি এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে আরও ৬ জনের।

গত মার্চ মাসের ৮ তারিখে বাংলাদেশের প্রথম দুই রোগীর ধরা পড়ে নারায়ণগঞ্জের। চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেন তারা। এরপর ৩০ মার্চ কুর্মিটোলা হাসপাতালে বন্দরের এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতুর পর পরীক্ষায় করোনা রোগী ধরা পরে। সরকারি হিসেবে দ্বিতীয় মৃত্যু হয় কাশিপুরের বড় আমবাগান এলাকার আবু সাইদ মাদবরের। এরপর শহরের জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোড এলাকার ৬৭ বছর বয়সী একজন এবং শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, ৬ এপ্রিল ভোরে উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ৫২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি ১৮ নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা এলাকায়।

0