না.গঞ্জে ৪ হাজার মানুষের সেবা দিচ্ছে মাত্র ১ জন পুলিশ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে জনসংখ্যার তুলনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য খুবই কম। প্রায় ৪ হাজার মানুষের সেবা দিতে রয়েছে মাত্র একজন পুলিশ। ফলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় জেলা পুলিশের। রাত দিন কাজ করতে হয় এ জেলার পুলিশ সদস্যদের।

অপরাধ প্রবন এ এলাকায় প্রায় প্রতি মূহুর্তে ঘটে থাকে বিভিন্ন অপরাধ ফলে এ সবে নিয়ন্ত্রনে দম ফেলার সুযোগ নেই পুলিশের।

এর পেছনের কারন হিসেবে জানা যায়, ৯ বছর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশন ঘোষণা হয়েছে। অথচ এখনো নারায়ণগঞ্জ ঘোষণা হয়নি মেট্রো পলিটন। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকার পরও মেট্রোপলিটন না হওয়ায় বাড়েনি পুলিশের জনবল। ফলে একদিকে মানুষ যেমন কাঙ্খিত পুলিশী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে কারনে পুলিশের কস্টও বেড়ে যাচ্ছে । তারা অনেকে ঠিক মতো ঘুমাতে পর্যন্ত পারে না।

সূত্র জানায়, বিশেষবা প্রথম শ্রেণিভুক্ত জেলা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব সূচকেই এগিয়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। গার্মেন্টস অধ্যূষিক এ এলাকা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকেও নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ। রয়েছে নদী বন্দর ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জ সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে। দারিদ্র মুক্ত জেলার তালিকায়ও নারায়ণগঞ্জ শীর্ষে।

সূত্রজানায়, ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এরপর সিটি করপোরেশন হয়েছে গাজীপুর ও রংপুর। পরে মর্যাদা পেলেও গাজীপুর ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ পেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছর ধরে ঝুলে আছে নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রস্তাব।

সূত্রজানায়, ২০১৬ সালের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রায় একই সময়ে গাজীপুর, রংপুর ও কুমিল্লা মেট্রো পলিটন পুলিশ করার প্রস্তাবও পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা ‘গাজীপুর মহানগরী পুলিশ আইন-২০১৭’ ও ‘রংপুর মহানগরী পুলিশ আইন-২০১৭’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার প্রস্তাব এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী পুলিশে নতুন ৫০ হাজার জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছেন। এখান থেকেই দুটি মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম চালু করা হবে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটন পুলিশে একজন ডিআইজি, দুজন অতিরিক্ত ডিআইজি, ছয়জন এসপি, সাতজন অতিরিক্ত এসপি, চার জন এএসপিসহ ১ হাজার ২৪৮ জন জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে জেলার লোক জনসংখ্যা ৩০ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭ জন। জেলা প্রশাসনের এ পরিসংখ্যান ২০১১ সালের। তবে জেলা প্রশানের পরিসংখ্যানের কয়েক গুন বেশী লোক নারায়ণগঞ্জে বসবাস ও কাজের সূত্রধরে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে থাকে। এসব লোক জনের পুলিশী সেবা দিতে নারায়ণগঞ্জে রয়েছে মাত্র ২২শ ৯৫জন পুলিশ সদস্য।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, নারায়ণগঞ্জে একজন এসপি, ৭জন অতিরিক্ত এসপি, ৭জন এএসপি, ৬৬জন ইন্সপেক্টর,২৩১জন এসআই পদমর্যদার কর্মকর্তা, ২৭০জন এ এসআই পদ মর্যদার কর্মকর্তা, ১৫১৫ জন কনস্টেবল পদমর্যদার কর্মকর্তার রয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নারায়ণগঞ্জ মেট্রো পলিটন পুলিশ হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। মেট্রো পলিটন পুলিশ হলে এখানকার মানুষ বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে। আগেই গাজীপুরের মতো নারায়ণগঞ্জ মেট্রো পলিটন পুলিশ হওয়া দরকার ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইজিপির দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, নারায়ণগঞ্জে স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে লোকের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখের মতো। আর পুলিশ মাত্র ২১‘শ। এই ২১‘শ পুলিশ সদস্য দিয়ে এত লোকের সেবা করা সত্যি দূরুহ। তারপরও সেটা করে যাচ্ছে। আমার মনে হয় আল্লাহর রহমত আর আপাদের জনপ্রতিনিধিদের সহায়তার কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, সততা ও দেশপ্রেম সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি এসেছি দুই মাস হবে। এই দুই মাসে কোথাও দেখি নি আমার পুলিশ সদস্যরা কারো প্রতি অবহেলা করেছে বা জনগনের প্রতি অবিচার করেছে। আমি দেখেছি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের প্রত্যেক সদস্য সব সময় কষ্ট করে। এর আগে আমি পার্শ্ববর্তী জেলায় সাড়ে তিন বছর কর্মরত ছিলাম। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এত কষ্ট করতে হয়, আমার মনে হয় না সারা বাংলাদেশে আর কোনো পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের এত কষ্ট হয়। ডিএমপিতেও দেখিনি এত কষ্ট করতে হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমাদের খারাপ দিকটাই মানুষ বেশি প্রচার করে। আমি অনুরোধ জানাবো, সেই সাথে আমাদের কষ্টটাও দেখবেন। কষ্ট টাও বলবেন। আমার পুলিশ সদস্যরা ঠিকমত ঘুমাতে পারে না। তারা দিনের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন। এই নারায়ণগঞ্জে আরও পুলিশ সদস্য বাড়ানো দরকার। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। আপনারা যারা জনপ্রতিনিধি আছেন আপনারাও সংসদে এই কথাটা বলবেন। তাহলেই আমরা পুলিশ সদস্য পাবো। অন্তত আরও দুই হাজার সদস্য যাতে পাই। তাহলে আরও বেশি করে আপনাদের সেবা দিতে পারবো।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকা করতে জেলা প্রশাসন থেকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আবারও চিঠি দেব।

0