পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রী ও সন্তান খুনের দায়ে সেই হারেজ ২ দিনের রিমান্ডে

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী ও ছেলেকে খুনের দায়ে হত্যাকারী হারেজকে ২ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

রিমান্ডপ্রাপ্ত হারেজ (৪৫) হলেন- ময়মনসিংহ ত্রিশালের দূর্গাপুর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। উক্ত আসামি নিহত স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের স্বামী ও ছেলে সোহাগের বাবা। সে একজন রিক্সাচালক। পশ্চিম ভোলাইল শাহ আলমের টিনের তৈরি ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

বৃহস্পতিবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আসামিকের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে উঠায় পুলিশ। পরে শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে, ১২ আগস্ট স্বাক্ষী মো. শাহীন ঘটনার বিবরণ ও আসামি হারেজের অপরাধ তুলে ধরে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রধান করেন।

এর আগে, গত ৮ জুলাই দিবাগত রাত ২টায় পারিবারিক কলহের জের ধরে বাবার হাত থেকে মাকে বাঁচাতে বাবার ছুরিকাঘাতে ছেলে সোহাগ খুন হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে ছুরিকাঘাত করে নিজের পেটে ছুরিকাঘাত করেছেন স্বামী হারেজ মিয়া। ফতুল্লার পশ্চিম ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকাস্থ শাহ আলমের ভাড়াটিয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ত্রিশালের রিক্সাচালক হারেজ স্বপরিবার নিয়ে ফতুল্লার পশ্চিম ভোলাইল শাহ আলমের টিনের তৈরি ভাড়াটিয়া ঘর নিয়ে ভাড়া হিসেবে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও ছেলে সোহাগও স্থানীয় একটি গার্মেন্টে চাকরি করতেন। আর মেয়ে বিথী আক্তার (১২) ভোলাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

হারেজ তার স্ত্রীকে পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করে। এ নিয়ে প্রায় সময় তাদের সংসারে ঝগড়া সৃষ্টি হতো। ঘটনার দিন রাতে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রাত ২টার দিকে হারেজ মিয়ার হাতে থাকা দাঁড়ালো ছোরা দিয়ে তার স্ত্রীকে আঘাত করে।

এ সময় মাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায় ছেলে সোহাগ। তখন হারেজ তার ছেলে সোহাগকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। পরে হারেস নিজের পেটে নিজেই ছুরিকাঘাত করে।

সে সময় তাদের চিৎকারে অপর ঘরে থাকা মেয়ে বিথী ঘুম ভেঙ্গে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে সোহাগসহ হারেজ ও মনোয়ারা বেগমকে নারায়ণগঞ্জ শহরের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরে সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন এবং এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে গত ১০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মা মনোয়ার বেগমও মারা যায়।

0