নিয়ম মেনে কারখানা লে-অফ, তারপরেও কার স্বার্থে আন্দোলন…

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শ্রম আইনের নিয়ম মেনেই কারাখানার লে-অফ করেছে কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে- দেওয়া হবে শ্রমিকের সকল প্রকার ক্ষতিপূরণ। তারপরেও নগরীর রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে শ্রমিকরা। এখন প্রশ্ন উঠছে- কার স্বার্থে, কেন এই আন্দোলন?

কয়েক বছর ক্রমাগত লোকসান দিয়ে গত ২০ জানুয়ারি লে-অফ ঘোষণা করা হয় এনআর গ্রুপের স্যুয়েটার ফ্যাক্টরী রহিমা-আজিজ নীটস্পিন লি. এর।

শ্রম আইন ১২ এর ৮ ধারা অনুযায়ী মালিক পক্ষ কারখানা লে-অফ করতে পারেন।

অর্ডা‌রের নিন্মমূল্য, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বর্তমানে পর্যাপ্ত অর্ডার না থাকা, শ্র‌মিক‌দের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ কর‌তে না পারা এবং মূল্য বৃদ্ধি করে নতুন অর্ডার না পাওয়ায় গত কয়েক বছর ক্রমাগত লোকসান দিয়ে পরিচালনা হয়েছে প্রায় ১৩‘শ শ্রমিকের কর্মস্থল রহিমা-আজিজ নীটস্পিন লিঃ। নানা প্রচেষ্টার পরেও বি‌দে‌শি ক্রেতা (বায়াররা) পন্য মূল্য বৃদ্ধি না করায় গত ২০ জানুয়ারি কারখানাটি শ্রম আইন মেনেই লে-অফ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বলা হয়, দেওয়া হবে শ্রমিকদের সকল প্রকার ক্ষতিপূরণও।

তারপরেও শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানাটি পুনরায় চালুর দাবিতে ২২ জানুয়ারি ফতুল্লায় ও ২৩ জানুয়ারি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন একজন শ্রমিক নেতার অনুসারীরা।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান বলেন, শ্রম আইনের সকল নিয়ম মেনেই রহিমা-আজিজ নিটস্পিন লিমিটেড কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। মালিক পক্ষ বলছেন, সময় মতো শ্রমিকের সকল পাওনা পরিশোধ করা হবে। তারপরেও শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানার লে-অফ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। আমার মতে, নিয়ম মেনেই যেহেতু লে-অফ করা হয়েছে, বাস্তবতা হচ্ছে, মালিক না চাইলে কিছুই করার থাকবে না।

শিল্প পুলিশ, নারায়ণগঞ্জ এর সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শ্রম আইনের সকল নিয়ম মেনেই রহিমা-আজিজ নিটস্পিন লিমিটেড কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। মালিক পক্ষ পাওনা পরিশোধের কথা বললেও আন্দোলনে নামছে শ্রমিকরা। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছি, আশা করি, খুব শীঘ্রই সমস্যাটির সমাধান হবে’।
তবে, কেন এই আন্দোলন করা হচ্ছে, এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছেই।

২৩ জানুয়ারি নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রিয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউছার আহম্মেদ পলাশ মুঠোফোন বক্তব্যে বলেন, ‘কারখানাটিতে অনেক অত্যাচারের ইতিহাস আমরা জানি। ১৯৯৮ সালেও এই কারখানায় আন্দোলন হয়েছিল, বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে অত্যাচার করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আজকেও অবৈধ ভাবে লে-অফ ঘোষণা করে শ্রমিকদের চাকুরিচুত্য করা হয়েছে, এটা অমানবিক, অনৈতিক। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে হ‌বে। তা না হলে, তখন আগুন দাউ দাউ করে উঠবে, এ আগুন নিভাতে পারবে না।’