না.গঞ্জ মহিল দল: এবার মহাসচিবের কাছে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক’র অভিযোগ 

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: অ‌ভি‌যোগ-পাল্টা অ‌ভি‌যোগ আর পদত্যা‌গের ঘটনায় বেশ জ‌টিলতায় র‌য়ে‌ছে নারায়ণগঞ্জ মহিল দল।নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর মহিলা দলের কমিটি কর্তৃক কেন্দ্রীয় মহাসচিবের কাছে মিথ্যা তথ্য প্রদান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ ক‌রেন মহিলা দল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অভিযোগ করেন পারভীন আক্তার।  একই সা‌থে অনু‌লি‌পি পাঠান দল‌টির মহাস‌চিবসহ, সংগঠ‌নের বিভাগী ও শীর্ষ নেতা‌দের কাছেও।

এর আগে নবগঠিত মহিলা দলের জেলা ও মহানগর কমিটিতে অসাংগঠনিকভাবে বহিস্কৃত, মৃত, নিস্ক্রীয় ও চাঁদাবাজদের পদায়নের অভিযোগ কেন্দ্রে পাঠানোর পরে জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সহ সাধারণ সম্পাদক লুৎফা বেগম।

১৩ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী মহিলা দল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে রহিমা শরীফ মায়া, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রুমা আক্তার এবং মহানগর মহিলা দলে সভাপতি দিলারা মাসুদ ময়না ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আয়শা আক্তার দিনা দায়িত্ব পালন করবেন।

পরে নবগঠিত এই কমিটি দু’টি বাতিল করে সক্রিয়, ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে জেলা ও মহানগর মহিলা দলের কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, মহাসচিব, দপ্তর সম্পাদক, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী, সাংগঠনিক টিম ও ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির পূর্বতন কমিটির আহবায়ক নুরুন্নাহার ও মহানগরের পূর্বতন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক সাজেদা খাতুন মিতা।

তা‌দের অভিযোগে উল্লেখ করেন, নতুন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সক্রিয়, ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। মহানগর মহিলা দলের সহ দপ্তর সম্পাদক পদে স্থান পাওয়া এক নেত্রী মারা গেছেন ২ বছর আগে। এছাড়া মহানগর কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী নৌকা ঘেষা নেত্রী বলে অভিযোগ রয়েছে।

আর ২১ নভেম্বর মহিলা দল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটিতে অসাংগঠনিকভাবে বহিস্কৃত, মৃত, নিস্ক্রীয় ও চাঁদাবাজদের পদায়নের অভিযোগ ওঠায় জেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সহ সাধারণ সম্পাদক লুৎফা বেগম।

২৩ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাবরে অভিযোগ প্রদান করলেন মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি দুইবার আড়াইহাজার উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিগত দিনে জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। বিএনপির মনোনীত পর পর ২বার মেয়র প্রাথী হিসাবে এবং একবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ২০১৯ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মনোনীত হন। পারভীন আক্তারের স্বামী মোঃ আনোয়ার হোসেন অনু বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকায় বিগত ১/১১ সরকার এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মিথ্যা রাজনৈতিক   ৩৪টি মামলা-হামলা জেল জুলুমের শিকার হন। আনোয়ার হোসেন অনু আড়াইহাজার উপজেলার বিআরডিবির পর পর দুইবার বিএনপি সামর্থিত ও নির্বাচিত এবং ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থনে চেয়ারম্যান প্রাথী হিসাবে নির্বাচন করেন। বর্তমান সরকার দলীয় স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবু ও সরকারে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার কারনে আমার স্বামীকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করার পর মহামান্য হাইকোর্ট এর নির্দেশে ২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর হতে অদ্যাবদি পুলিশ প্রটোকলে আছেন, যাহার রিট নং-৭৬১৫/২০১০। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪ (চার) দিন আগে পাঁচরুখি আওয়ামী লীগ অফিস পুরানোর মামলায় আমার স্বামী মোঃ আনোয়ার হোসেন অনুকে হুকুমের আসামী করা হয়, বর্তমানে উচ্চ আদালতের জামিনে আছেন।
গত ১৯ নভেম্বর স্থানীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম জেলা মহিলা দলের সভাপতি রহিমা শরিফ মায়া, সম্পাদক রুমা আক্তার, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি দিলার মাসুদ ময়না ও সাধারণ সম্পাদক আয়েশা আক্তার দিনা বিএনপি ও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। যাতে আমার বিরুদ্ধে নারায়াণগঞ্জের বিভিন্ন মহিলা দলের নেত্রীদের কাছে থেকে পদ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা, আড়াইহাজারের এমপি বাবুর সাথে আতাঁত করে বিএনপির ত্যাগী অনেক নেতাকর্মীদের নামে মামলা করে হয়রানি করা, আমার স্বামী আনোয়ার হোসেন অনু বাসায় র‌্যাবের ক্যাম্প বসিয়ে নিরীহ বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও জমিজমা আত্মসাৎ করাসহ নানাবিধ অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ উপরেল্লেখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করলে আমার বিরুদ্ধে মহিলা দলের নবগঠিত জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ মাননীয় মহাসচিবের বরাবরে যে অভিযোগপত্র দেন তা সম্পূর্ন মিথ্যাচার ও ভিত্তিহীন।