না.গঞ্জ বিসিকের কালিয়ানী খালের অস্তিত্ব হুমকির মুখে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটিতে অবস্থিত বিসিক হোসিয়ারী শিল্প নগরীতে ৬৫০ টি গার্মেন্টস কারখানা। এসব কারখানার মাধ্যমে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা আয় করে দেশ। কিন্তু যাদের মাধ্যমে এ বিপুল টাকা আয় হয় বিসিক শিল্প নগরীর সেই লাখ লাখ শ্রমিককে এসব গার্মেন্টসে আসতে হয় পানির নিচে ডুবে থাকা রাস্তা দিয়ে। বর্ষায় এ রাস্তার উপরে থাকে হাঁটু পানি। আর যখন বৃষ্টি থাকেনা তখনও এ রাস্তার উপরে পানি জমে থাকে। তার উপরে রয়েছে ড্রেনের গর্ত। ফলে প্রতিনিয়ত এখানে ঘটে দূর্ঘটনা। বিসিক শিল্প নগরী সংলগ্ন খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় তৈরী হয়েছে এ পরিস্থিতি। সেনাবাহিনীর মাধ্যমে খালটি উদ্ধার করে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
বিসিক হোসিয়ারী শিল্প নগরীর বিভিন্ন গার্মেন্ট এর শ্রমিক পপি, বুবলি বেগম, নিয়াজ, রোকসানা জানান, জলাবদ্ধ এ পানি দিয়ে যাওয়া আসা করায় তারা চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। রাস্তার উপরে মানুষের মল-ও থাকে। বাধ্য হয়ে এ পানি মারিয়ে যাওয়া আসা করতে হয়। রাস্তার দক্ষিন দিকে পানি বেশি, উত্তর দিকে কম। সবাই উত্তর দিক দিয়ে যেতে চায়। এ কারনে প্রচন্ড ভীড় থাকে। ফলে প্রায়ই গার্মেন্টে যেতে দেরী হয়ে যায়। তিনদিন দেরী হলে একদিনের হাজিরা কেটে দেয়।


এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোক্তার হোসেন পান্না বলেন, সাইফুল ইসলাম সহ আরো কয়েকজন জানান, এক সময় এখানে ছিলো বিশাল কালিয়ানী বিল। যার উপরে গড়ে তোলা হয়েছে বিসিক হোসিয়ারী শিল্প নগরী। কালিয়ানী বিলের বাকি অংশ খাল হিসেবে রাখা হয়েছে পানি নিস্কাশনের জন্য। এ খাল দিয়ে বৃহত্তর মাসদাইর, শাসনগাঁও, বিসিক শিল্প নগরী, হরিহরপাড়া, জামতলা, গলাচিপা এলাকার পানি নিস্কাশিত হতো। প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের প্রশস্ততা এক সময় নব্বই থেকে একশ বিশ ফুট ছিলো যা মাসদাইর, হরিহরপাড়ার মৌজা নকশায় উল্লেখ আছে। কিন্তু বর্তমানে বেশিরভাগ জায়গায় এটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। মোক্তার হোসেন পান্না বলেন, খালের দু’পাশের গার্মেন্ট মালিকরা খাল দখল করে নিয়েছে। আমরা এলাকাবাসির পক্ষে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসককে বারবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, গার্মেন্ট মালিকরা এত শক্তিশালী যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ খাল উদ্ধার সম্ভব না। তিনি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এ খাল উদ্ধারের দাবী জানান।
খাল উদ্ধারের দাবী জানিয়ে হোসিয়ারী শিল্প নগরীর অন্যতম শিল্প মালিক বিকেএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত পূর্ব দিকের পথটি দিয়েই শিল্প নগরীর প্রায় অর্ধেক শ্রমিক এখানে আসে। যে পানিতে পা ডুবিয়ে তারা আসে সেটিতে শুধু সুয়ারেজের ময়লা রয়েছে তা-ই নয়, এটার মধ্যে গার্মেন্ট-ডাইং এর বর্জ্য বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ-ও রয়েছে। ফলে এটি খুবই ক্ষতিকর।
অভিযোগ রয়েছে জনৈক জব্বার মিয়া গার্মেন্ট মালিকদের পক্ষে জমি ভরাট করতে গিয়ে খালও ভরাট করে ফেলেছেন। এবং এখনো ভরাট করছেন। তবে জব্বার মিয়া তা অস্বিকার করে বলেন, এলাকার ইউপি মেম্বার ও গনমান্যদের অনুরোধে আমি আমার ড্রেজারের পাইপ দুই বছর আগে উঠিয়ে ফেলেছি। আমি না বরং গার্মেন্ট মালিকরা তাদের সমস্ত ঝুট,পলিথিন খালে ফেলে দেয়। আবার অনেকেই খাল দখল করে খালের ভেতরে বিল্ডিংয়ের পাইলিং করেছে। এসব কারনে খালে পানি প্রবাহ কমে গেছে।
জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানান, বিসিকের শিল্প মালিকরাই এক সময় খাল দখল করেছেন। এখন আবার খাল উদ্ধারের দাবী জানাচ্ছেন। আমরা খাল উদ্ধারে ও খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করছি। এছাড়া খাল উদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কেন কাজ শুরু করেনি সে বিষয়টিও তিনি খোঁজ নেবেন বলে জানান।

0