না.গ‌ঞ্জের ‘৬ লে‌নের লিংক রোড’ পেল না অর্থ বরাদ্দ

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একনেকের আটটি প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন হলেও এ তালিকায় স্থান পায়নি পূর্ব ঘোষিত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ছয়লেন প্রকল্পটি।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বর্তমান সরকারের ২৬তম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ চিত্র ছিল। সভা থেকে প্রায় ২২ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, ৪শ ৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডকে ছয়লেনে উন্নতীকরণ প্রকল্প সভাতেই উত্থাপন করা এবং অনুমোদন হওয়ার কথা ছিল।

গামেন্টস, হোসিয়ারি, সিমেন্ট, লবনসহ ১৯টি শিল্প পন্য পরিবহন ছাড়াও যাত্রীবাহি বাস, পিকআপ মালাবাহি ট্রাক এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। চাষাড়া থেকে ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়কে দুরত্ব সোয়া ৮কিলোমিটার। গুরুত্বর্পূণ এ সড়কটির প্রস্থ খুবই ক্ষীন। সড়কটি যে পরিমানের তার চাইতে ৩০গুন বেশী যানবাহন চলাচল করে এ সড়কে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে,‘প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০১৯সালের ৮ জুলাই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুর্নগঠন করা হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) কাল মঙ্গলবার সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কটি একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক যার দৈর্ঘ্য ৮.১৫ কিলোমিটার। এটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক নামেও পরিচিত। সড়কটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই সড়কের পাশেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, সিভিল সার্জন অফিস, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা কারাগার, গণপূর্ত অধিদফতর, পাসপোর্ট অফিস, বি আরটিএ অফিস, বিজিবি-৬২, পিবিআই অফিস, পরিবেশ অধিদফতর, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতর, জেলা পরিষদ, যুব উন্নয়ন অধিদফতর,বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।এছাড়া সড়কের ৬ কিলোমিটারে রয়েছে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলা বিশেষ করে ক্রিকেট খেলার ভেন্যু হিসাবে সমাদৃত। ঢাকার পাশের এই অঞ্চলে সম্প্রতি অসংখ্য শিল্প-কারখানা ও নতুন বসতি গড়ে উঠেছে। ফলে বিদ্যমান সড়কে যানবাহন সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলার একাংশ নিয়ে এরআগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত কয়েক বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরে বেসরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানসহ বড় আকারের বেসরকারি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে।

প্রকল্পটি অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেছেন, ‘এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের নিরাপদ, সময় ও সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে।’

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

0