নেতৃত্ব শুণ্যতায় ভুগছে মহানগর আওয়ামীলীগ

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: হাতে গোনা সমর্থক নেতাদের নিয়েই চলছে মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান তথা ওসমান পরিবারের সাথে দন্ধে জড়িয়ে পড়ায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন কমিটির অধিকাংশ নেতা। ফলে নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে মহানগর আওয়ামীলীগ।

জানা গেছে, বিগত সিটি নির্বাচনের আগে শামীম ওসমানের মদদেই মহানগর আওয়ামীলীগ থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করা হয় আনোয়ার হোসেনের নাম। পরবর্তিতে আওয়ামীলীগ সভাপতি ও প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা তুলে দেন মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর হাতে। নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে ২য় বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী আইভী। সেসময় না পাওয়ার যন্ত্রনায় যখন অসুস্থ্য হয়ে পড়েন আনোয়ার হোসেন, তখন তাকে টেলিফোনে সুসংবাদ দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী করা হয় মহানগর সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে। শামীম ওসমান সদয় থাকায় এবং প্রধাণমন্ত্রীর সম্মানে কোন প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা না করায় ঐ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত হন আনোয়ার হোসেন। চেয়ারম্যান হওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে ওসমান ভাতৃদ্বয়ের পাশে থেকেই কার্যক্রম চালিয়ে যান তিনি।
এরইমধ্যে যুব মহিলালীগের জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন আনোয়ার। তখন তার পাশে সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালাসহ সমর্থকরা পাশে থাকলেও দূরে সরে যান মহানগরের অধিকাংশ নেতা। যারা শামীম ওসমান বলয়ের হিসেবেই পরিচিতি। যুব মহিলালীগের কমিটি নিয়ে বিরোধের সময় এড. খোকন সাহা আনোয়ারের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখলেও সম্প্রতি শামীম ওসমানের প্রতি নমনীয় হয়ে বলয়ে ফিরতে চাচ্ছেন। একারনে আনোয়ার হোসেন একাই ওসমান বিরোধী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মহানগরের অধিকাংশ নেতারাই এখন আনোয়ারের সঙ্গে কোন দলীয় কার্যক্রমে নেই। পাশাপাশি মহানগর এনিয়ে সেসময় ওসমানদেও পাশেই ছিলেন দলের এই হাল হয়েছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ নেতারা।
মহানগর আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা জানান, আনোয়ার সাহেবের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণেই কেউ তার সাথে দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নেই না। বেইমান নেতৃত্ব কখনো দলের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না। যে আওয়ামীলীগ তাকে (আনোয়ার) এতো বছর পর চেয়ার দিয়েছে। জীবনে যা কল্পনা করতে পারেননি, তাই পেয়েছেন। সেই আওয়ামীলীগকে সাংগঠনিকভাবে ধ্বংস করতে কাজ করে যাচ্ছেন আনোয়ার হোসেন। একারণে আমরা অঘোষিতভাবে তাকে বয়কট করেছি।
নেতারা আরও বলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের ৭১ সদস্যের কমিটির অধিকাংশ নেতা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নেই। প্রথমদিকে দলের যে জৌলুস ছিলো মহানগরে তা এখন হারিয়ে গেছে। বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে এনে লোক দেখানো হচ্ছে। তাও হাতেগোনা। আনোয়ারের সঙ্গে না থাকা মহানগর আওয়ামীলীগের নেতারা হলেন, সিনিয়র সহ সভাপতি বাবু চন্দন শীল, সহ সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহাম্মদ, গোপী নাম দাস, রবিউল হোসেন, মাসুদুর রহমান খসরু, হালিম শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদকব কবির হোসেন, তথ্য ও গবেষনা একেএম রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আমেনা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সামিউল্লাহ মিলন, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হুমায়ূন কবীর মৃধা, শ্রম সম্পাদক আলী হোসেন আলা, সাস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মীর আনোয়ার হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ আতিকুজ্জামান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক-জাকিরুল আলম হেলাল, উপ দফতর সম্পাদক মামুন গাজী, কোষাধ্যক্ষ কামাল দেওয়ান। সদস্য মজিবুর রহমান, আবদুর রশিদ, অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল, বদিউজ্জামান বদু, এবিএম সোহরাব হোসেন, এহসানুল হক নিপু, উত্তম কুমার সাহা, সানোয়ার তালুকদার, আদিনাথ বসু, কামরুল হাসান মুন্না, শামীম খান, পুলক কান্তি ঘোষাল, এসএম পারভেজ, তাজিম বাবু, জয়নাল আবেদীন টুলু, মতিউর রহমান মতি, মাসদু আহাম্মদ, শিখন সরকার শিপন, অ্যাডভোকেট ইছহাক মিয়া, মোঃ সানাউল্লাহ, নাজমুল আলম সজল, ইসরাত জাহান স্মৃতি, কাইয়ুম পারভেজ, আবদুল করিম বাবু, পারভীন আক্তার ও আছিয়া আক্তার। অধিকাংশ নেতারা আনোয়ার হোসেনকে ত্যাগ করায় মহানগর আওয়ামীলীগের সেই আগের জৌলুস হারিয়ে গেছে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments