পাওনাদার হয়ে গেল ‘আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী’, টাকার দাবি ছাড়লে অভিযোগ প্রত্যাহার!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ব্যবসায়িক লেনদেন বাবদ ৭০ লাখ টাকা পাওনা; সেই টাকা না দিয়েই অপমৃত্যু হয় হাছান ফকির নামের এক ব্যবসায়ীর। এখন টাকা চাওয়ায় পাওনাদাররা হয়ে গেছেন ‘আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী’। আর দেনাদারের পরিবার বলছেন ‘টাকার দাবি ছেড়ে দিলে উঠিয়ে নেওয়া হবে প্ররোচনার মামলা’।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো. হোসেন সিকদার। এ সময় তিনি দাবি করেন ‘অপমৃত্যু’ নয়, টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যরা তাকে ‘হত্যা’ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. হোসেন সিকদারের সাথে উপস্থিত ছিলেন মিথ্যা মামলার স্বীকার বড় ভাই সুমন সিকদার, জনি সিকদার ও মা আছিয়া বেগম।

মো. হোসেন সিকদার বলেন, আমার পিতা একজন গম ব্যবসায়ী ও ২টি ময়দা মিলের মালিক ছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় আমরা ৩ ভাইও দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসার সাথে জড়িত হয়েছি। মার্কেটের ব্যবসা সূত্রে পরিচিত হাছান ফকিরকে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমরা ৩ ভাই ব্যবসায়িক সংক্রান্ত লেনদেন বাবদ ৭০ লাখ টাকা পাওনা হই। কিন্তু টাকাটি দিচ্ছিলেন না। এ ব্যাপারটি নিয়ে হাসান ফকির তার পরিবারের লোকজনের সাথে আমাদের বসান। পরে সেখানে পরিবারের সম্মুখে জায়গা সম্পদ বিক্রি করে সামর্থ্য অনুয়ায়ী আমাদের ৩ ভাইকে ৫৫ লাখ টাকা ১ মাসের মধ্যে দিবে বলে আশ^স্ত করেন। কিন্তু ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও পরিশোধ করতে পারেনি। তখন হাসান ফকির আমাদের জানিয়েছিলেন ‘সম্পদ গুলো এজমালি। পরিবারের অনেকের খামখেয়ালির জন্য বিক্রি করা যাচ্ছে না’।

পরে এসপি হারূন-অর রশিদ বরাবর আমরা আবেদন করলে ডিবি পুলিশের মাধ্যমে তাকে ডেকে আনা হয়। নানা রকমের অযুহাত দিয়ে আবারও ১০ দিনের সময় নেয় তারা।

এদিকে, গত ৩ ডিসেম্বর মার্কেটের হাছান ফকিরের সাথে মামুন নামের এক পাওনাদারের কথা কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষন পরে তা মিটে যায়। সেখানে আমাদের কোনো উপস্থিতিই ছিলো না। তখন বিষয়টি জানার জন্য হাছান ফকিরকে ফোন দিলে বলেন, ‘আমরা কোনো আঘাত করিনি, মারি নি ও কোনো প্রকার অত্যাচারও করি নাই। পাওনাদার হিসেবে টাকা চাইতেই পারি।’ এরপর ১০ ডিসেম্বর আমার জানতে পারি তিনি আত্মহত্যা করেন। অপমৃত্যু হিসেবে সদর থানায় তার পরিবারের মানুষ নথি করে। যার মামলা নং ২৫(১২)১৯।

হাসান ফকিরের সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর তাঁর সম্পদের (৫ তলা বিল্ডি ফাইন্ডেশন এর ২তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং ও জায়গার) মালিক হন স্ত্রী ও ভাইয়েরা।

এ ঘটনার ৭ দিন পর তার স্ত্রী আমাদের ৩ ভাইয়ের নামে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। যা সম্পূন্ন মিত্যা ও বানোয়াট।

মামলাটি নিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, টাকার দাবি ছেড়ে দিলে আমরা মামলা তুলে নিবো। তাই বিষয়টি তদন্ত করুন। তাহলে সত্য প্রকাশ হয়ে যাবে। আমাদের কর্মকান্ডে তিনি আত্মহত্যা করেছে নাকি তার পরিবারের মানুষ জায়গা সম্পদের লোভে তাকে মেরে ফেলেছে?

0