পানির ব্যবসা মন্দা, তাই রোগী দেখতেন ডাক্তার সেজে

0

সিদ্ধিরগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট:
সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল হতে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া ভূয়া এমবিবিএস ডাক্তার মোস্তাক আহমেদ করিম এর সম্পর্কে বেড়িয়ে আসছে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সোমবার (২৯ জুলাই)রাত সাড়ে ১১টায় হক সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিউ মুক্তি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে েআটক করা হয়। এসময় ওই ভূয়া ডাক্তার রোগী দেখতে ছিলেন।

ধৃত করিম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সালেহাকান্দি এলাকার মৃত রহিম মন্ডলের ছেলে। ভাড়া থাকেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায়। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলে হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে নামে মাত্র একটি ভূয়া কারখানা গড়ে তুলে পানি ব্যবসা করেন। নলকুপের পানি বোতলে ভরে মিনারেল বলে বিক্রি করেন করিম। তার এ প্রতারনা বিষয়ে অনেকই অবগত।

এইচএসসি পাস করে একটি ওষুধের দোকানে চাকরি করতেন মোস্তাক আহমেদ করিম। পরে চাকরি ছেড়ে শুরু করেন ফার্ণিচার ব্যবসা। সফল হতে না পেরে পানি বোতলজাত করে পাড়া মহল্লার দোকানে নিজেই সরবরাহ করেন। পানি ব্যবসায়ও আলোর মূখ দেখছেনা। তাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি সরবরাহ করে বিকেলে কয়েকটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে বসে এমবিবিএস ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন তিনি। ফি নেন দুইশ টাকা।

নিজের দোষ স্বীকার করে ভূয়া ডাক্তার করিম জানান, তিনি ডাক্তার না। তার নামের সাথে মিল থাকা সরকারি নিবন্ধনকৃত (২৬৬৩৩ নং) ডাক্তার মো: মোস্তাক আহমেদ এর কোড ব্যবহার করে নিজেকে এমবিবিএস (ডি-অর্থো), পিজিটি (ডি-অর্থো), পিজিটি (ইমনটি ও হৃদরোগ), চীফ মেডিকেল অফিসার, হাড়জোড়া, বাত ব্যাথা, মেরুদন্ড বিশেজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে প্যাড ছাপিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিয়ে বিগত ১৫ বছর ধরে ডাক্তার সেজে রোগী দেখে আসছেন। বসেন বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। এমন কাজ আর জীবনে করবেনা দুই কান ধরে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে আটক না করে অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ার জন্য র‌্যাব কর্মকর্তাদের অনুরোধও করেন এই ভূয়া ডাক্তার।
সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ভূমিপল্লীর আবদুল আলীম ও পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার শাহজালাল জানান, ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের দালালদের প্রলোভনে পরে ভাল ডাক্তার মনে করেই মোস্তাক আহমেদ করিমের কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রথম দিনে কিছু ওষুধ আর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়েছিল। সেই সব পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আবার ডাক্তারকে দেখাতে তারা এসেছেন। রিপোর্ট দেখানোর আগেই র‌্যাব অভিযান চালায় বলে জানায় তারা।

0