না.গঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন ওভারহেড ক্যাটেনারি ও সাবস্টেশন স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

এটি বাস্তবায়নে আট কোটি ১২ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী রোববার প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের রেল পরিবহন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সদ্যসমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীনভাবে সংযুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় রয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এক বছরের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বুধবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানান, বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনেছি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিচালনা ব্যয় কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, এখন ডিজেল দিয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পর সেই বিদ্যুতে ট্রেন চলে। কিন্তু নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একধাপ কমে আসবে। তখন সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

পিইসি সভা প্রসঙ্গে বুধবার জানতে চাইলে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদ্য সাবেক প্রধান এনায়েত হোসেন বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প হওয়ায় খুব বেশি কিছু দেখার সুযোগ নেই।

পিইসি সভায় সাধারণত ‘কী ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই’ করা হবে তা দেখা হয়। পদ্ধতিগুলো কী, প্রস্তাবিত দেশি ও বিদেশি পরামর্শকদের অবস্থা ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। ৫০ কোটি টাকার কম অর্থের প্রকল্প হওয়ায় এটি অনুমোদন করার এখতিয়ার পরিকল্পনামন্ত্রীর রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম সেকশনে ট্র্যাকশন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এছাড়া ওভারহেড ক্যাটেনারি সাবস্টেশন এবং ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তির সুপারিশ দেয়া হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রকল্পের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা ও প্রাপ্যতা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল সম্পর্কে সুপারিশ দেয়া হবে।

ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সম্পর্কে বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অন্য দেশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা এবং ট্রাফিক পূর্বাভাস এবং লেভেল ক্রসিং গেটসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন গ্রহণ সম্পর্কিত স্পর্শকাতর বিষয় বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রেলওয়ে ইলেকট্রিফিকেশন করা হলে তা বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মাইলফলক হবে। এর ফলে এ সেকশনে হাই স্পিড ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পাশাপাশি ভ্রমণ সময় ও পরিচালনা ব্যয় কমানো যাবে। এছাড়া যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের ফলে রেল পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেননা ইলেকট্রিক ট্রেন সর্বোচ্চ লোড ক্যাপাসিটি ও পরিবেশবান্ধব। এছাড়া ট্রেনগুলোর পরিবহন ব্যয়ও কম। এসব কথা চিন্তা করে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ২০১৬ সালে পরিকল্পনা কমিশনে ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্প প্রস্তাবটি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপ পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি আলাপ করুন লিখে দেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এ সময় তিনি প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের টেকনিক্যাল টিম, মহাপরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করার নির্দেশনা দেন। সভা করা হলে ওই সভায় নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাই না করে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পক্ষে মত দেয়া হয়।

এরপর পুনরায় তখনকার পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হলে তিনি ফাইলের উপর আলাপ করুন লিখে দেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এজন্য প্রকল্পটির উপযোগিতা পর্যালোচনাসহ সার্বিক বিষয়গুলো পুনঃপরীক্ষায় নতুন করে পিইসি সভার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।(সূত্র: যুগান্তর)

0