নিজের উন্নয়ণে বিশ্বাস নেই, আছেন নির্বাচনী আতংকে

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: মুখে উন্নয়ণের জোয়ার বললেও নিজের করা উন্নয়ণের প্রতি মোটেও বিশ্বাস নেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর। আর তার গড়া তথাকথিত উন্নয়ণে বিশ^াস নেই বলেই দলীয় প্রতিক নৌকা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। নৌকা না পেলে কোনভাবেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয়, তাই নৌকা পেতে মরিয়া। মূলত ব্যক্তি উন্নয়ণ ছাড়া নগরবাসীর সার্বিক উন্নয়ণে ব্যর্থতার দায় থেকেই এমন ভয় জন্মেছে তার মাঝে, এমনটাই মন্তব্য নগরবাসীর।

নগরবাসী জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন তথা মেয়র আইভীর আমলের ১০টি বৃহৎ উন্নয়ণ প্রকল্পের ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ভিডিওতে যেসব উন্নয়ণ প্রকল্প স্থান পেয়েছে তারমধ্যে অন্যতম বাবুরাইল খাল। যে প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে ২ শতাধিক কোটি টাকা। এর খালের সম্মুখ অংশ এক সময় ভরাটের জন্য পৌরসভার ফান্ড থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল।

১০ প্রকল্পের আরেকটি হচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জ খাল। যেটি বর্তমানে তার ঘনিষ্ঠ এক ঠিকাদারকে দিয়ে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শেষ না হতেই খালের দুপাশ ধ্বসে পড়েছে।

আরেকটি প্রকল্প জিমখানা পার্ক। যার নামকরণ করা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ট পুত্র শেখ রাসেলের নামে। এই পার্কের জায়গাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নগরবাসীর ট্যাক্সের প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও এটি মূলত দেওভোগবাসীর মনোরঞ্জনের জন্য করা হয়েছে বলে অভিমত নগরবাসীর।

১০ উন্নয়ণ প্রকল্পের মধ্যে শীতলক্ষা নদীর পূর্বপাড়ে যে ১০০ ফুট সড়কের নয়নাভিরাম ভিডিও দেখানো হয়েছে সেটি বাস্তবে নেই। কোথাও ১০০ ফুট আবার কোথাও সরু সড়ক। তাছাড়া যে স্কাই ভিউ দেখানো হচ্ছে ভিডিতে, সরেজমিনে বা ল্যান্ড ভিউতে সেই রূপ নেই। ২০১১ সালে প্রথম সিটি মেয়র হাওয়ার পর এই ১০০ ফুট সড়কের জন্য ৩৯টি সরকারী খাল ভরাট করা হয়। সেই প্রকল্প এতো বছরেও অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি মেয়র আইভীর সিটি কর্পোরেশন।

প্রকল্পের মধ্যে শহরের ডিআইটিতে নিজের পিতার নামে করা আলী আহাম্মদ চুনকা সিটি মিলনায়তন ও পাঠাগার রয়েছে। যেটি নির্মাণে সড়কের মূল ফুটপাতের বিশাল অংশ দখল করা হয়েছে। পুরো ডিআইটিতে অন্ধকার করে দিয়েছে এই প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্প। অথচ সরকারী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দফায় দফায় বাজেট বৃদ্ধি করে ২৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এই প্রকল্পে।

শীতলক্ষা সেতু করার পরিকল্পনার কথাও সেই শুরুর সময়ের। কথিত আছে, প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান ও এমপি শামীম ওসমানের প্রচেষ্টায় বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের আকাংখিত শীতলক্ষা সেতু মদনগঞ্জ দিয়ে হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার সেই সেতুর নামকরন প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের নামে করেছে। এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলে নিজের কারিশমা দেখাতে আরও একটি সেতুর পরিকল্পনা করেন মেয়র আইভী। বেছে নেন ৫নং খেয়াঘাট এলাকাকে। যদিও এখানে সেতু করা নিয়ে নগরবাসীর আপত্তির শেষ নেই। এই সেতু হলে শহরে যানজটে অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। তারপরও জেদের বশে এখানেই সেতু অনুমোদন করিয়ে একনেকে পাশ করান মেয়র আইভী। তবে এখানে সেতু নির্মাণ নিয়ে ধোয়াশা কাটছেনা। দীর্ঘ ৫ বছরেও একটি ইটে গাঁথূনিও দিতে পারেনি।

নগরীর ময়লা আবর্জনা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শত্রুতাবশত নগরীর সব ময়লা অনেকদিন ধরে খান সাহেব ওসমান আলী ষ্টেডিয়ামের কাছে ফেলা হতো। এনিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও সিটি কর্পোরেশন ময়লা ফেলা বন্ধ করেনি। ময়লা-আবর্জনা প্রসেসিং করার জন্য জালকুড়িতে বিশাল জায়গা একোয়ার করার পরও আড়াই বছরে কোন সুফল পায়নি নগরবাসী। বরং ময়লা নিয়ে মেয়র আইভীর স্বেচ্ছাচারীতায় ছি ছি করেছে নগরবাসী।
এছাড়া নগরীর বিভিন্নস্থানে বিল্ডিং, মার্কেট, পঞ্চবটি পার্ক করলেও সেগুলো স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজস্ব লোকদের নামমাত্র মুল্যে বরাদ্দ দিয়ে লাভবান করার কারনে দুদকের তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিলো মেয়র আইভীকে। যদিও প্রশ্নবিদ্ধভাবে তিনি সে যাত্রায় বেঁচে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

মেয়র আইভীর মুল প্রকল্পগুলো নিয়েই যখন অভিযোগ আর প্রশ্নের শেষ নেই, তারউপর শহরের ড্রেনেজ, যানজট, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বেকারত্ত দূরকরণে কোন উদ্যোগ না থাকাসহ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে ট্যাক্স দিয়েও নাগরিক সেবা না পাওয়া নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এমতাবস্থায় ২০১১ সালের মতো বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আইভীর পরাজয় নিশ্চিত। আর তাই বর্তমানে সারাদেশে উন্নয়ণের ধারক ও বাহক সরকারদলীয় প্রতিক নৌকা নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হতে উঠেপড়ে লেগেছেন মেয়র আইভী। এতোদিন নিজেকে সব দলের বললেও এখন তিনি নিজেকে শেখ হাসিনার কর্মী বলে প্রচার করছেন। মূলত নৌকা পাওয়ার আশায় দলের প্রতি আস্থা দেখাচ্ছেন বলে মনে করেন আওয়ামীলীগের তৃনমুল নেতা-কর্মীরা।

0