পুলিশকে কেউ শাসায় কেউ মারে, আড়াইহাজার ছাত্রলীগ সবার উপরে!

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পুলিশের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অনিয়ম আর হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তেমন একটা আসে না। আর, বড় কোন সংর্ঘষের ঘটনা ছাড়া পুলিশের উপর হামলার খবরও তেমন পাওয়া যায় না। কিন্তু ১৯ দিনের মধ্যে আড়াইহাজার পুলিশকে দুইবারই উল্টো অভিযোগ করার পরিস্থিতি পরতে হলো। ২৯ মার্চে অভিযোগ উঠেছিল ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মী থানায় ঢুকে শাসিয়েছিল, দিয়েছিল হুমকী। আর আজ(১৭এপ্রিল) তদন্তকেন্দ্রে ঢুকে ছাত্রলীগের অপর একটি অংশ পুলিশকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি ঘটনাকেই ভুল বোঝাবুঝির বিষয় বলে দাবি করেছে।

জেলার আলোচিত পুলিশ সুপার বরাবরই বলে আসছেন, আপরাধী যে যত বড়ই হউক না কেন, কোন ছাড় দেয়া হবে না। তার এই কঠোর হুশিয়ারী সাধারণ জনতাসহ পুলিশদের মনেও আশা ও সাহস বাড়ায়। কিন্তু গত ১৯দিনের ব্যবধানে খোদ পুলিশ সদস্যদেরকেই হেনস্থা ও শাররিক আঘাতের শিকার হতে হলো। কিন্তু কী ব্যবস্থা অপরাধীদের বিরুদ্ধে? তার কোন সঠিক জবাব না মিললেও ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দায় সেরেছেন।

২৯ মার্চে আড়াইহাজার সরকারি সফর আলী কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন এবং তার কর্মীরা আড়াইহাজার থানায় প্রবেশ করে। ওই দিন একটি জিডিকে কেন্দ্র করে থানার ভেতরই পুলিশকে হুমকি ধামকি দিয়ে বীরত্ব দেখায়। শুধু তাই নয়, থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দেখে নেয়ার হুমকিও দেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ব্যাপক ভাইরালও হয়। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এখনও পর্যন্ত এসব আসামীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গোপালদী পৌরসভা ছাত্রলীগের হাতে মার খেলেন পুলিশের ৩ সদস্য। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, বুধবার (১৭ এপ্রিল) দিদার নামের একজনকে গোপালদী পুলিশ আটক করে। পরে গোপালদী পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সুজয় গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আসেন। ভেতরে ঢুকে সে প্রথমেই এটিএসআই মামুনের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে মামুনকে কিলঘুষি দিতে থাকেন। পরে কনস্টেবল ইমরান ও বাশার এগিয়ে আসলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আড়াইহাজার থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গোপালদী ফাঁড়ি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এদিকে খবর পেয়ে জেলা পুলিশের (সি-সার্কেল) আশ্রাফউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অনেকই মনে করছেন, ২৯ মার্চের ঘটনায় আইনী ব্যবস্থা নিলে হয়তো আজকের এই ঘটনা ঘটানোর সাহস ছাত্রলীগ দেখাতো না। আগের ঘটনার মতো আজকেও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘ভুলবোঝাবুঝি ছিল’। কিন্তু এতো ভুলবোঝাবুঝি কেন বা শেষ কবে জানতে চাইলে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, এইবার শেষ। আর হবে না।

এদিকে দুপুরে ঘটে যাওয়ার ঘটনা ট্ক অব দ্যা ডিস্ট্রিক হয়ে যায়। সর্বত্রই পুলিশের মার খাওয়ার বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের ভাষ্য, ‘কেউ আইসা শাসায়ই যাইবো, আবার কেউ আইসা মাইরা দিয়া যাইবো, ব্যপার কী? ছাত্রলীগ কী পুলিশের চাইতেও বড়?’

কেউ কেউ বলছেন, জেলায় কঠোর হুশিয়ারী আর আলোচিত পুলিশ সুপার থাকতেও কী করে মার খাচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। এই প্রশ্নের উত্তরের কোন কুল কিনারা করতে পারছেন না কেউ।
সবাই প্রত্যাশা করছে আইনী ব্যবস্থায় অপরাধীদের আনা হবে। কেন না এখন বিষয়টি পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।

 

 

পূর্বের নিউজ পড়তে ক্লিক করুন-

আড়াইহাজারে পুলিশ পেটালো ছাত্রলীগ, আহত ৩

থানায় ঢুকে ছাত্রলীগ নেতার তাফালিং

0