নির্বাচন এলেই হয়ে ওঠেন দুঃসাহসী!

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ২০০৩ সাল থেকে ২০২১। এই ১৮ বছরে নগরীকে সুন্দর রাখতে কি পদক্ষেপ নিয়েছেন মেয়র আইভী? দেওভোগে পার্ক করেছেন, কিছু রাস্তাঘাট করেছেন, কয়েকটি বিল্ডিং করেছেন। ড্রেনেজে কোটি কোটি টাকা ঢেলেও সেই জলাবদ্ধতা রয়েগেছে। হ্যা, অল্প ক’দিন আগে থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এলইডি বাতি লাগিয়েছেন। যাকে ‘নির্বাচনী বাতি’ অখ্যা দিয়েছে নগরবাসী। তবে, দু এক মাস না যেতেই নষ্ট হয়ে গেছে অনেকগুলো।

প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে তিনি কি করেছেন? তার নিজের এলাকা দেওভোগ থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাং এর উৎপাতে ঘটছে আইন-শৃংখলার অবনতি, যাচ্ছে প্রাণ। কি করেছেন তিনি?

শহরে লাগাতার যানজট। একবারও কি প্রশাসন বা ট্রাফিক বিভাগকে নিয়ে বসেছেন, কিভাবে যানজট নিরসন করা যায়? চাষাড়ার ফুটপাত নিয়ে আন্দোলন করেন। আবার নিজেই দখল করেছেন ডিআইটির বিশাল ফুটপাত। ফুটপাত দখল করে গড়ে তুলেছেন তার পিতার নামে আলী আহাম্মদ চুনকা সিটি মিলনায়তন। শহরের দক্ষিনাংশে ফুটপাতের চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণ করে কারা? দ্বিগুবাবুর বাজার ঘিওে চাঁদাবাজী করে কারা? অভিযোগ আছে, মেয়র আইভীর পরিবারের-আত্নীয় ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। একবারও কি বলেছেন পুরো শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত চাই। বলেননি। কারণ তার ভাইয়ের শ্যালক, বেয়াই, ঘনিষ্ট লোকজন এসব ফুটপাত থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলেন। সারা বছর এসব নিয়ে চুপচাপ থাকলেও, নির্বাচন এলেই দুঃসাহসী হয়ে ওঠেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচন এলেই তিনি এমনটা করেন। নগরবাসীকে বোঝান তিনি দুঃসাহসী। একই অস্ত্র বারবার ব্যবহার করেন, মানুষের কাছে নিজেকে জাহির করেন। কিন্তু তার দুঃসাহস একটা জায়গায়ই সীমাবদ্ধ। আর কোথাও তিনি তার কথিত দুঃসাহস দেখান না বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। রাজপথে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে যে দলের জন্ম, ৭৫ পরবর্তি ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও দলকে সুসংগঠিত রেখে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশ ও জনগনের উন্নয়ণের মাইলফলক স্থাপন করেছে, সেই আওয়ামী লীগের নেত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েও রাজপথের কোন আন্দোলন সংগ্রামে দেখা মেলেনি কথিত এই প্রতিবাদীর। দলের ও দেশের দুযোর্গ বা ক্রান্তিলগ্নে তাকে খুজেঁ পাওয়া যায় না।

২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিরোধী কোন আন্দোলন বা দলীয় কর্মসূচীতে দেখা মেলেনি তার। উল্টো বিএনপি-জামায়াতের প্রভাবশালী মন্ত্রী নেতাদের সাথে আঁতাত করে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রেখেছেন বারংবার।

দলের একাধীক শীর্ষ নেতার অভিযোগ, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যথারীতি আওয়ামী লীগ বনে যাওয়া আইভী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন করার সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করান সহযোগীদের দিয়ে। শেষ পর্যন্ত মামলা খারিজ হয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হলে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কথিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী হন আইভী। নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। আইভীকে পাশ করাতে নির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগে বিএনপি তাদের প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে কোরবানী দেন। এসব কারণে বিএনপির প্রতি তার বিশেষ আবেগ কাজ করে। যার ফলশ্রতিতে প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক এ দেশনেত্রী লিখেছেন। যা নিয়ে র্ভাচুয়াল জগতে সমালোচনার ঝড় বইছে।

তারা আরও জানায়, মেয়র আইভী কখনো নগরীর মাদকের বিস্তার, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী নিয়ে কথা বলেন না। তিনি শুধু কথা বলেন ওসমান পরিবকারকে নিয়ে। যে পরিবারকে নিয়ে কথা বললে বিএনপি-জামায়াত স্বাধীণতা বিরোধী চক্র খুশী হয়। খুশি হয় সরকার বিরোধীরা। এর বাইরে প্রতিবাদ শব্দটা তার মুখ থেকে আর কোন বিষয়ে শোনেনি নগরবাসী। ওসমান পরিবারের বিরোধীতা করে নিজের অবস্থান তৈরী করেছেন বিধায় সেই একই অস্ত্র এবারও ব্যাহার করতে হঠাৎ করেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন মেয়র আইভী। অশ্রাব্য, কূরুচীপূর্ণ ভাষায় কথা বলে নিজেকে প্রতিবাদী প্রমাণ করতে চান। নগরবাসী এখন আর অত বোকা নয়, যে প্রতিবারই তার ফাঁদে পড়বে। আর বারবার ক্ষমতায় বসিয়ে সরকারী ও জনগনের ট্যাক্সের টাকা লুটপাটের পথ তৈরী করে দিবে। সাম্প্রতিক সময়ে আইভীর বক্তব্যে নগরীজুড়ে ছি ছি পড়েছে। একজন মেয়র হয়ে, একজন উপমন্ত্রীর পদমার্যাদা বহন করে, একজন আওয়ামী লীগের নেত্রী হয়ে তার মুখের ভাষায় হতবাক নগরবাসী। মিথ্যা কল্পকাহিনী বলে এখন আর ভোট বাড়ানো যাবেনা। এবারও তথা কথিত দুঃসাহস এর ভনিতার সেই অস্ত্র আর কাজে আসবে না। মানুষ এখন যথেষ্ঠ সচেতন।