না.গঞ্জ রেল পথে ডাবল লাইন: ভয়ঙ্কর দুর্ভোগের ভবিষ্যৎ

0

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ট্রেন এখনও আসেনি, পড়ে গেছে সিগন্যাল। সড়কের দুই পাশে এসে থামছে বিভিন্ন যানবাহন। ট্রেন আসা পর্যন্ত ৪/৫ মিনিটে দুই পাশেই যানবাহনের জটলা রূপ নিয়েছে ঘন যানজটে। এরপর ট্রেন চলে যায়, উঠে যায় সিগন্যাল। কিন্তু থেকে যায় যানজট। গেটের দুই পাশের যানজট স্বাভাবিক হতে সময় লাগে ২০/২৫ মিনিট। কখনো লেগে যায় পৌনে ১ ঘণ্টা ।

শনি ও রোববার নগরীর ২নং রেলগেট ক্রসিংয়ে দিনের বিভিন্ন সময় এ দৃশ্য দেখা যায়। শুধু ২ নং রেলগেট ক্রসিং নয়, একই অবস্থা শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া, গলাচিপা, উকিলপাড়াসহ ১ নম্বর রেলগেট ক্রসিং এর।

প্রতিদিন শহরের মধ্যের এ ক্রসিং গুলো দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ১৬ জোড়া (৩ জোড়া ডেমু ট্রেনসহ) ট্রেন চলাচল করে। এতে নারায়ণগঞ্জের একটি বিশাল অংশের মানুষ উপকৃত হলেও যানজটের কারণে সড়ক পথের যাত্রীদের এক সিগনাল পার হতে সময় লাগে প্রায় আধাঘণ্টা। এতে যেমন কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে, একই ভাবে চরম দুর্ভোগ সইতে হয়েছে নগরবাসীকে। এমন অবস্থায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল সড়কের শহরের ভিতরেও ডাবল লাইন নির্মাণ করছে সরকার। আর এ নিয়ে চিন্তিত নারায়ণগঞ্জবাসী।

নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এখন যে ভাবে ট্রেন চলছে। ডাবল রেল লাইনেও একই ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৬ জোড়া ট্রেন প্রতিদিন চলাচল করে। ডাবল রেল হলে ট্রেনের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। নারায়ণগঞ্জ থেকে দুরপাল্লার ট্রেনও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, শহরের মধ্যে দিনে ৩২ বার রেল ক্রসিং হয়। এতে যানজট লেগেই থাকে। তাই শহরের (চাষাঢ়া পর্যন্ত) মধ্যে যাতে ট্রেন না চলাচল করতে পারে, সেই বিষয় নিয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী’কে জানিয়ে ছিলাম।

এ ব্যাপারটি নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের মতোই চিন্তিত নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটি। তাই বেশ কয়েকবার আলোচনাও করেছেন রেলওয়ে মন্ত্রনালয়ের সাথে। সেখানে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা তুলে ধরেছেন।

নাগরীক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সেই দাবির কথাই তুলে ধরে লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বিভিন্ন দেশে এখন রেলওয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। পাশের দেশ ভারতেও এক শহরের সাথে অন্য শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে রেলওয়ে। জাপানেতো ৬০ তলার উপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। তাহলে কেন? নারায়ণগঞ্জের রেল ক্রসিং গুলোতে উড়ালসেতু করা সম্ভব হবে না। আমার রেল ক্রসিং গুলোতে উড়ালসেতু নির্মাণের জোড় দাবি জানিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম জানান, ডাবল রেললাইন করার জন্য রেলওয়ে সিরাজুদ্দৌলা সড়কের ১৮ ফিট জমি চাইছে। এতে বাস স্টেশন, রেল স্টেশন থেকে যাত্রী বেড় হয়ে শহরে আসলে যানজট আরো বৃদ্ধি পাবে। তাই বিষয় গুলো নিয়ে সম্মনিত কার্যক্রম প্রয়োজন। বিষয় গুলো নিয়ে রেলওয়ের সাথে সিটি করপোরেশনের কথা বার্তা হচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে, স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম মোস্তফা একটি আশার কথা শুনিয়েছে। বলেছেন- ‘সরকারে পরিকল্পনা রয়েছে চাষাঢ়া ও ২নং রেলগেট ক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করার কথা। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সম্ভবতা যাচাইও হয়েছে। তবে, কবে নাগাত উড়ালসেতু নির্মাণ করা হবে, সেই বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি এ সরকারি কর্মকর্তা।

0