পাওয়া গেছে স্বীকারোক্তি, ‌মি‌লে‌নি ধর্ষিতা শিশুর লাশ

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জঃ জিসা, বয়স ১৪ বছর। ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিলো সে, অবশেষে তার হত্যামামলার জবানবন্দি পাওয়া গেলো ৩ আসামীর কাছে। রাতের আঁধারে ধর্ষণের পর ফেলে দেওয়া লাশ এখনো খুঁজছে পুলিশ।


সোমবার (১০ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, স্বীকারোক্তি দিয়েছে জিসা হত্যামামলার ৩ আসামী আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিলুর রহমান। আদালতের নির্দেশে তারা এখন জেলখানায় বন্দি।

নিখোঁজের প্রায় দুই সপ্তাহ পর ১৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে মেয়ের নিখোঁজ জিডি করেন রেখা আক্তার।
বিভিন্ন সোর্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আটক করা হয় অটো রিক্সা চালক রকিবকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আনা হয় থানায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট অপহরণ মামলা রুজু হয় থানায়। অতঃপর আটক করা হয় আব্দুল্লাহকে। এরপর রকিব ও আব্দুল্লাহকে দুই দিনের রিমাণ্ডে আনা হয়।

এরপর নতুন তথ্য পাওয়া যায় আব্দুল্লাহর নিকট থেকে। ইস্পাহানী ঘাট থেকে জিসাকে নিয়ে আব্দুল্লাহ একটি ছোট বৈঠা চালিত নৌকা ভাড়া করেছিল রাত অনুমানিক নয়টায়। ১২টার মধ্যে রিশাকে হত্যা করে লাশ ফেলে দিয়েছিলো শীতলক্ষাতে, সাহায্য করেছিলো মাঝি খলিল।

তাদের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, মোবাইলে কথা হতো আব্দুল্লাহ আর জিসার।  বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রাত নয়টায় ইস্পাহানী ঘাটে যায় তারা। রকিব তাদেরকে নামিয়ে দিয়ে চলে আসে। নৌকায় ঘুরতে ঘুরতে একসময় আব্দুল্লাহ ঝাঁপিয়ে পড়ে জিসার উপর। নিজেকে রক্ষা করতে প্রাণপণে চেষ্টা করে জিসা, পেরে ওঠেনা আব্দুল্লাহ। সাহায্য করে মাঝি খলিল। তারপর রক্তাক্ত দেহ আবার ধর্ষণ করে মাঝি খলিল। যন্ত্রণায় কাতর জিসা শুধু বলে বাড়িতে গিয়ে সব বলে দিবে, ভয় পেয়ে যায় ধর্ষকরা। জিসার গলা টিপে ধরে আব্দুল্লাহ আর পা চেপে রাখে খলিল। একসময় নিস্তেজ হয়ে যায় জিসার দেহ। স্রোতাস্বিনী শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় জিসা’র মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায় তারা।

নির্মম এ খুনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন। এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি জিসার লাশ। পরিবারের শেষ দেখাও হবে কিনা জিসার মুখটা, তাও অনিশ্চিত!

0