না.গঞ্জ থেকে নৌ-পথে বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান ট্রেডের সূচনা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ থেকে নদীপথে ত্রিদেশীয় ট্রেড এর সূচনা হয়েছে। এ ট্রেডের মাধ্যমে নদীপথে ভূটান থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে পাথর আমদানি করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সোনাগাঁয়ের মেঘনা ঘাটে বাংলাদেশ-ভারত-ভূটান ও বসুন্ধরা গ্রুপের শীর্ষ স্থানীয়রা আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিদেশীয় ট্রেডের উদ্বোধন করেন।


বসুন্ধরা গ্রুপ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ইন্দো বাংলা রুট ব্যবহার করে আসা প্রথম আমদানি করা পাথর গ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) প্রথমবারের মতো ভূটানের ধুবুরি থেকে পাথরবাহী একটি ভারতীয় জাহাজ যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ ফিতা (রিবন) কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিদেশীয় এই ট্রেডের শুভসূচনা করেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারতের হাই কমিশনার শ্রীমতি রীভা গাঙ্গুলি দাশ, ভূটানের রাষ্ট্রদূত সোনম টি রাবগি, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব আতিকুর রহমান, বিাাইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মাহাবুব উল ইসলাম ও বসুন্ধরা গ্রপের পরিচালক মিসেস সাফওয়ান সোবহান।

আসামের ধুবরি থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে ভূটানের ফুয়েন্ট শোলিং থেকে ট্রাকে করে এনে সেখান থেকে নদীপথে জাহাজের মাধ্যমে এই পাথর আনা হয়েছে। জাহাজটি ১ হাজার মেট্রিকটন পাথর পরিবহন করছে, যা স্থলপথে পরিবহন করতে ৫০টিরও বেশি ট্রাক প্রয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের হাই কমশিনার শ্রীমতী রীভা গাঙগুলি দাশ বলেন, ভূটান থেকে ভারত হয়ে বাংলাদেশে নদীপথে পাথর আমদানি তিনটি দেশের মধ্যে ট্রেডের নবসূচনা করলো। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই উদ্যোগের কারণে ভারত, ভূটান, বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা নতুন স্বপ্ন দেখতে পারি। আগামী দিনগুলোর বাণিজ্য এভাবেই হওয়া উচিত। এতে তিন দেশের মধ্যে সর্ম্পকের আরও উন্নতি ঘটবে ও আমরা সেটাকে আরও নতুন ও উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাবো।

ভূটানের রাষ্ট্রদূত সোনম টি রাবগি বলেন, এই উদ্যোগরে মাধ্যমে আমাদের বাণজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। এতে ভারত ভূটান ও বাংলাদেশ একদিকে উপকৃত হবে অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যাকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। এতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচও কমবে। নদীপথে পরিবহন একটি পরিবেশবান্ধব উপায়।

বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব উল ইসলাম বলনে, এটি আমাদের ত্রিদেশীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে। দেশগুলোর বানিজ্যিক সর্ম্পক বাড়াবে এবং আমাদের জাতিগত সংযোগ ও সর্ম্পক বাড়াতে সহায়তা করবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্বাধীনতার পর আবারো এই নদীপথের ট্রানজিট সুবিধা চালু হলো। নদীপথের মাধ্যমে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানো ও আমাদের মধ্যাকার সস্পর্কের উন্নতি সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, ড্রেজিং ও নদীপথের অন্যান্য র্কাযক্রমে বসুন্ধরা গ্রুপ আমাদের ভালো অংশীদার। তারা খুবই আন্তরিক। নদীপথের যে কোন সমস্যা সমাধানে সব সময় বিআইডব্লিউটিএ প্রস্তুত আছে এবং এক সাথে কাজ করলে যে কোন সমস্যা সমাধান সম্ভব।

0