নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে প্রয়োজন চালকদের প্রশিক্ষণ ও সড়ক সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি: আনিসুল হক

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, সকলের সম্মিলিত সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং আইন প্রয়োগে শতভাগ সততা ছাড়া সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। আমাদের গাড়ির চালকদের যেমন প্রশিক্ষিত ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করতে হবে, তেমনই সড়কের সংশ্লিষ্ট সকলেরই দায়িত্বশীল হতে হবে।

রবিবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘নিরাপদ সড়ক: আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কবি ও সাংবাদিক নাসির আহমেদ।

 

বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচায ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ূন কবির খন্দকার, বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ওয়ান বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর রশিদুল হাসান, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রিড়া কমিটির সদস্য মোহাম্মদ ফায়সাল আহসান উল্লাহ, সংগঠনের সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম এবংস্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের চেয়ারম্যান ড. সেলিনা আকতারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বরেণ্য নাগরিকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের অসংখ্য ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে যদি ধর্মীয় প্রধানগণ জনসাধারণকে সড়কে চলাচলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন তাহলে সড়ক অনেকাংশে নিরাপদ হবে।

 

সড়ক আইন মেনে চলতে জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বক্তারা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় বিআরটিএ, বিআরটিসি, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ূন কবির খন্দকার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিক নির্দেশনা দেয়া আছে। একই সঙ্গে সর্বক্ষেত্রে এমনকি স্কুল-কলেজে সড়ক আইন সম্পর্কে শিশুদের শিক্ষা দিয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। দেশের ১৭ জেলায় ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে ড্রাইভারদের প্রশিক্ষন দিতে মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের কমিটমেন্ট আছে ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটেও ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল যে ১১১টি সুপারিশ করেছে আমাদের হাতে আসলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে নিরাপদ সড়কের জন্য জনসচেতনতা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিআরটিসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সড়কে দিনদিন যানবাহন সংখ্যা বেড়ে চলেছে।২০১৬ সালে ছিল ২৮ লাখ,১৭ সালে ৩২ লাখ এবং ২০১৮ সালে ৩৭ লাখ। কিন্তু আমাদের প্রশিক্ষিত চালকের অভাব রযেছে।বর্তমানে বিআরটিসির বহরে ৯০০ বাস রয়েছে যা গণপরিবহণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।সরকার বিআরটিসির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ৬০০ বাস ও ৫০০ ট্রাক বহরে যুক্ত করছে। আমাদের ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে ১৯টি। প্রতিটি ডিপোতে চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া সেইফ প্রকল্পের আওতায় ৩৬০০০ মানসম্মত চালক সৃষ্টি করা হচ্ছে, ইতিমধ্যে ৬০০০ প্রশিক্ষন শেষ করে ফেলেছে। দ্রুততম সময়ে নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষিত চালক সৃষ্টি করতে হবে। বিআরটিসি জনগনের সম্পদ, একে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জনগণের। প্রশিক্ষিত চালক সৃষ্টিতে শুধু সরকার নয়, বেসরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন। পথচারী ও চালক উভয়কে সতর্কতার সহিত পথ চলতে হবে।

0