নৌকার পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নৌকার পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তবে সে জানিয়েছেন, ‘কে প্রার্থী সেটা দেখে নয়, নৌকার পক্ষে নামবে শেখ হাসিনা ও দলের জন্য’।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে শামীম ওসমান রোববার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘোষণা দেন।

এই প্রেস ব্রিফ্রিং জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের প্রেস কনফারেন্স বলে উল্লেখ করেন।

শামীম ওসমান সেই কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেদিন আমি কাউকেই অভিযুক্ত করিনি। কবরস্থানে যখন শশ্মানের মাটি দিয়ে ঠেকে দেওয়া হয়েছে, তখন আমি বলে ছিলাম, এটা ইবলিশ ওরুফে শয়তানের কাজ। এটা কোন মানুষ করতে পারে না। কেউ কেউ আমাকে একটা ব্যক্তি বা মহিলার নাম ধরে বলেছিলেন, আপনি কি তাকে, দোষারোপ করছেন? আমি তাকে ধমক দিয়ে বলে ছিলাম। তার নাম কেন বলছেন, সেতো কোন বিষয় না। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল। কিন্তু একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি, আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়ে ছিল। মানুষ যদি ভুল করে মাফতো চাইবেই, মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়াও ব্যাপার না। সেখানে আমি এক লোককে বলে ছিলাম চুপ করে হোক, আর যে ভাবেই হক, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে। ক্ষমা চাওয়াটা যেমন সুন্দর, ক্ষমা করে দেওয়াটা তারচেয়েও বেশি ভালো কাজ।

শামীম ওসমান বলেন, একজন মানুষের কাছে, আমিতো এটাই চাইছি, আরতো কিছু চাইনি। আমি নাম বলবো না। তাহলে নির্বাচন ভালো হবে না। শুধু অনুরোধ করবো, আমার কথা চিন্তা করে না, উপর ওয়ালার কাছে যেতে হবে। তার কথা চিন্তা করে, আল্লাহর কাছে মাফ চান। তাহলে আমি একটু শান্তি পেতে পারি। ফেরেস্তা আর শয়তান ভুল করবে না। আমরা মানুষ ভুলতো করবোই।

শামীম ওসমান আরও বলেন, আমিওতো মানুষ, আমিতো রোবট না, যে আমার খারাপ লাগতে পারবে না। মানুষ না আমি? নাকি ওইটা আমার বাবা না, ওইটা আমার মা না, ওইটা আমার ভাই না। খারাপ তো লাগতেই পারে। আামার বাবা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ছিল বাঁধদেন না, আমার মা ভাষা সৈনিক ছিল, আমার ভাই এমপি ছিল, উনার দু’টা ছেলে এমপি, সেটাও বাধ দেন। একটাতো তদন্ত কমিটি করতেন? এখান থেকে না পারলে ঢাকা থেকে করতেন। করলেন না কেন?

তিনি বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের প্রেস কনফারেন্স এটা। আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক দিন হয়তো বা এটা। তারপরেও এখানে আসছি, আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান আমাকে আপার হাতে আমাদের ৩ ভাইকে তুলে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে বলেছেন, এই নৌকা কার? আমি বললাম আপার। এই নৌকা কার? আমি বললাম ‘বঙ্গবন্ধুর’। তিনি বললেন, বাকিটা আপার উপর ছেড়ে দাও। উনি আমাদের অভিভাবক।

শামীম ওসমান বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী কে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়, আমরা দেখবো নৌকাকে। আমরা নৌকা পক্ষে আজ থেকে নামলাম। ১৬ তারিখ খেলা হবে এবং জয় আমরাই হবো। নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাটি, নারায়ণগঞ্জ শেখ হাসিনার ঘাটি, নারায়ণগঞ্জ বঙ্গবন্ধুর ঘাটি। নারায়ণগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের ঘাটি। এখানে অন্য খেলা, খেলার চেষ্টা করবেন না। কে প্রার্থী এটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের দেখার বিষয় একটাই, এটা আমাদের স্বাধীনতার নৌকা, এটা আমার বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এটা শেখ হাসিনার নৌকা, এটা আমাদের রক্ত দিয়ে গড়া নৌকা, এটা আমাদের ৪৯ জন লাশের নৌকা, এটা চন্দনশীলের দু’পায়ের বিনিময়ে নৌকা, এটা মনির-পাপ্পুর লাশের উপর গুলির বিনিময়ের নৌকা। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, তাদের এই নৌকার বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নাই।