না.গঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারদের বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেইসাথে গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদারিকাজের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার বাংলাদেশ মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের কোয়ার্টার থেকে পাম্পহাউস পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর খোলা দরপত্র (ওপেন টেন্ডার মেথড—ওটিএম) আহ্বান করে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ। এ কাজের জন্য ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার টাকার দরপত্র দাখিল করে একমাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢালী কনস্ট্রাকশন। দাখিল করা দরপত্রটি বাতিল করে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন। পরে একই নির্মাণকাজের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে ওটিএমের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে (লিমিটেড টেন্ডার মেথড—এলটিএম) দরপত্র আহ্বান করে গত ১০ জানুয়ারি নগরের তামাকপট্টির সুলতান গিয়াসউদ্দিন রোড এলাকার কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের মালিক সালাউদ্দিনকে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় কাজটি পাইয়ে দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে নির্মাণকাজের চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। এ ছাড়া দরপত্রের ৭ নম্বর দফা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ একটি রাস্তার বালু ভরাটের জন্য গণপূর্তের শিডিউল অনুযায়ী ১৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মূল্য ধরা হয়েছে। আহ্বান করা দরপত্র অনুযায়ী রাস্তাটিতে যদি ৯ ইঞ্চি পুরু বালু ভরাট করা হয় তাহলে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা বালু ভরাটে ব্যয় হওয়ার কথা।

প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) তালিকার ১৭ নম্বর ক্রমিকে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ রাস্তাটিতে সিসি ঢালাই করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে সিসি রাস্তাকে আরসিসি রাস্তায় পরিবর্তন করে দরপত্র আহ্বান করেন। ফলে সিসি রাস্তার জন্য কোনো রড না লাগলেও আরসিসি রাস্তার জন্য রড বরাদ্দ রাখতে হয়েছে এবং ওই রাস্তার জন্য রডের ওজন ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ১২৫ কেজি। পিডব্লিউডির ৭৯ টাকা দর অনুযায়ী সেখানে প্রায় ২৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা রডের ব্যয় দেখানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কাজ পাইয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে দরপত্র ওটিএমের পরিবর্তে এলটিএম করা হয়। এলটিএমের মাধ্যমে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় কাজ পাইয়ে দেওয়ায় সরকারের প্রায় ১৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। সে অনুযায়ী, ২ কোটি টাকার একটি কাজেই প্রায় তিন ধরনের অনিয়ম—সিসি রাস্তাকে আরসিসি রাস্তায় রূপান্তর করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা, বালু ভরাটে অতিরিক্ত প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং ওটিএম টেন্ডারকে এলটিএম করার মাধ্যমে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার টাকার দরপত্র বাতিলের মাধ্যমে পুনরায় ১ কোটি ৯৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় কাজ প্রদান করে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা সরাসরি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একই দিন ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আরও সাতটি কাজ পাইয়ে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হরিলুটের আয়োজন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই লুটপাটের জন্যই নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তাঁর সহযোগীরা প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ প্রকল্পের মূল নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেছেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের মালিক সালাউদ্দিন জানান, ওই দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি কাজ পেয়েছেন। আগামী জুন নাগাদ কাজ শেষ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক ছিল না বলে ওই দরপত্র (ঢালী কনস্ট্রাকশন) বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যেহেতু জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে, এ কারণে ওটিএম বাদ দিয়ে এলটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিয়ম মেনেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই দিন একই প্রতিষ্ঠানকে আটটি কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি বলে শুধু কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ কাজ পেয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু কিছু কাজ জরুরি ভিত্তিতে করানো লাগে। অন্য ঠিকাদার ওই কাজগুলো না করায় ওই ঠিকাদারকেই কাজ দেওয়া হয়েছে। তবে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অন্য নামে কাজ পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সূত্র: প্রথম আলো

0