পাগলায় ছাত্র ফ্রন্টের আলোচনাসভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

0

লাইভ নারায়ণগঞ্জঃ পাগলায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে আলোচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে পাগলার রসুলপুরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ফতুল্লা থানার সংগঠক সফিকুল ইসলাম শিমুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, বাসদ পাগলা আঞ্চলিক শাখার সমন্বয়ক এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিত ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ফতুল্লা থানার সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল, ছাত্র ফ্রন্ট পরিচালিত অদম্য পাঠশালার শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস মিম, তারিন আহম্মেদ  কনা ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অগণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ১৯৬২ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহসহ আরও অনেকে জীবন দিয়েছেন। সেই থেকে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ ১৭ই সেপ্টেম্বরকে শিক্ষা দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার  সাথে পালন করে আসছে। ১৯৬২ সালে তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ৫৮ বছর পরে  এসেও  স্বাধীনদেশের শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষাসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়নি। স্বাধীনদেশের যত শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে  সকল শিক্ষানীতির মূল কথা ছিলো ‘টাকা যার শিক্ষা তার’।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাবিশ্ব আজকে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের শিকার। সারা দুনিয়াই লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে  যাচ্ছে। বাংলাদেশে করোনা মহামারী আরও বিপর্যয় তৈরি করেছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার দৈন্য দশা মানুষের সামনে আজকে স্পষ্ট। সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস  ও পরীক্ষা নিচ্ছে। অনলাইনে ক্লাস করার সামর্থ দেশের শহর কেন্দ্রীক অল্প কিছু শিক্ষার্থীর আছে। দেশের বৃহত্তর অংশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে এই শিক্ষা চালানোর সামর্থ নেই। শিক্ষার্থীদের ডিভাইস ও ডাটা কেনার সামর্থ নেই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালে সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই শিক্ষার্থীদের বর্তমান বছরের বেতন-ফি মওকুফ, সরকারের তরফ থেকে নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং অনাবাসিক ছাত্রদের বাসাভাড়া, মেসভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা না করলে বহু ছাত্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে।

নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের চলতি বছরের বেতন-ফি মওকুফ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া-বাসাভাড়া মওকুফ ও নগদ সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে জোরদাবি জানান। নেতৃবৃন্দ একই সাথে দাবি করেন করোনার এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষকদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিশেষ অর্থ সহযোগিতার ব্যবস্থা করার।

শেষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট পরিচালিত অদম্য পাঠশালার শিক্ষার্থী মধ্যে আয়োজিত চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেয়া হয়।

0